সীমান্তে কাঁটাতারের ডাবল বেড়া নির্মাণ সময়ের দাবি

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : আশা জাগানিয়া একটি বক্তব্য রেখেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জান খান কামাল। তিনি বলেছেন, আসাম থেকে বিভিন্নভাবে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশী ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে তিনি ঘোষণা দেন। খুবই ভালো কথা। এদিকে রাজশাহী সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে বিএসএফ চৌকি স্থান করেছে। এ ব্যাপারে সরকার তথা তার কাছ থেকে যৌক্তিক কড়া প্রতিবাদ প্রত্যাশা ছিল দেশপ্রেমিক নাগরিকদের। এ ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের রহস্যজনক নীরবতা দেশপ্রেমিক নাগরিকদের যারপরনাই হতাশ করছে।

বিজয়ের মাসের ২ ডিসেম্বরের আতঙ্কজনক খবর ছিল রাজশাহী সীমান্তবর্তী নো-ম্যানস ল্যান্ডের পাশে জেগে ওঠা চরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি অস্থায়ী চৌকি স্থাপন নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিজিবির কোম্পানি পর্যায় থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হলেও বিএসএফ তা গ্রহণ করেনি। চরটি বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘদিন থেকে তারা ওই এলাকায় চাষাবাদ করে আসছেন। ২৯ নভেম্বর রাতে গোদাগাড়ী উপজেলার সাহেবনগর সীমান্তে বিএসএফ চৌকিটি স্থাপন করে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর ১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে ডেলটা কোম্পানির কমান্ডার নায়েব সুবেদার শওকত আলী সাংবাদিকদের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে নিজ নিজ সীমানার ১৫০ মিটার ভেতরে চৌকি করতে হবে। কিন্তু বিএসএফ জিরো লাইনের ৭০ মিটারের ভেতরে চৌকি বসিয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ বার্তা পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বিজিবির রাজশাহী ব্যাটালিয়ন সদর কমান্ডার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ভারত আমাদের নিকট প্রতিবেশী। বাংলাদেশের তিনদিকে দেশটির অবস্থান। আরেকদিকে বঙ্গোপসাগর। ভৌগোলের দিকে তাকালে মনে হবে ভারতের পেটের ভেতরে আমাদের দেশটি। কিন্তু এ দেশটির যে আলাদা একটি স্বতন্ত্র পরিচয়, পতাকা ও ভূখণ্ড আছে, সেটা যেন ভুলে যায় আমাদের প্রতিবেশী দেশটি। আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদান রাখার সুবাদে তারা আর কত আমাদের শোষণ করবে? এ প্রশ্ন দেশপ্রেমিক নাগরিকদের।

ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও বাহুবলের একটা মাত্রা ও সীমা আছে। মাঝমধ্যে তারা এসব মাত্রাজ্ঞান বেমালুম ভুলে যায় যেন। দাদাগিরি আর কত? স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বর্বর পাকিস্তানীদের পতন ঘটলে তাদের ফেলে যাওয়া মূল্যবান অস্ত্রশস্ত্র থেকে শুরু করে সর্বোপরি ঘটিবাটি ও বাথরুমের বদনা পর্যন্ত নাকি গনিমতের মালের মতো কুড়িয়ে নেয়। এর যৌক্তিক প্রতিবাদ করতে গিয়ে মেজর জলিল তার সেক্টর কমান্ডারের পদবী হারান। আর এ জন্যই নাকি হন কারাবন্দি। এসব কথা বাজারে চালু আছে।

কদিন আগে পানি আনতে গিয়ে দায়বোধ থেকে উল্টো পানি দিয়ে এসেছি আমরা। এর আগে আমাদের চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের টাকায় তাদের জন্য সড়ক করে দিয়েছি আমাদের বুকের উপর ট্রানজিট দিয়ে। এতে তাদের ১০ ঘণ্টার পথ ১০ মিনিটে পার হওয়া সহজ হয়। আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ওয়াস টাওয়ার দেওয়াও সময়ের ব্যাপার। পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অস্ত্র ও আশ্রয়-প্রশ্রয় কারা দিয়েছিল, তা জানা সত্ত্বেও আমরা দিয়েই যাচ্ছি। বিনিময়ে কী পেলাম? আগাম ঘোষণা না দিয়ে হঠাৎ পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে বন্ধুত্বের কী নমুনা না তারা দেখায়!

ভারতজুড়ে এনআরসির নামে মূলত মুসলমান খেদাও কার্যক্রম চলছে ভারতজুড়ে। মূলত তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত। এ নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি কী। সরকার পর্যায়ে সৌহার্য্দপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলা হলেও কাজেকর্মে এর নজির মিলছে না। মিল নেই কথা-কাজের মধ্যেও। এর পরও আমরা একতরফাভাবে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আর কত! স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতার বিনিময়ে আর কত চায় তারা। প্রবীণ রাজনীতিকদের মতে, দেশটা নাকি করদরাজ্যে পরিণত করার দ্বারপ্রান্তে।

আসাম থেকে আসা কেউ যেন বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, সে জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সময়োপযোগী নির্দেশনা দিয়েছেন। এ জন্য তাকে ধন্যবাদ। আসামের মতো অন্য রাজ্যগুলোসহ ভারতব্যাপী এনআরসি কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এভাবে স্বদেশে নাগরিত্বহীনদের বিশেষ করে মুসলমানদের পরবাসে পাঠানোর অপচেষ্টা এটা। পরিশেষে যাদের অবস্থা হবে অনেকটা রোহিঙ্গাদের মতো। এসব জনস্রোত ঠেকাতে সীমান্তে কেবল নজরদারি বাড়ানো নয়, ডাবল কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ অবশ্য কর্তব্য। যত দ্রুত এটা কারা যাবে, তত দ্রুতই সুফল মিলবে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আমরা মানবতার পরিচয় দিয়েছি। যা এখন গলার কাঁটায় পরিণত হওয়ার উপক্রম। তাদের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে না রেখে আরো ভেতরে আনার চেষ্টা চলছে। এটা শুভ লক্ষণ নয়। তাদের নো-ম্যান্সল্যান্ডে রাখারই অধিক যুক্তিযুক্ত। এর পাশাপাশি ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের ডাবল বেড়া নির্মাণের যৌক্তিক কাজটা জরুরি ভিত্তিতে হাতে নিতে হবে। এ কাজ আগাম করা হলে যে সুফল মিলবে, তা কল্পনারও অতীত। তাই অসময়ের দশ ফোঁড়ের চেয়ে সময়ের এক ফোঁড় যে অধিক কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়, কেনা জানে।এ উত্তম কাজটা সফলভাবে কার্যকরের দাবি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশপ্রেমিকদের।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech