আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে হয়রানি, দালালেই মুক্তি!

  

পিএনএস ডেস্ক : মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সরকার-নির্ধারিত ফি জমা দিয়েও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে সরাসরি গেলে সেবা মেলে না। উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে, এই অফিসে ঘোরাঘুরি করা দালালদের শরণাপন্ন হলে আর কোনো ভোগান্তি থাকে না। কেবল দ্বিগুণ-ত্রিগুণ অর্থ গুনলেই দ্রুত পাওয়া যায় কাঙ্ক্ষিত পাসপোর্ট।

স্থানীয়দের অভিযোগ—পাসপোর্ট করার জন্য নিজে সব কিছু করে নিয়ে গেলে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘এই ভুল’, ‘সেই ভুল’ ধরে হয়রানি করেন। তাই ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে অনেকেই দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট করাচ্ছেন। আর এরই সুযোগে পাসপোর্টের জন‌্য ব্যাংক ড্রাফট বাবদ বাড়তি ২ থেকে ৪ হাজার টাকা নিচ্ছে দালালরা। তবে, এই বাড়তি টাকা থেকে পাসপোর্ট-প্রতি ২ হাজার টাকা চলে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে। পাসপোর্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী বাড়তি আয়ের লোভে দালালদের সঙ্গে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলেও সেবাপ্রার্থীরা অভিযোগ তুলেছেন।


সরেজমিনে দেখা গেছে, পাসপোর্ট অফিসের ফটকে সেবাপ্রার্থীদের প্রবেশ করার সময় বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু দালালদের মনোনীত ব্যক্তিরা কোনো রকম বাধা ছাড়াই ভেতরে যাওয়ার অনুমতি পান। অফিস সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকায় বিকাল ৫ টার আগে কোনো দালাল অফিসে প্রবেশ করে না।

২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। তবে, করোনার কারণে সময় পিছিয়ে দিয়ে জুন-জুলাই থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ডিসেম্বর মাসের ৯৬২ জনের ই-পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে ৫৭২ জনের পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে।

সিংগাইর উপজেলার বায়ড়া এলাকা থেকে আসা সেবাপ্রার্থী সাগর বলেন, ‘দালাল ছাড়া কাজ করলে ভোগান্তির শেষ নেই। নিজে ফরম পূরণ, ফিংগারপ্রিন্ট ও ছবি তুলতে গেলে কর্মকর্তারা দুর্ব্যবহার করেন।’

একই অভিযোগ সাভার থেকে আসা আশরাফ নামের এক সেবাপ্রার্থীরও। তিনি আরও বলেন, ‘দালাল ছাড়া পাসপোর্ট করতে এসে আমি যেন ভুল করেছি। যারা নিজ উদ্যোগে পাসপোর্ট করতে যান, তাদের সঙ্গে কর্মকর্তা খারাপ ব্যবহার করেন। এছাড়া শুধু ভুল ধরার কাজে ব্যস্ত থাকেন। আমার স্ত্রী ও আমার পাসপোর্ট একই দিনে ডেলিভারির তারিখ হওয়ায় জানতে চাই, আমার স্ত্রীকেও আসতে হবে নাকি? ডেস্ক থেকে জানায়, একজন এলেই হবে। অথচ ডেলিভারি নিতে এসে দেখি, আমার স্ত্রীকে ছাড়া পাসপোর্ট নেওয়া যাবে না। আমাকে হয়রানি করতেই এমন করা হয়েছে। ’


নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দালাল বলেন, ‘অফিসে সিসি ক্যামেরা থাকায় এখন আগের সিস্টেমে কাজ করা হয় না। নতুন সিস্টেমে কাজ করতে হয়। বাইরে গেট থেকে আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ লোকদের কাগজপত্র দিয়ে ভেতরে পাঠিয়ে দেই। অফিসে কর্মকর্তাদের ফোন করে নাম-ঠিকানা জানিয়ে দেই। সাধারণ ই-পাসপোর্ট করতে ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা নিয়ে থাকি। এর মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট ৪ হাজার ২৫ টাকা, অনলাইনে আবেদন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, পরিস্থিতি বুঝে পুলিশ ভেরিফিকেশনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দিতে হয়। পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের ১ হাজার টাকা দিতে হয়। আর জরুরি ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাড়ে দশ হাজার নিয়ে থাকি। সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিসের কর্মাকর্তাদের একটু বেশি টাকা দিতে হয়।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘এই অফিসে দালাল প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই।’ দালালের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন