ড্রোন দিয়েই মারা হবে মশা!

  

পিএনএস ডেস্ক: গত ১০ হাজার বছ‌রে পৃ‌থিবী‌তে অজগর, বাঘ, ভালুক, হা‌তি কিংবা এ ধরনের প্রাণী যত মানুষকে হত‌্যা ক‌রে‌ছে তার চে‌য়ে বেশি মানুষ‌কে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে মশা। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই মশার উৎপাত বর্তমান পৃথিবীতেও কম নেই। এইতো, মাত্র বছর দেড়েক আগেই ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবে গোটা দেশে মৃত্যুর মাতম শুরু হয়েছিল। বিশেষত, দুই কোটি মানুষের এই ঢাকা শহরে যে পরিমাণ দূষণ ও আবর্জনা তাতে করে যেকোনও জীবাণু সহজেই বংশ বিস্তার করতে পারে। নগর করপোরেশ‌নের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবসময় তৎপর থাকেন। এ নিয়ে কীটতত্ত্ববিদ ও‌ চি‌কিৎসা‌বিজ্ঞানীরাও গ‌বেষণা কর‌ছেন ব‌্যাপকভা‌বে।

দেশের সিটি করপোরেশনগুলো মশা নিধনের জন্য যত বাজেট বরাদ্দ দেয়, অন্য কোনও প্রাণীর সুরক্ষায়ও এত বরাদ্দ দেয়া হয় না। এমনকি বন্যহাতি থেকে বাঁচতেও এত বাজেট ধরা হয় না। সুতরাং প্রাণী হিসেবে ক্ষুদ্রকায় হলেও মশাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। এবার মশা নিধনে এক নতুন অধ‌্যায় শুরু কর‌তে যা‌চ্ছে ঢাকা উত্তর সি‌টি ক‌রপো‌রেশন (ডিএন‌সি‌সি)।

নগরের মশা মারতে কোনও কামান বা বন্দুক ব্যবহার করবে না ডিএনসিসি, মশা মারতে ব্যবহার হবে আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন। আকাশে উড়ে মশার আঁতুড়ঘরে নজরদারি চালাবে না এই ড্রোন। ত‌বে মশার আঁতুড়ঘরে ঢুকে মশা মারার ওষুধ স্প্রে করে মারা হবে ঢাকার মশা ।

মশা মারতে ড্রোন ব্যবহার- ঢাকা উত্তর সিটির এমন উদ্যোগ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বনানী লেকে একটি ড্রোন ব্যবহার করে মশার ওষুধ ছেটানোর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম চালিয়েছে সংস্থাটি। ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ড্রোন ডেভেলপারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ড্রোন দিয়ে কিভাবে মশা মারার ওষুধ ছেটানো যায় সে বিষয়ে আলোচনার পর পরীক্ষামূলক একটি ড্রোন তৈরি করেছে ডেভেলপার। ড্রোনটি একটি ব্যাটারির মাধ্যমে ২৫ মিনিট আর দুটি ব্যটারির মাধ্যমে ৫০ মিনিট শুন্য উড়তে পারবে। পাশাপশি প্রতি মিনিটে ড্রোনটি ছিটাতে পারবে ৫ লিটার মশার ওষুধ।

প্রাথমিকভাবে ২০ লিটার ওষুধ বহন করতে সক্ষম এই ড্রোনটি দিয়ে বনানী লেকে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সফল হলে খুব শিগগিরই রাজধানী ঢাকার ডিএনসিসির এলাকার জলাশয়, খাল বা লেকে মশা মারতে ব্যবহার করা হবে ড্রোন।

ডেঙ্গু কম‌লেও রাজধানীজুড়ে কিউলেক্স মশার রাজত্ব। মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ পুরো নগরবাসী। ছোট্ট এক প্রাণী মশা তা‌কে যেন কোনোভা‌বেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। ঘরে-বাইরে, বাসা কিংবা অফিস সব জায়গাতেই যেন মশার অতিরিক্ত প্রভাব এখন। এ অবস্থায় মশক নিধনে জলাশয়, লেকে বা খালে লার্ভিসাইড ছেটাতে ড্রোন পদ্ধতি ব্যবহারের কথা ভাবছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। যেখানে সনাতনী পদ্ধতি বা মশক নিধন কর্মীরা মশার ওষুধ নিয়ে পৌঁছাতে পারে না, সেসব স্থানেই ব্যবহার হবে ড্রোন। জলাশয় বা লেকের মাঝখানে ড্রোন ব্যবহার করে মশার ওষুধ ছেটানো গেলে সময় যেমন বাঁচবে, সেই সাথে মশক নিধন কর্মীরা যেখানে ওষুধ ছেটাতে পারছেন না সেসব স্থানেও ড্রোনের মাধ্যমে ছেটানো সম্ভব হবে মশার ওষুধ।

ড্রোন দিয়ে মশা মারার এই উদ্যোগ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: জোবায়েদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের যে বড় বড় জলাশয় আছে সেসব স্থানে মাঝখানে আমরা মশার ওষুধ, লার্ভেসাইট ছেটানোর জন্য পৌঁছাতে পারি না। সেসব স্থানে আমরা ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি, যাতে করে অল্প সময়ের মধ্যে অনেক জায়গায় আমার ওষুধ ছেটাতে পারি।’

ড্রোন ব্যবহারের বিষয় নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কীট নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডিএনসিসির অনেক বড় এলাকা, অনেক জায়গা যেমন পুকুর, জলাশয়, খালের সব জায়গায় আমরা বা আমাদের মশক নিধন কর্মীরা পৌঁছাতে পারেন না। সে কারণে ড্রোনের মাধ্যমে মশার ওষুধ ছেটানোর এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মশা নিধন ডিএনসিসি খুবই তৎপর আছে। মশার আবাসস্থলে ড্রোনের মাধ্যমে ওষুধ ছেটানো হবে। আশা করা যায় এটা খুব কার্যকারী একটি পদক্ষেপ হবে।’

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন