আবরার হত্যাকাণ্ডে ফেসবুক পেজে শোক জানাল ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকা

  


পিএনএস ডেস্ক: আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে শোক জানিয়েছে ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকা। সেই সঙ্গে বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকার প্রসঙ্গেও বলা হয়েছে ওই পোস্টে। আজ বুধবার ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ইউকে ইন বাংলাদেশ-এ পোস্টটি দেওয়া হয়।

পোস্টে লেখা হয়েছে, বুয়েটে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আমরা বিস্মিত ও মর্মাহত। যুক্তরাজ্য বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রসঙ্গে নিঃশর্তভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের একটি কক্ষে শিবিরের কর্মী অভিযোগ তুলে আবরারকে পিটিয়ে মারা হয়। ফাহাদ তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনার পর বুয়েটের শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের জড়িত নেতাকর্মীদের বিচার চেয়ে আন্দোলন শুরু করেন। দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে এই ক্ষমতাসীন দলের ছত্র সংগঠনকে নিয়ে।

এ ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করায় এ হত্যাকাণ্ড। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ চলছে। ন্যায়বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছেন এবং শিক্ষকরাও যোগ দিয়েছেন সেই বিক্ষোভে।

এএফপির ওই প্রতিবেদনে ঢাকার উপপুলিশ কমিশনার মুন্তাসিরুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছাত্রলীগের নেতাদের হাজতে নেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে তার মরদেহ পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলেঅতে উঠে এসেছে, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন করেছেন।

এএফপির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকজন সদস্য হত্যা, সহিংসতা ও লুটতরাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগ কুখ্যাতি অর্জন করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে আবরার ফাহাদ প্রশ্ন তুলেছিলেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।

আবরারের বন্ধুর বরাত দিয়ে আরো বলা হয়, আবরার ফাহাদকে একটি কক্ষে আটকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময় ভারত ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পোস্ট দেয়ায় তিনি শিবিরের সঙ্গে যুক্ত কিনা, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রলীগের কর্মীরা বুয়েটের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার পর ঢাকা ও রাজশাহীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেছেন।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন