খালেদা তো ভালো, রাজার হালেই আছেন: প্রধানমন্ত্রী

  

পিএনএস ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে ভালো আছেন এবং রাজার হালে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার তার প্রতি কোনো প্রতিহিংসা দেখাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার এই অসুস্থতা আগে থেকেই। বিভিন্ন সময় তাকে হুইল চেয়ারে চলাচল করতে দেখা গেছে।

বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রায় তিন বছর পর এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আগামীকার বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়া জামিন পাবেন কি না এ ব্যাপারে উচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত জানাবে। এর একদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তার ব্যাপারে বলেন, ‘খালেদা জিয়া যে জেলে আছে, সেতো ভালো, রাজার হালেই আছে। জেলখানা থেকে এখন হাসপাতালে। তার জন্য আবার মেইড সার্ভেন্ট দেয়া হয়েছে। মানুষ এমনিতে কাজের বুয়া পায় না। আর খালেদা জিয়ার জন্য স্বেচ্ছায় একজন কারাবরণ করছে, তার সেবা করার জন্য। এতটুকু সুবিধা তাকে দেয়া হয়েছে।’

বিএনপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমাদের ভেতরে কোনো প্রতিহিংসাপরায়ণতা নেই। কিন্তু পৃথিবীর কোন দেশে এই দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবে জেলে সাজাপ্রাপ্ত আসামির সেবার জন্য কোনো কাজের বুয়া যায়। সেটাও কিন্তু সে পাচ্ছে। তার অসুস্থতা, সেটাতো পুরানো। ৯১ সালে সরকারে এসে তার নিরিপলেস করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে অপারেশন করা হয়।’

‘বিদেশে যাওয়ার পরে সে যখন শপিং করে তখন হুইল চেয়ারে শপিং করতো, ফালু ঠেলতো আর সে গিয়ে শপিং করতো। সে যখন হজ করে সেখানেও ফালু হুইল চেয়ার ঠেলে সে হজ করে। হুইলে চেয়ারে বসা সেটা নতুন কিছু হয়। এটাতো বহু যুগ ধরে দেখে আসছি।’

খালেদাকে সন্ত্রাসের গডমাদার আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে। সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আমাদের অব্যাহত রেখেছি। এই সন্ত্রাসের গডমাদারই হচ্ছে খালেদা জিয়া। সে এই বাংলা ভাই সৃষ্টি থেকে শুরু করে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরে ফেলা, এর চেয়ে বড় সন্ত্রাসী কাজতো হয় না। জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা এর চেয়ে বড় সন্ত্রাসী কাজ আর কী হতে পারে? ঠান্ডা মাথায় হরতাল অবরোধ ডেকে, যে অবরোধ এখন তিনি তুলেননি।’

‘মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণেই বিএনপি সিট পায়নি’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচন, যে নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা বলতে চায় বিএনপি, এটা তারা ভুলে যায় যে, এক-একটা সিটের পেছনে তারা দুই-তিনজনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। যে যখন যার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে তাকেই মনোনয়ন দিচ্ছে। একভাগ দিতে হয়েছে লন্ডনে আর দুই ভাগ দিতে হয়েছে বাংলাদেশে। গুলশানের অফিসকেও সন্তুষ্ট করতে হয়েছে, পল্টনের অফিসকেও। যে টাকা দিতে পারছে না সে মনোনয়ন পাচ্ছে না। একজন মনোনয়ন জমার দেয়ার দুই তিন ঘণ্টা পরে আরেকজন জমা দেয়। একটা সিটের জন্য দুই তিনজনে যারা মনোনয়ন দেয় তারা নির্বাচনে জেতার জন্য না। মনে হয় এটাকে একটা বাণিজ্য হিসেবে নিয়েছিল তারা।’

‘আসলে আন্তর্জাতিকভাবে যে সার্ভেটা হয়েছিল তাতে সবাই দেখতে পেয়েছিল যে বিএনপি সিট পাবে না, সেই জন্য নির্বাচনটাকে তারা ব্যবসা বাণিজ্য হিসেবে নিয়ে নেয়। সেখানে সিট না পেয়ে অন্যদের দোষারোপ দেয়ার কোনো মানে হয় না।’

‘আওয়ামী লীগ এলেই দেশের উন্নতি হয়’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার পরেই দেশের উন্নতি হচ্ছে। এটাকে অনেকেই কিছু বলতে পারে। এই এটা করেছে, ও এনজিও করেছে, অনেকেই অনেক কিছু করেছেন, তার জন্য দেশ উন্নতি হয়েছে। তাই যদি হতো দারিদ্র্য হার কমেনি কেন? প্রবৃদ্ধির হার বাড়েনি কেন? আর্তসামাজিক উন্নতি হয়নি কেন? একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশের উন্নতি হয়েছে। আজকে আমরা ৮ দশমিক ১৩ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই যে এতগুলো টেলিভিশন সেটা কে দিয়েছে? এতে বেসরকারি খাত উন্মুক্ত করেছে সেটা কে করেছে? এগুলো আমাদের সরকার করেছে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীনতো করেনি। আমি যখনই প্রধানমন্ত্রী হয়েছি তখনই বেসরকারি টেলিভিশন উন্মুক্ত করে দিয়েছি৷ এটা শুধু টেলিভিশন না, এর মাধ্যমে কত লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আর টক শোতে গিয়ে টক মিষ্টি কথা বলার কত মানুষ পাচ্ছে৷ টক টক কথাতো বলেই যাচ্ছে। এই দৃশ্যতো আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। এই যে মানুষের কথা বলার সুযোগ, এত কথা বলতে সুযোগ দেয়ার পরেও, অত কথা বলা পরেও বলবে এই সরকার আমলে আমাদের কথা বলার অধিকার নাই। বলে যাচ্ছে কিন্তু। তারপরেও পরচর্চা করবে। আসলেই এই ধরনের পরচর্চা এক ধরনের অভ্যাস।’

‘অনেক পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যে দেশ কোথায় নিয়ে যাবো। ২০১৪১ সালের মধ্যে দেশ উন্নত সমৃদ্ধ হবে। ২১০০ সাল পর্যন্ত আমরা একটা ছক তৈরি করার পরিকল্পনা আমরা নিয়ে নিয়েছি। তারই ভিত্তিতে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করবো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে আমরা সন্মান নিয়ে মাথা উঁচু করে বিশ্বে চলতে পারি সেটা আমরা অর্জন করতে পেরেছি, সেটা ধরে রাখতে হবে। ঘুষখোর, সুদখোর, এতিমের অর্থ চুরি করা, মানিলন্ডারিং, গ্রেনেড হামলাকারী, বোমা হামলাকারী, আগুনে পুড়িয়ে মারা অগ্নিসন্ত্রাসী এরা যেন এদেশের আর কোনোদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসতে পারে, দেশকে ধ্বংসের দিকে নিতে না পারে জাতির কাছে সেটাই আমার আহ্বান।’

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech