খালেদা জিয়া আসবেন বলে...

  


পিএনএস: অন্যান্য দিনের মতো সকাল থেকে বকিশবাজার, ঢাকা মেডিকেল মোড় ও চাঁনখারপুল এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিকই ছিল। এসব এলাকার সড়ক দিয়ে প্রতিদিনের মতো সব ধরনের যানবাহন চলছিল স্বাভাবিকভাবে। দোকানপাট, রেস্তোরাঁও খুলেছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। পুলিশ ও র্যাবের বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত হতে থাকেন। মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় সব দোকানপাট। ব্যারিকেড দিয়ে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে আটকে দেয়া হয় সব ধরনের যানবাহন। একপর্যায়ে সাধারণ মানুষের চলাচলও অনেকটা বন্ধ করে দেয়া হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আসবেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এত আয়োজন। না, এসব আয়োজন তার জন্য রাষ্ট্রীয় কোনো ভিভিআইপি প্রটোকল নয়। দুর্নীতির মামলায় বকশিবাজারের আলীয়া মাদরাসা মাঠে অবস্থিত বিশেষ জজ আদালতে তার হাজিরা দেয়াকে কেন্দ্র করে এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতে উপস্থিত হন খালেদা জিয়া। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর বহর নিয়ে চাঁনখারপুল মোড়, ঢাকা মেডিকেল মোড় দিয়ে বকশিবাজারের আদালতে যান তিনি।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর একই আদালতে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও জড়িয়ে পড়েন। রক্তক্ষয়ী ওই সংঘর্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকে তার আদালতে উপস্থিতির দিনে এমন নিরাপত্তাবলয় তৈরীকরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আজও দলীয় প্রধানের আদালতে আগমনকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ওই এলাকায় হয়েছিলেন। তাদের বেশির ভাগই অবস্থান করে চাঁনখারপুল এলাকায়। কেউ কেউ আবার ঢাকা মেডিকেলের ভেতরেও ছিলেন।

বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ওই এলাকায় অবস্থান করে দেখা গেছে, আদালতের চারপাশের সড়কে লোকজনের হাঁটাচলা নেই। হাতেগোনা কিছু রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায় তখন। প্রতিটি গলির মুখে পুলিশ মোতায়েন।

অন্যদিকে মূল সড়ক অর্থাৎ বকশিবাজার আলীয়া মাদরাসার পাশে অবস্থিত সিটি করপোরেশন মার্কেটের দোকানপাট ছিল বন্ধ। মার্কেটের ঠিক সামনের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়া হয় যানবাহন। মোতায়েন ছিলনে ৩০ জনের মতো পুলিশ সদস্য।

একটু এগিয়ে বকশিবাজার মোড়ের পূর্ব দিকের হোসেনী দালানের দিকে যাওয়ার সড়কও পুরোপুরি বন্ধ ছিল খালেদা জিয়া আসার আগ পর্যন্ত। উত্তর দিকে মেডিকেল মোড়ে রাখা হয়েছিল পুলিশের জলকামান, এপিসি কার। বুয়েটের দিকে যাওয়ার রাস্তার মুখ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখে পুলিশ। অন্য সব স্পটের চেয়ে মেডিকেল মোড়ে পুলিশ ও র্যাবের বেশি সদস্য চোখে পড়ে।

এ সময় রাষ্ট্রীয় বড় কোনো পদে না থাকলেও নিরাপত্তার কড়াকড়ি নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদেরও নিজেদের মধ্যে নানা আলাপ শোনা যায়। এক কর্মকর্তাকে তার সহকর্মীর উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘অবস্থা দেখে তো মনে হইতেছে ভিভিআইপি সিকিউরিটি দিচ্ছি।’ পরক্ষণেই আবার ওয়াকিটকিতে অন্য স্থানে দায়িত্বরতদের নির্দেশনা দেন, যেন একজন মানুষও বহরের মধ্যে না ঢোকে খেয়াল রাখবেন।’

খালেদা জিয়া আসার আগ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেলের নতুন ইউনিটের পাশে সিটি করপোরেশন মার্কেটের সব দোকান ছিল বন্ধ। ফ্লাইওভারের ভেতরের বেষ্টনী ও পাশের সড়কে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সাধারণ মানুষের চলাচলও ছিল বন্ধ।

পুরো সময়টায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চাঁনখার পুল মোড়, শহিদুল্লাহ হলের সামনের সড়ক ও নাজিম উদ্দিন রোডে ছিলেন। খালেদা জিয়ার আসার সময় তারা ‘নেত্রীর ভয় নেই-রাজপথ ছাড়ি নাই’ এমন নানা স্লোগান দেন।

বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে চাঁনখার পুল মোড় থেকে আদালতের দিকে এগোতে থাকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। এ সময় পেনাং হোটেলের সামনে থেকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে খালেদার গাড়ির কাছে ছুটে যান মহিলা দলের নেত্রী নিলুফা ইয়াসমীন। তার দেখাদেখি আরো কয়েকজন মহিলা দল ও ছাত্রদল কর্মীকে গাড়ির কাছে গিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে অবশ্য পুলিশ দৌড়ে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।

অবশেষে শেষ হলো প্রায় ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধশ্বাস অবস্থার। আস্তে আস্তে খুলে দেয়া হলো রাস্তার সব ব্যারিকেড। সুযোগ পেয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে চলতে শুরু করল যানবাহন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে দায়িত্ব গুটিয়ে চলে যেতে থাকেন।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech