৭ মার্চ বিএনপির কর্মসূচি, রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়

  

পিএনএস ডেস্ক : প্রতি বছর শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো ‘৭ মার্চে’ দিবসটি পালন করে। এবার স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপনে ৭ মার্চ আলোচনা সভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। তাদের এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

তবে বিএনপির ৭ মার্চের কর্মসূচিকে স্বাগত জানাচ্ছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু এক্ষেত্রে বিএনপির ব্যাখ্যা ভিন্ন। তারা বলছে, আওয়ামী লীগের দৃষ্টিকোণ থেকে বিএনপি দিবসটি পালন করছে না।

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে ত্রিশে মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশসহ মার্চ মাসে ১৯ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। তার অংশ হিসেবে সাতই মার্চ আলোচনা সভার আয়োজন করতে যাচ্ছে বিএনপি।

বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির সাতই মার্চ পালনের প্রচেষ্টা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক আবহ তৈরি করবে। ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের পর বিএনপি বলছে, তারা আওয়ামী লীগের দৃষ্টিকোণ থেকে দিবসটি পালন করছে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐতিহাসিক সাতই মার্চকে যারা এতদিন নিষিদ্ধ করে রেখেছিলো তারাই এখন সাতই মার্চ পালন করবে।

মূলত আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন প্রতিক্রিয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং অনেকেই প্রশ্ন তোলেন বিএনপি কি সাতই মার্চে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের যে বার্ষিকী, সেই আঙ্গিকে পালন করতে যাচ্ছে কি-না।

এবিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, না, আমরা আওয়ামী লীগের দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু করতে বা বলতে যাচ্ছি না। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে মাসব্যাপী কর্মসূচি আমাদের। একটি আলোচনা সভা সাতই মার্চে আছে এবং সেখানে আমাদের কথা বলবো। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণের বার্ষিকী উপলক্ষেই বিএনপির আলোচনা সভার কর্মসূচি কি-না সেটি আসলে পরিষ্কারভাবে হ্যাঁ বা না বলেননি দলটির নেতাদের কেউ।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে সুপরিচিত অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রতিক্রিয়া তার চোখে পড়েছে। কিন্তু এভাবে দেখার সুযোগ নেই। আমি জানিনা বিএনপি নতুন কিছু বলবে কি-না। যা তারা ৭৭ সালের জন্মের পর থেকে বলেনি। তবে দলটি স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আলোচনা করতেই পারে। হয়তো সাতই মার্চে হলেও সেটি শুধু সাতই মার্চে না থেকে সবকিছু নিয়েই আলোচনা হতে পারে। আর বিএনপি এখন হঠাৎ করে সাতই মার্চ নতুনভাবে পালন শুরু করলে তার কর্মীদের এর কারণও নিশ্চয় জানাবে।

গত বুধবার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সবাইকে নিজ অবস্থান থেকে উৎসাহ ও গুরুত্বের সাথে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের আহবান জানিয়েছেন। দলটির এবারের কর্মসূচিতে প্রথম বারের মতো ২৫ মার্চের কালো রাত্রি উপলক্ষেও আলোচনা সভার কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

দলটির কর্মসূচি অনুযায়ী ১ মার্চ সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচির উদ্বোধন হবে ঢাকায়। আর ৩১ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা ও চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকায় তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় ও তার পরও ভাষণটি অনেক মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে গত বছর ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য দলিল হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন