জেলায় জেলায় রেল সংযোগ চালু করতে কাজ করছে সরকার: রেলমন্ত্রী

  

পিএনএস ডেস্ক : রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, জেলায় জেলায় রেললাইন যাবে। এ জন্য সরকার ও রেল মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া রেললাইন পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে।

তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড়-রাজশাহী এবং রাজশাহী- পঞ্চগড় রুটে প্রথমবারের মত ‘বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস’ নামে এক জোড়া নতুন ট্রেনের উদ্বোধন উপলক্ষে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেশন চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

রেলমন্ত্রী বলেন, আশা করছি আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিনে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চিলাহাটি-হলদিবাড়ী ট্রেন চলাচল দুদেশের প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন।

১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় এটা বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, খুলনা পর্যন্ত ট্রেন লাইন আছে। কিন্তু মোংলা পোর্ট পর্যন্ত নেই। এটা আগামী ২০২২ সালের মধ্যে মোংলা বন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

যমুনা সেতুতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণকাজ আগামী ২৫ নভেম্বরে মধ্যে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-যশোর ১৭২ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেল লাইন নির্মাণ করা হবে। ২০২৪ সালের মধ্যে এটার কাজ শেষ হবে।

রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, স্বল্প ভাড়ায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সহজ করা হয়েছে। রেলের সেবা বাড়ানো হয়েছে। রেল ম্যাঙ্গো এবং ক্যাটল ট্রেন চালু করেছে। ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক নামেই ট্রেন চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জনবলের অভাবে দেশে এখন পর্যন্ত ১০৭টি রেল স্টেশন বন্ধ রয়েছে। জনগণের জন্য রেলের বগি ও ইঞ্জিন কেনা হয়নি, সৈয়দপুর ও চট্টগ্রামের পাহাড়তলির রেলবগি ও ইঞ্জিন তৈরির কারখানার সক্ষমতা হারিয়ে গেছে। রেল ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান, রেল সচিব সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত স¤্রাট, জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিন প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বৃহত্তর দিনাজপুর তথা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের মানুষের যোগাযোগের সুবিধার জন্য পঞ্চগড় থেকে হলো এই আন্তনগর ট্রেন। পঞ্চগড় থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ‘বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস’ ছেড়ে যাবে সকাল সাড়ে ৮টায়। ট্রেনটি রাজশাহী পৌঁছাবে ৯ ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে পাঁচটায়।

আবার রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে ‘বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ছাড়বে রাত ৯টা ১৫ মিনিটে। পঞ্চগড় পৌঁছাবে সকাল পাঁচটা ১০ মিনিটে।

রাজশাহী হতে শুক্রবার এবং পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেশন থেকে শনিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক চলাচল বন্ধ থাকবে।

রেলপথ মন্ত্রীর নিজ জেলা পঞ্চগড়ের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধার নামের সঙ্গে মিল রেখে নিজেই এই ট্রেনের নামকরণ করেছেন ‘বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস’।

পঞ্চগড় থেকে রাজশাহী পর্যন্ত নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু হওয়ায় পঞ্চগড়বাসীসহ বৃহত্তর দিনাজপুরের মানুষের ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’র পর দীর্ঘদিনের আরেকটি প্রত্যাশা পূরণ হলো।

ট্রেনটি পঞ্চগড়, কিসমত, রুহিয়া, ঠাকুরগাঁও, শিবগঞ্জ, পীরগঞ্জ, সেতাবগঞ্জ, দিনাজপুর, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ি, বিরামপুর, হিলি, পাঁচবিবি,জয়পুরহাট, আক্কেলপুর, সান্তাহার, আহসানগঞ্জ, মাধনগর, নাটোর, আব্দুলপুরসহ ২১টি স্টেশনে থামবে।

একইভাবে ফিরতি পথে এসব স্টেশনে ট্রেনটি যাত্রা বিরতি করবে। শুলভ শ্রেণির ভাড়া ১৭০ টাকা, শোভন ২৮০ টাকা, শোভন চেয়ার ৩৩৫ টাকা, প্রথম শ্রেণির ৪৪৫ টাকা, প্রথম শ্রেণির বার্থ ৬৬৫ টাকা, স্নিগ্ধা ৫৫৫ টাকা (ভ্যাট ব্যতীত), এসি ৬৬৫ টাকা (ভ্যাট ব্যতীত), এসি বার্থ ৯৯৫ টাকা (ভ্যাট ও বেডিং চার্জ ব্যতীত) নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি খ শ্রেণির ট্রেন। এতে ৫০৮ জন যাত্রী যেতে ও আসতে পারবে।

পিএনএস/এসআইআর


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন