অনেককে বাঁচাতে সন্ত্রাসীকে আঘাতে অসুবিধা কিসের: প্রধানমন্ত্রী

  

পিএনএস: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহতের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব ‘যে কোনো মূল্যে’ পালন করা হবে।
‘অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে’ সন্ত্রাসীদের আঘাত দেওয়াতে অসুবিধা কিসের- সে প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।
জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সত্যতা নিয়ে বিএনপি নেতারা প্রশ্ন তোলায় একে সন্ত্রাসীদের জন্য তাদের ‘হাহাকার’ বলছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর মধ্য দিয়ে তারা অপরাধীদের প্রশয় দিচ্ছেন মন্তব্য করে বিএনপি নেতাদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, অপরাধীদের প্রশয় দেওয়া আর অপরাধ করা একই কথা।
আওয়ামী লীগের ২০তম ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে গণভবনে বুধবার সন্ধ্যায় দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের শুরুতে বক্তব্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া যেহেতু আমাদের দায়িত্ব, সেহেতু দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা আমাদের দায়িত্ব… যে কোনো মূল্যে আমরা তা রক্ষা করব। আমাদের কথা স্পষ্ট- ‘জিরো টলারেন্স টু টেরোরিজম’।”
গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর সেনাবাহিনীর অভিযানে হামলাকারীদের পাঁচজন নিহত হন। এরপর কল্যাণপুরে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নয়জন, মিরপুরে একজন, নারায়ণগঞ্জে তিনজন, আজিমপুরে একজন এবং সর্বশেষ গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে একদিনে তিন অভিযানে ১১ জন নিহত হন।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাসকে আমরা কোনো মতেই প্রশয় দেব না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।
“আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা কোনোমতেই জঙ্গিবাদ আর সন্ত্রাসকে প্রশয় দেব না।”
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিন্তু আমরা একটা জিনিস লক্ষ করেছি। যখনই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যায়, যখন কেউ মৃত্যুবরণ করে তখন কেন যেন বিএনপি নেত্রী ও তার দলের লোকেরা হাহাকার হরে ওঠে।
“এই হাহাকারের অর্থটা আমি বুঝি না, হা-হুতাশ কান্নাকাটি কেন?”
বিএনপি নেতৃত্বের মধ্যে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের মদদ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী অ্যাকশনে গেলে বিএনপি জঙ্গিদের পক্ষ নিয়ে সাফাই গাইতে শুরু করে। তাদের বিরুদ্ধে কেন অ্যাকশন নেওয়া হল এই প্রশ্ন তাদের।
“যুদ্ধাপরাধীদের আমরা বিচার করেছি। বিচার হলেই এর প্রতিবাদ…যারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে, তাদের সমর্থন করছে, লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা তাদের হাতে তুলে দিয়ে মন্ত্রী বানিয়ে মর্যাদা দিয়েছে, তাদের বিচার ইনশাল্লাহ একদিন বাংলার মাটিতে করতে হবে। তাদের বিচার হবে।
“অপরাধীদের প্রশয় দেওয়া, আর অপরাধ করা একই কথা- এটা তাদের মনে রাখতে হবে।”
আ. লীগে পদ বাড়ছে
আওয়ামী লীগের এই সম্মেলন ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ মন্তব্য করে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে অভূতপূর্ব সাড়া জেগেছে।”
আওয়ামী লীগের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, “আগের ঘোষণাপত্র অনেকাংশেই আমরা বাস্তবায়ন করে ফেলেছি। জনসংখ্যা বাড়ছে, সেজন্য গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন আনতে হবে।”
আওয়ামী লীগের পরবর্তী গঠনতন্ত্রের খসড়ায় সভাপতিমণ্ডলীর চারজন সদস্য, কার্যনির্বাহী সংসদের দুজন সদস্য এবং একজন করে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের এই বৈঠক দলটির বর্তমান কমিটির সর্বশেষ বৈঠক। তবে বুধবার শেষ তা হবে না, পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত এই বৈঠক মুলতবি থাকবে।
নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পর এই কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে জানান শেখ হাসিনা । কাউন্সিলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হলে এই বৈঠক বসবে বলে জানান তিনি।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech