ভারত-নেপাল -ভুটানকে বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব: কী পরিকল্পনা সরকারের?

  

পিএনএস ডেস্ক : বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল এবং ভুটানকে বাংলাদেশের দুইটি বিমানবন্দর ব্যাবহার করার প্রস্তাব দিয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে সৈয়দপুর বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হলেও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এখনো অভ্যন্তরীণ বিমান উঠানামা করে।

সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে বুধবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন "আমি বহু আগেই ভুটান এবং নেপালকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি যে নেপাল ভুটান যদি চায় তাহলে আমাদের সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট ব্যবহার করতে পারে এবং ভারতের ঐ অঞ্চলে সীমান্তে যে প্রদেশগুলো তারাও এই এয়ারপোর্ট ব্যবহার করতে পারে"।

তিনি আরো বলেন "চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবহারের জন্য আমি ভারতের ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে প্রস্তাব করেছি"।

এই দুই বিমানবন্দর প্রস্তুত করতে সরকার কীভাবে কাজ করছে? এমন প্রশ্নে সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক বলছিলেন এই সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর হিসেবে তৈরি করার জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলছিলেন " আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিণত করার জন্য যে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে সেই জমির পরিমাণ ৯১২একর। দুটি জেলাতে জমিটা পরছে, সৈয়দপুর এবং দিনাজপুর। এছাড়াও এই এয়ারপোর্টের জন্য নকশা করা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরটা যাতে হাব হিসেবে পরিণত হয় সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি"

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের কাজ সম্পূর্ণ হতে ৪ বছর সময় লাগবে বলে তিনি জানান।

এবং এনিয়ে ভারতের সাথে চুক্তি হয়েছে এবং তারাই এই বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ করবে বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর অনেক আগে থেকেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তবে এর মান উন্নত করার জন্য রানওয়েকে আরো শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

এই দুই বিমানবন্দরকে প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভিসা সংক্রান্ত কোন জটিলতাও হবে না বলে জানাচ্ছেন মি. হক।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিসা ছাড়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে এয়ারসাইট ট্রান্সফার পদ্ধতি হতে পারে। কিংবা পরে এ বিষয় নীতিমালা আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এইসব বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং ব্যবসা বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটা সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশের একজন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থানটা কৌশলগত।মি. আলম বলছিলেন দুই ভাবে বাংলাদেশ এখানে সুবিধা লাভ করতে পারে।

"যখন কোন প্লেন ল্যান্ড করে তখন এর ন্যাভিগেশন, হ্যান্ডলিং, পার্কিং এই সব কিছুর জন্য মূল্য দিতে হয়। তারপর যদি যাত্রীদের এখানে থাকতে হয় সেই ক্ষেত্রে আবাসনের ব্যবস্থা হবে, সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাবে, একটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বিমানবন্দর ঘিরে"।

"গত ৫ বছরে সৈয়দপুরে নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে। নেপালের সাথে 'বর্ডার রিজিয়নের' কারণে সৈয়দপুরও আস্তে আস্তে ইন্টারন্যাশনাল হাব হওয়ার সুযোগ হয়েছে" বলছিলেন তিনি।

এদিকে ভারতের ত্রিপুরার এগ্রিকালচার, ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট বিষয়ক মন্ত্রী প্রনজিত সিংহরায় এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে ভিসার বিষয়ে জটিলতা তৈরি হবে না বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলছিলেন "এই রাজ্যের সাথে টোটাল কমিউনিকেশনের ব্যাপারে অনেক অনুরোধ আমাদের ছিল। এখন চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবহার করার অনুমতি তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) দিচ্ছেন সেটাতে অবশ্যই আমদের রাজ্যের মানুষ আমরা উপকৃত হব"।

দ্বিতীয়ত, ভিসার ব্যাপারটা আছে। এটাতো উনি মাত্র বলেছেন, এটা ভারত সরকারে পক্ষ থেকে কোন বাধা হবে না বলে মনে হয়" বলছিলেন তিনি।

পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech