জনগণের পাশে দাঁড়াতে সেনাবাহিনীর প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

  



পিএনএস ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনকালে আপনাদের জনস্বার্থ ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

মঙ্গলবার যশোর সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের ষষ্ঠ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আবদুল হামিদ এ কথা বলেন।

রাষ্ট্র ও সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি সেনাবাহিনীর প্রতি জাতীয় নিরাপত্তার দিকটি দেখার পাশাপাশি জনগণের সুখ-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদুল হামিদ সেনাবাহিনীর জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধাচার কৌশল যথাযথভাবে প্রতিপালন এবং সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে রাষ্ট্রের সকল ব্যয় নির্বাহ এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিচালিত হয়।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের সদস্যরা যুদ্ধকালে বিভিন্ন যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য দায়িত্ব পালন করে।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিশেষ করে সিগন্যাল কোরের সদস্যরা তাদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন বলে রাষ্ট্রপ্রধান আশা প্রকাশ করেন।

আধুনিক যুদ্ধকৌশলের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত যোগাযোগ সরঞ্জামাদির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে অগ্রাধিকার প্রদান করছে।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের মানুষ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে কার্যকরভাবে এর সুবিধা উপভোগ করতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আওতায় সেনাবাহিনীতে সাইবার ওয়ারফেয়ার গ্রুপ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট ও স্ট্যাটেজিক ট্রান্সমিশন ইউনিট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর সমরশক্তি ও যোগাযোগ সক্ষমতা আরও সুসংহত করবে।

দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের বহুবিধ কার্যক্রমের উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিগন্যাল কোরের সদস্যরা সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

রাষ্ট্রপতি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার তালিকা প্রস্তুত, গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বিদেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।

সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরকে গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশীদার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই বাহিনীর সদস্যরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেশ ও দেশের জনগণকে রক্ষা করেছে।

সশস্ত্রবাহিনী ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশা প্যকাশ করেন।

যশোর সেনানিবাসের শহীদ ক্যাপ্টেন আব্দুল হামিদ প্যারেড গ্রাউন্ডের কুচকাওযাজে রাষ্ট্রপতি সালাম গ্রহণ করেন এবং প্যারেড পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভুইয়া, শেখ অফিল উদ্দিন এমপি, মেজর জেনারেল (অব.) ড. নাসির উদ্দিন এমপি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, কূটনীতিকবৃন্দ, সিগন্যাল কোরের সাবেক ও বর্তমান কর্মকতা, রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিব উপস্থিত ছিলেন।

পিএনএস/ হাফিজ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech