‘মুখলিস’ মকবুলে চমক থাকছে না

  


পিএনএস ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত আমির হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন মকবুল আহমাদ। দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, মকবুল আহমাদ শান্ত, শিষ্ট ও ‘মুখলিস’ (সৎ) মানুষ। তার নেতৃত্বে জামায়াত সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। যেটি বিগত ৬ বছরে তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বকালেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। বিগত বছরগুলোয় দলটির শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির হওয়ার পরেও দল হিসেবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে জামায়াত। এর পেছনে অবদান হিসেবে মকবুল আহমাদের নেতৃত্বের দৃঢ়তাকেই দেখছেন তারা। কেউ কেউ মনে করছেন, জামায়াতের মতো দলে আমির হিসেবে চমক দেখানোর সুযোগ নেই। সব সিদ্ধান্ত গঠনতান্ত্রিক ও সাংগঠনিকভাবেই হয় বলে ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছা খুব একটা কার্যকর হয় না।

সিলেট জেলা দক্ষিণের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘তিনি মকবুল আহমাদ ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত ‘মুখলিস’ মানুষ। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে রুহানিয়ত যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি রাজনীতির ময়দানেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন, এই আমাদেরপ্রত্যাশা।’’

কুমিল্লা জেলার একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমিরে জামায়াত ‘মুখলিস’ মানুষ। তার নেতৃত্বে দ্বিনের পথে জামায়াত আরও অবিচলতার সঙ্গে সংগ্রাম করবে।’’

ঢাকার একটি অঞ্চলের দায়িত্বশীল, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনতান্ত্রিক দল। আর ইসলামের দাওয়াতে চমক বা নতুনত্ব বলে কিছু নেই। ফলে, মকবুল আহমাদ আমির হলেও স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে কিছু হবে না। এক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মত দিলেও দলের হাইকমান্ডের পরামর্শের ভিত্তিতেই কাজ করবেন।’

ফেনীর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, ‘মকবুল আহমাদ দলের নিবেদিত ও ত্যাগী নেতা। তার নেতৃত্বে আগামী দিনে জামায়াত মূল ধারা রাজনীতিতে ভূমিকা রাখবে।’

সোমবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াত।

বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের কিছু সদস্যের সামনে মকবুল আহমাদকে শপথ পাঠ করান দলটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম মাসুম।

শপথ গ্রহণের পর দেওয়া বক্তব্যে মকবুল আহমাদ বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম, আমার সহকর্মীরা অধিকতর যোগ্যতাসম্পন্ন অন্য কোনও ভাইকে এ মহান কাজের জন্য বাছাই করে নেবেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় শেষ পর্যন্ত এ দায়িত্ব আমার ওপরেই এসেছে। আপনারা অবগত আছেন যে, বিগত ছয় বছরের অধিক সময় আমার ওপর ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব ছিল। মহান আল্লাহর অসীম রহমত এবং আপনাদের দোয়া ও আন্তরিক সহযোগিতায় অনেক জুলুম নির্যাতনের মধ্যেও আমি এ দায়িত্ব পালনের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এ কঠিন দায়িত্ব থেকে আমি নিজেকে মুক্ত রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সংগঠনের সদস্যদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে আমার ওপর আমিরের দায়িত্ব আসায় আমি আজ মহান আল্লাহর রহমত ও সাহায্যের ওপর নির্ভর করে আপনাদের সামনে আমির হিসেবে দায়িত্বের শপথ গ্রহণ করছি।’

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech