তদন্ত কমিটিকে ক্যাম্পাসে যেতে দেননি কলিমউল্লাহ

  

পিএনএস ডেস্ক : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত কমিটি হয়েছে। তার পরামর্শেই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। পরে মন্ত্রীর অফিস থেকে তদন্ত প্রতিবেদনের খণ্ডিত অংশ ফাঁস হয়েছে বলে আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।

উপাচার্যের অভিযোগ, ‘ইউজিসির ইন্টেগ্রিটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো পবিত্র একটি জায়গায় এটি মানানসই না। শিক্ষামন্ত্রীর পবিত্র এ পদে থাকা কাম্য নয়।’

অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর এসব অভিযোগের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য ও বেরোবির তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর বলেন, ‘নিজস্ব দায়িত্ব ও ক্ষমতাবলে এ তদন্ত কমিটি করেছে ইউজিসি। এখানে ব্যক্তিগত কোনো প্রভাব নেই। বেরোবি উপাচার্য যে অভিযোগ করেছেন, তা সর্বস্ব মিথ্যা ও তার ব্যক্তিগত আক্রোশ। তিনি এখন ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছেন, যা মোটেও কাম্য নয়।’


ইউজিসির এই সদস্য বলেন, ‘এ কমিটিতে যে তিনজন ছিলাম সবাই ওই অভিযোগের বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। কারণ আমি সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ), পরিচালক (পরিকল্পনা) ও অতিরিক্ত পরিচালক (পরিকল্পনা) এ তদন্ত পরিচালনা করেছি। আমরা যে বিষয়টি তদন্ত করেছি সেটিও উন্নয়ন সংক্রান্ত অভিযোগ। তাই বিশেষ এলাকা ও বিশেষ ব্যক্তির পছন্দে তদন্ত হয়েছে, এটি বলার কোনো সুযোগ নেই।’

তদন্ত কমিটি বেরোবিতে যায়নি-নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর এমন অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে অধ্যাপক মো. আলমগীর বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছি। তখন উপাচার্য বলেছেন, আমি তো ক্যাম্পাসে যেতে পারি না, তাই অন্য কোথাও বসুন। আমরা তার সম্মানের জন্য ক্যাম্পাসে যাইনি। উপাচার্যের উচিত ছিল আমাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু তিনি সেটি না করে উল্টো আমাদের ওপর অভিযোগ করছেন। একজন উপাচার্য ক্যাম্পাসে যেতে পারেন না, এটা কত লজ্জার বিষয়!’

ইউজিসির এ সদস্য বলেন, ‘আমরা ঘটনার যা দেখেছি, তদন্তে তা-ই তুলে এনেছি। তদন্তে পক্ষপাতদুষ্ট কোনো কিছুই হয়নি। আমার বাড়ি মন্ত্রীর এলাকায়, এটি কোনো যুক্তি হতে পারে না। আমি একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। আগের উপাচার্যের সময় আমি বেরোবির সিন্ডিকেট সদস্য ছিলাম, এজন্য তার প্রতি অন্যায় প্রতিবেদন দিয়েছি, এটাও মিথ্যা। কারণ সে সময় আমি খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলাম। এ পদাধিকার বলেই সিন্ডিকেটের সদস্য হয়েছিলাম। এখানে ব্যক্তি আলমগীর সিন্ডিকেট সদস্য হননি। কুয়েটের ভিসিও বেরোবির বর্তমান সিন্ডিকেট সদস্য।’

২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের নানা অসঙ্গতি নজরে এলে ইউজিসিকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। মঞ্জুরি কমিশন ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ড. মো. আলমগীরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. ফেরদৌস জামান এবং অতিরিক্ত পরিচালক ড. দুর্গারানী সরকার।

চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি সরেজমিন পরিদর্শনে যায় এ তদন্ত কমিটি। পরিদর্শনকালে তারা বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণাধীন স্থাপনাসহ প্রকল্পের কাগজপত্রাদি যাচাই-বাছাই করে দুর্নীতির প্রমাণ পায়।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন