ফের বাড়ছে লকডাউন ও সাধারণ ছুটি!

  

পিএনএস ডেস্ক: যত দিন যাচ্ছে করোনা পরিস্থিতি আরও শঙ্কটাপন্ন হচ্ছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল। বৈশ্বিক বাস্তবতায়ও বাংলাদেশও যেন করোনার ছোবলে নীল হয়ে উঠেছে। গোটা দেশে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঝুলছে তালা। মাসের পর মাস এভাবে সবকিছু বন্ধ থাকায় দেশের অর্থনীতিতে স্থবির দশা নেমে আসতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় লকডাউন ও সাধারণ ছুটি নিয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়- তা হয়তো এ সপ্তাহেই জানা যাবে।

দেশজুড়ে মহামারি করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে টানা সপ্তম দফায় সাধারণ ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে সরকার। যা আগামী শনিবার শেষ হচ্ছে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পরই ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। একইসঙ্গে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। শুরু হয় দেশজুড়ে অঘোষিত লকডাউন। যা পরবর্তীতে আরও কয়েক দফায় বাড়িয়ে এখনও চলমান আছে।

কিন্তু দীর্ঘ লকডাউন আর সাধারণ ছুটিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষত মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষ মাসের পর মাস কর্মহীন ঘরে বসে থেকে হাতের সব পুঁজি খুইয়েছেন। এখন তাদের চোখে অন্ধকার। এছাড়া করোনার প্রাদুর্ভাবে গোটা দেশে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় তা জাতীয় অর্থনীতিতেও হুমকি হয়ে উঠেছে।

কিন্তু বিপরীতে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুও প্রতিদিনই বাড়ছে। ফলে ঈদ পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে লকডাউন ও সাধারণ ছুটি উঠিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সরকারের যে ইঙ্গিত ছিল সেটি হয়তো আরও দীর্ঘায়িত হতে চলেছে। কেননা বৈশ্বিক বাস্তবতায় কোনও দেশ এমন পরিস্থিতিতে লকডাউন তুলে নিলে সেটি সে দেশের জন্য আরও হুমকি হয়ে ফিরে আসবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এদিকে চলতি মাসের মাঝামাঝি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক মন্ত্রীর ইঙ্গিত ছিল, করোনায় সংক্রমণ প্রতিদিনই বাড়ছে। আবার সবকিছু বন্ধের কারণে মানুষের জীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর জুনের শুরু থেকে ছুটি ও লকডাউন তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কিন্তু দেশে বর্তমান যে করোনা পরিস্থিতি তা পর্যালোনা করে সরকার লকডাউন ও সাধারণ ছুটি তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কিনা তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

তবে সকল ক্ষেত্রে লকডাউন ও সাধারণ ছুটি তুলে নিলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ও জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে মাসের মাঝামাঝিই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, সবকিছুই নির্ভর করছে আগামী ২ সপ্তাহে (অর্থাৎ ৩০ মে পর্যন্ত) কোন দিকে যায় দেশের করোনা পরিস্থিতি তার ওপর।

সেপ্টেম্বরের আগে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হচ্ছে না বলে প্রধানমন্ত্রী যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত সেটিই বহাল থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আগামী ৫ জুন পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আছে। তার আগেই সেটি আরও এক দফা বাড়ানো হতে পারে।

এছাড়া বর্তমানে যেভাবে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে তাতে করে স্কুল-কলেজ খুলে দিলেও অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ঘর থেকে ছাড়বেন না বলেই মনে করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘এই কঠিন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া কিছুতেই ঠিক হবে না। আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশিত মতামতের সমর্থন করবো। বরং এখন উচিত শিক্ষার্থীদের কল্যাণার্থে সব ধরনের ভবিষ্যত পরিকল্পনা ঠিক করা।’

৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর প্রথম দফায় সাধারণ ছুটি ছিল ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় সেটি বাড়িয়ে ১১ এপ্রিল, তৃতীয় দফায় বাড়িয়ে ১৪ এপ্রিল, চতুর্থ দফায় বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল, পঞ্চম দফায় বাড়িয়ে ৫ মে, ষষ্ঠ দফায় বাড়িয়ে ১৬ মে ও সবশেষ সপ্তম দফায় সেই সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত ঘোষণা করে সরকার।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম মৃত্যুর সংবাদ আসে ১৮ মার্চ। এরপর মার্চ মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যু নাগালের মধ্যে থাকলেও এপ্রিলের শুরু থেকেই বিশেষত এপ্রিলের মাঝামাঝির পর থেকে ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে বর্তমানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৭৫১ জন, মারা গেছেন ৫২২ জন আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ হাজার ৫৭৯ জন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন