রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলোতে হচ্ছে কি এসব?

  

পিএনএস ডেস্ক: রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলো অপরাধীদের জন্য যেন এক নিরাপদ ‘হট স্পট’। দিনের বেলায়ও ফ্লাইওভারগুলোতে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। ছিনতাই, মাদক কেনা-বেচা, মাদক সেবনসহ উঠতি বয়সী তরুণ বাইক রাইডারদের কাছে ফ্লাইওভারগুলো ‘খোলা মাঠ’।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফ্লাইওভারগুলোতে সিসি ক্যামেরা, পুলিশের নজরদারী এবং পর্যাপ্ত লাইট না থাকার কারণে এসব অপকর্ম ঘটছে।

ছিনতাইকারীরা ফ্লাইওভারগুলোতে ছিনতাই করে পালিয়ে যায় নির্বিঘ্নে। অনেক সময় ঘটছে খুনের ঘটনাও। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মগবাজার ফ্লাইওভারের উপর সোনারগাঁও প্রান্ত থেকে বেসরকারি এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্র মিজানুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে ৩ জানুয়ারি কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন ফ্লাইওভারে মরদেহ পাওয়া যায় মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তির। ৩১ ডিসেম্বর খিলক্ষেত ফ্লাইওভারে পাওয়া যায় অজ্ঞাত আরেক জনের লাশ। তারও আগে গত ১০ ডিসেম্বর আক্তার হোসেন নামে এক স্বর্ণকারের মরদেহ পাওয়া যায় কুড়িল ফ্লাইওভারে।

ছাত্র মিজানুর রহমানের মরদেহের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করে নুরুল ইসলামসহ তিনজনকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ফ্লাইওভারকেন্দ্রিক ছিনতাই চক্রের ভয়ানক সব তথ্য।

তারা পুলিশকে জানায়, গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত তাদের একাধিক গ্রুপ ৬শ’ এরও বেশি ছিনতাই করেছে। যার অনেকগুলোই ফ্লাইওভারে।

শুধু ছিনতাই নয় ফ্লাইওভারগুলোতে অহরহ চলছে নানা ধরনের অসামাজিক কাজ। যা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে যাতায়াতকারীদের। মগবাজার, খিলগাঁও, বনানী, গুলিস্তানসহ অধিকাংশ ফ্লাইওভারে প্রায়ই চোখে পড়ে ছেলে-মেয়েদের মোটরসাইকেল কিংবা গাড়ি থামিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়ার ঘটনা। আবার মাদক সেবনের জন্যেও মাদকসেবীরা নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিচ্ছে এসব ফ্লাইওভারগুলোকে।

অন্যদিকে, উঠতি বয়সী তরুণরা ফ্লাইওভারগুলোকে বেছে নিচ্ছে মোটরসাইকেল কসরত (স্টান্ট) করতে। আর তা করতে গিয়ে পড়ছে দুর্ঘটনায়। গত বছর ৫ এপ্রিল খিলগাঁও ফ্লাইওভারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয় নবম শ্রেণির ছাত্র নোমান ও কলেজছাত্র তুহিন। একই বছরের ৬ জুন মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন কলেজছাত্র ইমন। একইদিন একই স্থানে আরেকটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন রিয়াজ আহমেদ কাওসার নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্র। এ ঘটনায় আরেক তরুণ আহত হন। ৪ জুলাই এই ফ্লাইওভারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান রবিউল ইসলাম(৩২) নামে এক দোকান কর্মচারী।

একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি মোসাদ্দেক আলীকে কাজের প্রয়োজনে প্রতিদিনই ছুঁটতে হয় রাজধানীর নানা প্রান্তে। তিনি বলেন, খিলগাঁও, মেয়র হানিফ আর মগবাজার ফ্লাইওভারে অসামাজিক কাজগুলো বেশি চোখে পড়েছে তার।

‘অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসব ফ্লাইওভার দিয়ে যাতায়াতের সময় ভয়ে থাকি, কখন না আবার এরকম কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে যেতে হয়’ বলেন তিনি।

শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলই নয় এর চাইতেও অনেক খারাপ দৃশ্য এসব ফ্লাইওভারে দেখা যায় বলে জানান একাধিক পত্যক্ষদর্শী।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপি’র ওয়ারী ডিভিশনের এডিসি (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) দীল মোহামস্মদ বলেন, করোনাকালীন সময়ে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তৎপর। হানিফ ফ্লাইওভারও নজরদারীর বাইরে নয়। সেখানে পেট্রোলিং বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। মানুষের জান-মালের ক্ষতিরোধে যা যা করার প্রয়োজন সবকিছুই করবো।- ডেইলি বাংলাদেশ

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন