ট্রেন চলাচল শুরু ৩১ মে

  


পিএনএস ডেস্ক: মহামারী করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই দেশে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পর এবার সীমিত পরিসরে আগামী ৩১ মে রবিবার থেকেই আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে। একটি ট্রেনের পঞ্চাশ শতাংশ সিট খালি থাকবে অর্থ্যাৎ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রতি সিট অন্তর একটা সিট খালি রাখা হবে।

আন্তঃনগর ট্রেন যেখানে পাচঁটি চলাচল করে, সেখানে আপাতত ২টি ট্রেন চলাচল করবে। সরকারি স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সকল প্রকার নিয়ম-কানুন মেনেই এসব ট্রেন চলাচল শুরু করবে। ট্রেন চলাচলে বিষয়ে রেলওয়ে প্রশাসনের নানাভাবে প্রস্তুতিও রয়েছে প্রাথকিভাবে। এ বিষয়ে আগামীকাল শনিবার রেলভবনে রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন রেলওয়ে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক রয়েছে। তাছাড়া সরকারি সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোর কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ (সরকারি-বেসরকারী) স্ব স্ব কর্মস্থলে যোগ দিতে ট্রেন, গণপরিবহণ, লঞ্চ, প্রাইভেট কারসহ নানাবিধ উপায়ে চলাচল শুরু করবেন। এ নিয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. শামছুজ্জামান বৃহম্পতিবার বিকালে গণমাধ্যমকে বলেন, যেহেতু সরকারি ঘোষণা এসেছে, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রবিবার থেকেই সীমিত আকারে ট্রেন চলাচল শুরু করা হবে। সে বিষয়ে শনিবার রেলভবনে রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে একটা বৈঠক অনুষ্টিত হবে। এতে কিভাবে ট্রেন চলাচল শুরু করবে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তিনি আরো বলেন, যাত্রীরা স্বাস্থ্যাবিধি মেনেই ট্রেন ভ্রমণ করবেন। এতে প্রতিটি ট্রেনেই স্যানিটাইজার, মাস্ক, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্যে চলাচল করবে। এতে রেলের দায়িত্বশীল স্টাফরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং এ থাকবে। যাত্রীরা ট্রেনে উঠার আগেই ট্রেনের সকল বগি পরিষ্কার করে রাখা হবে। যাত্রীরাও নিজ নিজ সতর্কতা বজায় রেখেই দূরত্ব মেনেই চলাচল করতে হবে। এক সিট খালি রেখেই টিকেট বিক্রয় করা হবে। এতে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ টিকে বিক্রয় হবে। এভাবে আপাতত চলাচল করার পর পরবর্তীতে কোনো নির্দেশনা এলেই আরো বড় পরিসরে ট্রেন চলাচল করবে। অন্যদিকে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভাল, না হলে সরকারি যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, সেভাবেই টেন চলবে অথবা একেবারেই বন্ধ হবে বলে জানান তিনি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এডিশনাল চীফ কর্মাশিয়াল ম্যানেজার (এডিশনাল সিসিএম) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ৩১ মে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রস্তুতি নেয়া রয়েছে। সকল স্টেশনের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য গোল চিহ্ন দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে গোল চিহ্ন দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। টিকেট বিক্রয় বা ক্রয়ের ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায় থাকে সে বিষয়েও কিছু নিয়ম-কানুন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যাত্রীরা ট্রেনে উঠার সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার, মুখে মাস্ক ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা নিশ্চিত করা হবে। একই কথা বললেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) মো. আনসার আলীও।

পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রীক প্রকৌশলী (সিএমই) ফকির মো. মহিউদ্দিন বলেন, নির্দেশনা অনুয়ায়ী ট্রেন চলাচল শুরুর জন্য যাত্রীবাহী ট্রেন বা বগি প্রস্তুত আছে। ইতোমধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন, ওয়াগন, যাত্রী কোচ, খাবার গাড়ি ও প্রয়োজনীয় লোকবলসহ নানাবিধ প্রস্তুত রয়েছে।

রেলওয়ে অনবোর্ড-ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ আলম বলেন, প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান হলেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনায় আমাদের কাজগুলো নিয়মিত করে আসছি। এতে রবিবার থেকেই নতুন করে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করার জন্য অনবোর্ড-ক্যাটারিং সার্ভিসের কিছু কাজ রয়েছে। তবে সে সব কাজের জন্য প্রস্তুত রয়েছে নিজস্ব স্টাফও। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছনসহ নানাবিধ নিয়ম মেনেই ট্রেনে সার্ভিস দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রেলওয়ে ও রেল মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই চলাচল করেনি রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীবাহী ট্রেন। এতে বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্যশস্য, জ্বালানি ও কনটেইনার ছাড়াও ১ মে থেকে চলাচল করে আসছে পার্সেল ট্রেন। এতে সীমিত আকারে রবিবার থেকেই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করছে সরকারি নির্দেশনা অনুয়ায়ী।

এর আগে মন্ত্রণালয় ও রেলভবনের নির্দেশনার পর গত ৭ মে দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে চিঠি পাঠায় বাণিজ্যিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। চিঠিতে ট্রেনগুলো জীবাণুমুক্ত করা ছাড়াও ট্রেন চলাচলে প্রস্তুত রাখতে পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে নির্দেশনা দেয়া হয়। ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে অনবোর্ড পরিচালিত ট্রেনগুলোর দরজা-জানালা, হাতল, সিট, হেড বেল্ট কভার, টয়লেট, মেঝে স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানকে খাবার গাড়ি সুষ্ঠু ভাবে পরিচ্ছন্ন করে স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে মানসম্মত খাবার পরিবেশন করতে হবে। ট্রেনে ভ্রমণকালে প্রত্যেক যাত্রীকে আবশ্যিকভাবে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহারে স্টেশনগুলোর মাইকে ঘন ঘন ঘোষণা দিতে হবে, বড় অক্ষরে লিখে কাউন্টারের সামনে সাঁটিয়ে দিতে হবে। ইস্যুকৃত টিকেটের উপর ‘ট্রেনে ভ্রমণকালে প্রত্যেক যাত্রীকে আবশ্যিকভাবে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে’ মোটা সিল মেরে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। সর্বোপরি স্টেশনের দায়িত্ব পালনকালে প্রত্যেক কর্মচারীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

এছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া রেলের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ১৪টি শর্ত রয়েছে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন