এক শীর্ষ কর্মকর্তার জন্য ১২ রাশিয়ান তরুণীকে ঢাকায় আনেন পাপিয়া

  

পিএনএস ডেস্ক: নরসিংদী যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নুর পাপিয়া ওরফে পিউ’র ঘনিষ্ঠদের তালিকা করছে র‌্যাব ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পাপিয়ার সঙ্গে কার কার যোগাযোগ ছিল, কারা তার ‘রংমহলে’ আসা-যাওয়া করতেন তারও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এতে পাপিয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ও ঘনিষ্ঠদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীর মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে অনেক পিলে চমকানো তথ্য। বেরিয়ে আসছে অনেকের নাম। তদন্তে উঠে আসছে, অনেক প্রভাবশালীর সঙ্গে পিউর বিশেষ সম্পর্ক এবং ব্যবসার বিষয়টিও। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাপিয়া ওরফে পিউ জিজ্ঞাসাবাদে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, এক শীর্ষ কর্মকর্তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল ওয়েস্টিনে। নিয়মিত সকালের নাশতা ও মধ্য রাত পর্যন্ত তিনি থাকতেন ওয়েস্টিনে। পাপিয়া বেশ কিছু দিন আগে রাশিয়া থেকে ১২ নারীকে ঢাকায় এনেছিলেন। যাদের বিমানবন্দরে আটকে দেয়া হয়। কিন্তু ওই শীর্ষ কর্মকর্তা তাদের ছেড়ে দেন। তিনি নিয়মিত পাপিয়ার মাধ্যমে বেশ কয়েকজন সরকারদলীয় নেতা, কয়েকজন মন্ত্রীকে নারী সরবরাহ করতেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে অবস্থান করে সুন্দরী যুবতীদের দিয়ে পাপিয়া পরিচালনা করতেন অবৈধ দেহব্যবসা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া ও তার স্বামী অনেক অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। কারো মাধ্যমে কোনো কাজ হাসিল করতে চাইলে সুন্দরী যুবতীদের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে পাপিয়া কৌশলে তার ডেরায় নিয়ে আসতেন। পরে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ক্লিপসের ভয় দেখিয়ে টার্গেট পূরণ করতেন তিনি। মানসম্মানের ভয়ে ওই ব্যক্তিরাও পাপিয়ার নির্দেশের বাইরে যাওয়ার সাহস দেখাতেন না।

এরই মধ্যে পাপিয়া-সুমন দম্পতি তাদের ব্যবসার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছেন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও। উদ্ধার করা হয়েছে শতাধিক ভিডিও ক্লিপসের একটি টিকটক ভিডিও। ওই ক্লিপসে দেখা যায়, পিস্তল হাতে পাপিয়া এক যুবককে টার্গেটে রেখে গুলি করার অভিনয় করছেন। এ ছাড়া তার অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির ভিডিও রয়েছে, যা তদন্ত কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন। হোটেল ওয়েস্টিনের সুইমিংপুলে ৫ যুবতী নিয়ে পাপিয়ার জলকেলি দেখা গেছে একটি ভিডিও ক্লিপে। এসব কিছুই খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

একাধিক সূত্র বলছে, পাপিয়াকে নিয়ে অনেক রাজনৈতিক নেতার ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কারণ, পাপিয়াকে কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, কারা বিভিন্ন কমিটিতে বড় পদ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছেন এবং কারা পাপিয়ার কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন এর সব তথ্য এখন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে। কীভাবে পাপিয়ার উত্থান হয়েছে সে বিষয়টি নিয়েও তদন্ত চলছে। তবে এরই মধ্যে পাপিয়া অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের নাম বলেছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন সাধারণ পরিবারের সন্তান হলেও দুজনের মধ্যেই কিছুটা উচ্ছৃঙ্খল মনোভাব ছিল। পাপিয়ার রাজনৈতিক পদচারণার পেছনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতারই হাত ছিল। ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করে তার কাছ থেকে অনেকেই ফায়দা লুটেছেন। আর পাপিয়াও লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সবার ‘চাহিদা’ পূরণ করেছেন। বেপরোয়া আচরণের জন্য তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল একটি মহল। এজন্য তার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও ঘটেছিল।

ব্যবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে অনেক বড় বড় নেতা, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে পাপিয়ার। প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের বশে আনার জন্য পাপিয়া ‘এসকট সার্ভিসের’ ব্যবসা শুরু করেন। এজন্য ঢাকা ও ঢাকার বাইরের গরিব ঘরের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণীদের চাকরি দেওয়ার নাম করে এনে জোরপূর্বক ‘অনৈতিক কাজে’ বাধ্য করতেন। তদবির বাণিজ্য হাসিলের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে কমবয়সী তরুণীদের পাঠিয়ে দিতেন তিনি। এভাবে অল্প দিনেই তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান।

পিএনএস/হাফিজ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন