সবজি দিয়ে শহীদ মিনার গড়ে কৃষকের শ্রদ্ধা

  

পিএনএস ডেস্ক : রুমান আলী শাহ। কৃষি কাজ করে সংসার চলে তার। কৃষি জমিতে সবজি চাষ করে শহীদ মিনারের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। দেখিয়েছেন বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা। এভাবেই জানিয়েছেন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।

রুমান আলীর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায়। নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করতে আর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে তৈরি করেছেন সবজি দিয়ে শহীদ মিনার। কৃষি জমিতে তিনি শুধু শহীদ মিনার নয়, বাংলা ভাষার চির স্মরণীয় গানের দু’টি লাইন ‘মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা’ফুটিয়ে তুলেছেন সবজি চাষের মাধ্যমে। আবার বাংলা বর্ণমালা অ আ ক খ গেঁথে দিয়েছেন বাংলার মাটিতে সবজি দিয়ে। সবুজ শাকের শহীদ মিনারের বুকে লাল শাক গুলো যেন উদিয়মান সূর্য।

দেশের প্রতি রুমানের এমন মমত্ববোধ এটিই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে নিজের ছয় শতাংশ জমিতে লালশাক আর পালংশাক দিয়ে তৈরি করেছিলেন প্রিয় বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা আর আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা।

রুমানের সব কাজেই ব্যতিক্রমী ছাপ রয়েছে। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনে ভালো কিছু করতে না পেরে দেশে এসে নিজের জমিতেই গড়ে তোলেন ‘মিশ্র বহুমুখী খামার বাড়ি’। মিশ্র খামার বাড়িতে প্রতিটি প্রকল্প সাজানো হয়েছে ছোট-বড় বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্ল্যাকার্ড দিয়ে। মাটিবিহীন ঘাস উৎপাদনের প্রকল্পে লেখা ‘মাটি বিহীন ঘাসের চাষ করুন, সুস্থ সবল খামার গড়ুন’। দেশি মুরগির খামারের লিখে রেখেছেন ‘দেশি মুরগির যত্ন নিন, আসবে টাকা হবে না ঋণ’। কবুতরের খামারে লিখেছেন ‘কবুতরের যত্ন নিলে, ৩০ দিন পরপর বাচ্চা মিলে’। গাভীর খামারে লিখেছেন ‘গাভী ছাড়া উপায় নাই, দুধের বিকল্প কিছু নাই’। মাছের প্রজেক্টে লেখা ‘মাছ খাবে পোকা, কৃষক খাবে না ধোঁকা’ এমন অসংখ্য প্লেকার্ড দিয়ে সাজিয়েছে পুরো খামার বাড়িটি।

রুমান আলী শাহ বলেন, ‘আমি ভাষা আন্দোলন দেখিনি, মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। কিন্তু অল্প শিক্ষা পেলেও বই পুস্তকে পড়েছি। তাই আমার দেশই আমার গর্ব। প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেক মানুষ আমার সবজিখেত দেখতে আসেন। এতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি নতুন প্রজন্মের কাছে দেশকে ভালবাসার কথা বলে যেতে চাই। আমি চাই, তারা যেন কোনো কিছুতে পিছিয়ে না পড়ে। অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা এ ভাষায় স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি। অর্জিত মাতৃভাষার মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা বাড়ুক এটাই আমার কাম্য।’

খামার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই খামার বাড়ি নিয়ে আরও দীর্ঘ পরিকল্পনা আছে। আমি চাই, বেকাররা চাকরির পেছনে না ছুটে যেন নিজে কিছু করে। তারা যেন নিজ প্রচেষ্টায় স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করে।’

পিএনএস/এসআইআর

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন