খালেদরা তো চুনোপুঁটি, নাটের গুরুদের ধরতে বাধা কোথায়

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর দায়ে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র্যা ব।তার বাসা থেকে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিন রাজধানীর বেশ কয়েকটি ক্যাসিনোয় অভিযান চালিয়ে ২০১ জনকে আটক, মাদকদ্রব্য ও টাকা উদ্ধার করা হয়।অভিযানটি অবশ্যই সাধুবাদযোগ্য। তবে নাটের গুরুরা যেন আড়ালে না থাকে।

রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশে অসংখ্য ক্যাসিনো রয়েছে। যেগুলোয় নিয়মিত অবৈধভাবে জুয়া, মদ, অশ্লীল নাচ-গানের আসর বসে। এগুলোর প্রতিটির সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা জড়িত। সব সময়ের ক্ষমতাসীনরা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় তারা এসব করে পার পেয়ে যায়।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেকেই এসব ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।

যখনই যেসব ব্যবসা ও কাজে কাঁচা পয়সার গন্ধ পাওয়া যায়, তখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণীর সদস্য ওইসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। গার্মেন্ট ব্যবসায় জড়িত এক পুলিশ কর্মকর্তা কবছর আগে রাজধানীর মিরপুরে আগুনে পুড়ে মারা যান। মাদক ব্যবসার সঙ্গে তারা যে যুক্ত কদিন আগে পুলিশের পাঁদ সদস্য স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তা জানায়।এর আগেও অনেক নজির আছে।

ঢাকার ‘গ্রামীণ’ নামক একশ্রেণীর ছোট গাড়ি চলত প্রথমে বনানীর কাকলী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত। এরপর এগুলো চলে নতুন বাজার থেকে সচিবালয় পর্যন্ত।এখন আর এগুলো নেই। যেগুলোর অধিকাংশের মালিক নাকি ছিল পুলিশ। সচিবালয়ে উত্তর পাশের ‘নিউ মোগল দরবার’ নামের একটি হোটেল আছে।পুরান ঢাকার এক বনেদি হোটল ব্যবসায়ী এটি চালাতেন।হালে এক পুলিশ নাকি এটিকে কব্জা করেছেন।

এককথায় যেখানে মাল-পানি ঢের, সেখানে ক্ষমতাসীনদের জড়িত থাকা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যুক্ত থাকার নজির মিলছে।আগে কিন্তু ক্ষমতাসীনদের প্রাধান্য থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা কেউ জানত না। ইদানীং ব্যাপারটা লেজেগোবরে হয়ে গেছে। যুবলীগ নেতাকে আটকের মধ্য দিয়ে এসব ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে নানা রকম প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে।

এক প্রতিক্রিয়ায় যুবলীগের সভাপতি বলছেন, এটা বিরাজনীতিকরণের নামান্তর। রসিকজনরা বলছেন, এতে নাকি তার আঁতে ঘা লেগেছে।আমজনতা বলাবলি করছেন, ওস্তাদদের না ধরে মধ্যম সারির একজনকে ধরা আইওয়াশ। তাদের মতে, যারা বাগানবাড়িকে হেরেম বানিয়ে নারী নিয়ে আমোদ-ফুর্তি করেন, জুয়ার আসর বসিয়ে কোটি টাকা উড়ান, অস্ত্র ও অর্থের পাহাড় গড়ে রাজার হালে আছেন, তাদের টিকিটি না ধরে ফরমায়েশ খাটা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াদের মতো চুনোপুঁটিদের আটক করে আসল কাজ হবে তো?

মূল কথা হলো, রাজধানী ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ আর রাজধানীর বাইরে বাগানবাড়িতে হেরেম বানিয়ে যারা নিয়মিত আসর বসান, সেখান থেকে এসব পরিচালনা করেন; তাদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রেখে যতই অভিযান চালানো এবং আটকের চেষ্টা করা হোক না কেন, নাটের গুরুদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত এসবকে আইওয়াশ বৈ অন্য কিছু মনে করেন না অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech