আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরছে মানুষ

  

পিএনএস ডেস্ক : প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ একেবারে দুর্বল হয়ে গেছে। উপকূলীয় এলাকা থেকে মহাবিপৎসংকেত তুলে নিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বুলবুলের রেশ আছে। এই রেশ আরও দুই দিন থাকবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী দুই দিন বৃষ্টি হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

এমতাবস্থায় উপকূলীয় এলাকার মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরতে বাধা নেই। রোববার সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মহসীন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আমরা সব ধরনের বিধি-নিষেধ তুলে নিয়েছি, মানুষের বাড়ি ফিরতে আর কোনো বাধা নেই।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষকে বাড়ি ফিরতে সহায়তা করতে স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় প্রশাসন।

ভয়াবহ রূপ নিয়ে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এতে এখন পর্যন্ত আটজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ৩০ জনের বেশি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে পাঁচ জেলায় আট জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পাঁচ জেলায় নিহত আট জনের মধ্যে পরিচয় মিলেছে চার জনের।

ঝড়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে খুলনায় দুজন, বাগেরহাটে একজন এবং পটুয়াখালীতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বরগুনায় আশ্রয়কেন্দ্রে এবং সাতক্ষীরায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচ হাজারের বেশি বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্র। ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রোববার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান ঘূর্ণিঝড় বুলবুল পরবর্তী সার্বিক অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, বুলবুলের কারণে পাঁচ হাজার ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে তাদের পুনর্বাসন করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা শুনতে পারলাম গড়ে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ৪০ থেকে ৯০ কিলোমিটার, এটা খুবই কম। যার ফলে ক্ষয়ক্ষতি এবার সেই রকম কিছু হয়নি।

এনামুর রহমান বলেন, ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে আমরা সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলাম। ৫ হাজার ৫৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ লাখ ৬ হাজার ৯১৮ জনকে আমরা সফলভাবে সরিয়ে নিতে পেরেছি। নিরাপত্তা দিতে পেরেছি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই পর্যন্ত হতাহতের খবর খুব বেশি পাওয়া যায়নি। আমরা অফিসিয়ালি ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছি। সংবাদ মাধ্যমে আটজনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। আর ৩০ জনের মতো আহত হয়েছে। চার থেকে ৫ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এটাই ছিল আমাদের ক্ষয়ক্ষতির খবর।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন