মহাবিপদ সংকেতকে সতর্ক ও সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল।এর প্রভাবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর, চট্টগ্রামকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যার পর বাগেরহাটে আঘাত হানতে পারে।এ অবস্থায় অধিক সতর্ক থাকার বিকল্প নেই। নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে। অবস্থান নিতে হবে স্থানীয় সাইক্লোন শেল্টারে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আজ সকাল থেকে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সঙ্গে বইছে ঝড়ো হাওয়া। ভারতের গণমাধ্যম বলছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল গতি পরিবর্তন করেনি। ফলে আমাদের জন্য অধিক আশঙ্কার কারণ রয়েছে। আমাদের উপকূলীয় এলাকায় সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়টি প্রথমে সুন্দরবনে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। এরপর এটির বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা, পিরোজপুর, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং এর আশপাশের চরে আঘাত হানতে পারে। প্রবল ঝড়ের পাশাপাশি প্রবল বৃষ্টি ও পাঁচ থেকে সাত ফিট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।

বেশি আশঙ্কার ব্যাপার হলো, সন্ধ্যার পর উপকূলজুড়ে জোয়ার হতে পারে। এতে জলোচ্ছ্বাসের গতি বৃদ্ধি পেতে পারে। বৃষ্টি-জোয়ার আর জলোচ্ছ্বাসের ফলে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আতঙ্কে রয়েছে এসব এলাকার বেড়িবাঁধের মধ্যে থাকা সর্বস্তরের মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব বেড়ি বাঁধ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।

ভয়াবহ ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ১০ নম্বর মহাবিপদ সংস্কৃত পাওয়ার পর দেশের সচেতন জনগোষ্ঠী এ নিয়ে যারপরনাই চিন্তিত ও শঙ্কিত। দেশের গণমাধ্যমগুলো এ বাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণকে নিরাপদে আশ্রয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। সাইক্লোন শেল্টারগুলো খুলে দিয়ে সেখানে লোকজনকে নেওয়া হচ্ছে। এতে জীবনহানি কমতে পারে।

আকস্মিক এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিক ও গতি পরিবর্তন না করলে সম্পদহানি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে আসন্ন রবি ও শীতকালীন শাকসবজির ক্ষতি বেশি হতে পারে। গবাদিপশুরও ক্ষতি হতে পারে। এতে পল্ট্রিফার্ম, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশুর নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটে বেশি। এগুলোকে সাইক্লোন শেল্টারে রাখা গেলে কিছুটা রক্ষা পেত।

ইতিমধ্যে সেন্টসমার্টিনে সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের জন্য স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উপকূলীয় এলাকার মানুষ শুকনো খাবারসহ সাইক্লোন শেল্টারগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও এসব আশ্রয় কেন্দ্রে খাবার পাঠাচ্ছে। প্রতিটি জেলার জন্য ২ হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট ও ৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আমরা আশা করব, আমাদের আশঙ্কাগুলো মিথ্যা প্রমাণ করে ঘূর্ণিঝড় ফনির মতো বুলবুলও দুর্বল হয়ে গতি পবির্তন করে অন্যদিকে চলে যাবে। আর যদি আঘাত হানে, তাহলে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে দলমত নির্বিশেষে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও দাতব্য সংস্থাগ্রলো আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত হবে।তবেই সহজে আক্রান্তরা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech