তিন উদ্দেশ্যে হলি আর্টিজানে হামলা চালায় নব্য জেএমবি

  

পিএনএস ডেস্ক : হলি আর্টিজানে তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে হামলা করে নব্য জেএমবির সদস্যরা। প্রথমত কূটনৈতিক এলাকায় নিজেদের সামর্থ জানান দেওয়া। দুই, দেশি-বিদেশিদের হত্যার মাধ্যমে নৃশংসতার প্রকাশ ঘটানো। তিন. দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে জেএমবির প্রচার ঘটানো।

আজ সোমবার ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর।

গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের ট্রাইব্যুনালে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর সাক্ষ্য দেন। তাকে জেরা শুরু করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। কিন্তু জেরা শেষ না হওয়ায় বিচারক মো. মজিবুর রহমান আগামী ২৪ অক্টোবর পরবর্তী জেরার দিন ধার্য করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিতে গিয়ে মামলার ঘটনা, এজাহারে বর্নিত ঘটনা ও বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন। এর আগে ১১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সোমবার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, হলি আর্টিজেন মামলার প্রত্যক্ষ হামলাকারী নিবরাজ ইসলাম ও মীর সামেহ মোবাশ্বেরসহ অন্যরা প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ঝিনাইদহ জেলার হামদহ বাসস্ট্যান্ড সোনালী পাড়ার সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কাউসারের মেসে অবস্থান করেছিলেন হলি আর্টিজানে হামলার আগে। সেখানে গিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, হামলার প্রধান সমন্বয়ক তামিম আহমেদ চৌধুরী, সহ সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম মারজান, সমন্বয়ক ও পরিকল্পনাকারী সারোয়ার জাহান মানিক। ২০১৬ সালের ১ জুলাই হামলার পূর্বেই তারা সকল পরিকল্পনা নেন। এই ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে কাউন্টার টেরিজম ইউনিট চিহ্নিত করে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও গুপ্তচর নিয়োগ করে অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, হলি আর্টিজেন হামলার জন্য তানভীর কাদেরী তার প্রাইভেটকার বিক্রি করে ১২ লাখ ৫০ হাজার ও আসলাম হোসেন রাশ ৪০ হাজার টাকা দেয়।

এই হামলার ২১ জনকে শনাক্ত করা হয়। তার মধ্যে ৫ জন জঙ্গিসহ বিভিন্ন সময়ে মোট ১৩ জন নিহত হয়েছে। বাকি ৮ জনকে এখন কারাগারে রাখা হয়েছে। যারা সবাই সোমবার আদালতে উপস্থিত ছিল।

গত বছর ২৬ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহতম জঙ্গি হামলার মামলার বিচার শুরু হয়। এর আগে গত বছর ২৩ জুলাই এই মামলায় আট জীবিত জঙ্গিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে নয়টার সময় হলি আর্টিজান বেকারিতে অতর্কিতে আক্রমন করে পাঁচ জঙ্গি। তারা ভেতরে থাকা সবাইকে জিম্মি করে। একে একে গুলি চালিয়ে, কুপিয়ে ১৭ বিদেশি ও তিনজন বাংলাদেশিকে হত্যা করে। সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালাতে যায় র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।

অভিযানকারীদের দিকে বোমা হামলা চালায় ওই পাঁচ জঙ্গি। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। আহত হন র‌্যাব-১ এর তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মাসুদ, পুলিশের গুলশান অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আবদুল আহাদসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech