‘বুলবুল’র তাণ্ডবে ৫ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

  

পিএনএস ডেস্ক : সরকারি হিসেবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র তাণ্ডবে উপকূলীয় অঞ্চলের চার থেকে পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া গাছ চাপা পরে দুইজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন।

রোববার (১০ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

এদিকে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে খুলনার কয়রা ও দাকোপ উপজেলায় প্রায় দুই হাজার ২৬৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে পাঁচ শতাধিক পুকুর ও মাছের ঘের। এছাড়া ভোলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘর-বাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছ-পালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায় বিধ্বস্ত হয়েছে অর্ধশতাধিক ঘর। আহত হয়েছেন ১৫ জন।

ঘূর্ণিঝড়ে এখন পর্যন্ত তিন জেলায় পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে খুলনায় ২ জন এবং সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালিতে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

নিহতরা হলেন- পটুয়াখালীর মির্জাগ‌ঞ্জের উত্তর রামপুরা গ্রা‌মের হামেদ ফকির (৬৫), খুলনার দাকোপ উপজেলার দক্ষিণ দাকোপ গ্রামের প্রমিলা মন্ডল (৫২), খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামের আলমগীর হোসেন (৩৫), বরগুনার সদর উপজেলার বানাই গ্রামের হালিমা খাতুন (৬৫)। এছাড়া সাতক্ষীরার গাবুরায় আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

এদিকে উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ক্রমশ দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সন্ধ্যা নাগাদ বুলবুলের প্রভাবমুক্ত হবে সারাদেশ। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে সাতক্ষীরা এবং বাগেরহাট অঞ্চলে অবস্থান করছে। এটি তার অবস্থান থেকে ক্রমান্বয়ে উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে মাদারীপুর, ফরিদপুর, ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। তারপর ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলের দিকে যেতে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন