কবর থেকে লাশ তুলে ময়নাতদন্ত : অতিরিক্ত আঘাতেই রায়হানের মৃত্যু

  

পিএনএস ডেস্ক : শরীরে অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই রায়হান আহমদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার রায়হানের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিকদেরকে এমনটি বলেছেন।

ডা. শামসুল ইসলাম বলেন, ‘রায়হানের শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। এসব কারণেই তার মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে।’

দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত শেষে আবারও রায়হানের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজিব আহমেদ, মেজবাহ উদ্দিন, পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম, স্থানীয় কাউন্সিলর মখলেছুর রহমান কামরানের উপস্থিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর একটি দল আখালিয়া এলাকার নবাবী মসজিদের পঞ্চায়েতি গোরস্থান থেকে রায়হানের মরদেহ উত্তোলন করে।

এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নিয়ে আসা হয় ওসমানী হাসপাতালের মর্গে। রায়হানের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যে একটি বোর্ড গঠন করা হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান, ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. শামসুল ইসলামকে প্রধান করে এ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- প্রভাষক ডা. দেবেস পোদ্দার, প্রভাষক ডা. আবদুল্লাহ আল হেলাল।

সিলেট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার খালেকুজ্জামান বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে রায়হানের মরদেহ তোলা হয়েছে। মরদেহ তোলার পর সুরতহাল করা হয়। এরপর ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত শেষে পুনরায় তার মরদেহ দাফন করা হয়।’

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ভোরে রায়হান আহমদ (৩৩) নামে সিলেট নগরের আখালিয়ার এক যুবক নিহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে প্রচার করা হয়, ছিনতাইয়ের দায়ে নগরের কাষ্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে নিহত হন রায়হান। তবে পরিবার দাবি করে, সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।

ওই রাতেই পুলিশকে অভিযুক্ত করে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু আইনে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। পরদিন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) শাহরিয়ার আল মামুনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সিলেট মহানগর পুলিশ।

তদন্তে নেমে পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু ও নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পেলে ফাঁড়ি ইনচার্জ, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ সাত পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মঙ্গলবার মামলাটি স্থানান্তর করা হয় পিবিআইয়ে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

বিক্ষোভ অব্যাহত, পুলিশকে ধাওয়া
সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের ফলে নিহত যুবক রায়হান আহমদের খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। আজ বৃহস্পতিবারও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা। বিকেল ৪টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের আখালিয়া এলাকায় রায়হানের বাড়ির সামনে এ অবরোধ চলাকালে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরাতে গেলে পুলিশকে ধাওয়া করে উত্তেজিত জনতা।

এসআই আকবরসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে রায়হানের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয়রা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের আখালিয়া এলাকায় রায়হানের বাড়ির সামনে রাস্তা অবরোধ করেন এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। এ সময় রাস্তার দুপাশে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে।

খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কোতোয়ালি থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা সরাতে চেষ্টা করে। এসময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের দিকে ধাওয়া করে।

পিএনএস/এসআইআর


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন