এত জৌলুশের সম্মেলন মনের আগুন নেভাতে পারবে না: নোমান

  

পিএনএস: রাজধানী ঢাকায় বিপুল ব্যয়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের তির্যক সমালোচনা করে বিএনপির নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, এত বড় সম্মেলন, এত জৌলুশ সৃষ্টির সম্মেলন যে সারা শহর জ্বলজ্বল করছে। কিন্তু এ বাতি মানুষের মনের আগুন নেভাতে পারবে না।
আজ বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে প্রয়াত বিএনপির নেতা আ স ম হান্নান শাহর স্মরণসভায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান এ কথা বলেন।
সরকারের উদ্দেশে নোমান বলেন, ‘আপনারা বড় সম্মেলন করছেন, বিশাল গেট করছেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করছেন। কিন্তু এ সম্মেলন জনগণের কাছে কীভাবে প্রতিভাত হচ্ছে, সেটা যদি একবার সার্ভে (জরিপ) করে দেখেন, তা হলে বুঝবেন জনগণের প্রতিক্রিয়া। গেট দেখেই মানুষ বলছে, হায়রে আমাদের টাকায়, দুর্নীতির টাকায় এ সম্মেলন হচ্ছে।’
সম্মেলন উপলক্ষে বিশাল ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভায় যে হিসাবটা দেখলাম, তাতে সুনির্দিষ্ট বাজেট নেই, লক্ষ্যও নেই, কোটি কোটি টাকার ব্যাপার। এ টাকা কোথা থেকে আসবে আমরা জানি না। তাদের লুটের টাকা আছে, তারা খরচ করবে। সেটা আবার নিয়েও নেবে।’
নোমান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলন করছে। সমগ্র শহর তারা নিয়ে নিচ্ছে। এতে জনগণের দুর্ভোগ যাতে না বাড়ে, সেদিকে তাদের নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে নোমান গত ১৯ মার্চ বিএনপির কেন্দ্রীয় সম্মেলনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির যখন সম্মেলন হলো, তিন দিন আগেও আমরা জানতাম না কোথায় হবে। পারমিশন না পেয়ে আমরা পোস্টার-লিফলেটে লিখতে পারলাম না, কর্মীদেরও জানাতে পারলাম না। শেষ পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ভেতরে আমাদের সম্মেলন করতে হয়েছে। অথচ আজ ১৫ দিন আগে মাইকও লাগানো হয়ে গেছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা চাই, আওয়ামী লীগের সম্মেলন সফল হোক। কিন্তু এ সম্মেলনে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে তাদের উদ্যোগ থাকতে হবে। যদি এ সম্মেলন প্রতিহিংসার সম্মেলন হয়, বিরোধীদের মামলা-হামলার পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য যদি এ সম্মেলন হয়, তাহলে সে সম্মেলনের কার্যকারিতা জনগণের মধ্যে থাকবে না।’
এক মাঘে শীত যায় না—এ মন্তব্য করে আবদুল্লাহ আল নোমান ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক পুরোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। কিন্তু জনবিচ্ছিন্নতা আপনাদের গ্রাস করেছে। সেটা উপলব্ধি করতে না পেরে যদি বিএনপিকে ধ্বংস করতে চান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মামলা দিয়ে রাজনীতি-বিচ্ছিন্ন করতে চান, সেটা পারবেন না।’
প্রয়াত হান্নান শাহর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের কেউ শোক প্রকাশ না করার কড়া সমালোচনা করেন আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, হান্নান শাহ একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি গণতন্ত্রের পক্ষে সংগ্রাম করেছেন। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং এক-এগারোর সময় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ হিসেবে তাঁকে সম্মান করা যেত। এটাই তাদের বিশেষত্ব।
ইয়ুথ ফোরামের উপদেষ্টা মেজর অব. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির নেতা আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি সাইদুর রহমান প্রমুখ।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech