বিনামূল্যে খাবার পাওয়া যায় যে হোটেলে!

  

পিএনএস ডেস্ক:টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র নিরালামোড়ে শহীদ মিনারের সামনে সাজানো হয়েছে খাবারের পসরা। প্রতি শুক্রবার দুপুর হলেই নানা জায়গা থেকে শহীদ মিনারের সামনে সুশৃংখলভাবে বসে পড়েন অতিথিরা। একবেলা ভাল খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন সবাই। দু’হাত তুলে দোয়া করেন।

শুক্রবার টাঙ্গাইলের প্রাণকেন্দ্র নিরালামোড়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক দরিদ্র, অসহায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা তৃপ্তির সঙ্গে খাচ্ছেন। আর স্বেচ্ছাসেবীরা প্রয়োজনমতো সবার খাবার তুলে দিচ্ছেন। সময়মতো পানিসহ অন্যান্য উপকরণও তুলে দিচ্ছেন। খাবারের জন্য কোন হুড়োহুড়ি বা কাড়াকাড়ি নেই। কারণ সবাই জানেন এখানে কাউকে না খেয়ে ফিরে যেতে হয় না। তাইতো জেলার গণ্ডি পেড়িয়ে “গরিবের হোটেল রবিনহুডের” নাম অন্য জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।

“গরীবের হোটেল রবিনহুড”র প্রতিষ্ঠাতা মির্জা মাসুদ রুবল। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। শহরে ‘নিরালা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ তার একটি ব্যবসায়ীক হোটেল রয়েছে। সেখান থেকে যা আয় হয় তার কিছু অংশ খরচ করেন এই বিনামূল্যের খাবার হোটেলে।

তিনি বলেন, আমার পূর্ব-পুরুষরা এক সময় অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্রদের জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তাদের নানামুখী কর্মকাণ্ড দেখে এসেছি। এক বেলা খাবার পেলে তাদের মুখে যে আনন্দের ঝিঁলিক ফুঁটে উঠে তা আমাকে আপ্লুত করে। তাইতো শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও এসব অসহায় মানুষকে ফেরাতে পারি না। তারা যখন পেট ভরে খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে সেটা দেখে আমার খুব ভাল লাগে। প্রায় আড়াই বছর ধরে এই বিনামূল্যে খাবার হোটেলটি চালাচ্ছি।

দিনমজুর সোবাহান বলেন, দৈনিক খেটে-খুটে যা আয় হয় শহরের হোটেলে খেতে গেলে তার অনেকটা চলে যায়। তাই এখানে এসে বিনামূল্যে খাবার পাওয়ায় সেই টাকাটা সাশ্রয় হয়। এতে করে পরিবারের মুখে বাড়তি কিছু তুলে দিতে পারি।

ভিক্ষুক আক্কাস আলী বলেন, রুবল ভাই খুবই ভাল মানুষ। তিনি আমাগো মতো গরিবের দুঃখ বুঝেন। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তির জন্য বিভিন্নভাবে দান-দক্ষিনা করে থাকেন। তার কথার সঙ্গে সুর মেলালেন আরো অনেকেই।

মির্জা মাসুদ রুবল আরো বলেন, দীর্ঘদিন এই বিনামূল্যের হোটেলে দুস্থরা প্রতিদিন দুপুরে এসে খেয়ে যেতো। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এখন সপ্তাহে শুধু শুক্রবার দুপুরে তাদের খাওয়াতে পারছি। ইচ্ছা আছে আল্লাহ সহায় হলে খুব শীঘ্রই আগের নিয়মে প্রতিদিন একবেলা করে তাদের মুখে খাবার তুলে দিবো।

তিনি জানান, হোটেলটি চালানোর জন্য কারো কাছে কখনো সাহায্য চাননি। তবে কেউ যদি স্ব-প্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসে তাহলে অবশ্যই তার সহযোগিতার হাত গ্রহণ করা হবে। দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেই আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেনি।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউপির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফা বলেন, রুবল যেটা করছেন নিঃসন্দেহে তা প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি এককভাবে বিনামূল্যের হোটেলটি এভাবে কতোদিন চালিয়ে যেতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় আছে। তাই রুবল ভাইয়ের মতো সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে এসে তাকে সহযোগিতা করা উচিৎ। অথবা নিজেদের অবস্থান থেকে দরিদ্রদের সেবায় আত্মনিয়োগ করা উচিৎ।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, যেসব দরিদ্র, অসহায় রোগী হাসপাতালে আসে তাদেরকে সরকারিভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয় আমাদের সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে। কিন্তু মির্জা মাসুদ রুবল এককভাবে যেটা করছেন তা অনেকের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হয়তো একদিন এই দেশ ভিক্ষুক ও চরম দারিদ্রতা মুক্ত সমৃদ্ধির বাংলাদেশ হবে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech