স্থানান্তর হতে পারে জিয়ার কবর

  

পিএনএস ডেস্ক: অবশেষে লুই আই কানের করা জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশা দেশে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির আর্কাইভ থেকে পাঠানো নকশাগুলো গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছে। পরে তা জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, আমরা নকশাগুলো বুঝে পেয়েছি। এখন এটা সংরক্ষণ করা হবে। মূল নকশার চারটি কপি আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নকশার আলোকে অবৈধ স্থাপনা সরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তের আলোকে হবে।

লুই কানের নকশার বাইরে সংসদ ভবন এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থাপনা বিভিন্ন সময়ে নির্মিত হয়। এর মধ্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরও রয়েছে। মূল নকশা পাওয়ার পর সেগুলো সরানো হবে বলে জানিয়েছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। গত অক্টোবরে তিনি সংসদে জানিয়েছিলেন, নকশা পাওয়ার পর সংসদ এলাকা থেকে কবর সরিয়ে ফেলা হবে।

এদিকে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর সব চেষ্টার বিষয়ে সরকারকে হুশিয়ার করে আসছে বিএনপি।

১৯৬১ সালে ১৫ মিলিয়ন ডলারের অনুমিত ব্যয় ধরে লুই কানের নকশা অনুযায়ী সংসদ ভবন কমপ্লেক্সটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। সে সময় স্থপতি মাজহারুল ইসলামকে এই ভবনের স্থপতি নিয়োগ করা হয়। তার প্রস্তাবেই লুই আই কান এই প্রকল্পের প্রধান স্থপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে কমপ্লেক্সটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৮২ সালে।

জাতীয় সংসদ ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ নিয়ে সমালোচনার পরিপ্রেেিত ২০১৪ সালে লুই আই কানের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংসদ ভবনের মূল নকশা আনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর লুই কানের প্রতিষ্ঠান ডেভিড অ্যান্ড উইজডমের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থাপত্য অধিদপ্তর।

সংসদ ভবন এবং এর আশপাশের এলাকার ছোট-বড় প্রায় আট হাজার নকশা ও ডকুমেন্ট পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির কাছে রয়েছে। স্থাপত্য অধিদপ্তরের পরামর্শে সংসদ ভবন ও তার আশপাশের নকশা যাচাই-বাছাই শেষে ৮৫৩টি নকশা ও ৬০টি ডকুমেন্ট আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার আর্কিটেকচারাল আর্কাইভ কর্তৃপরে সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ।

নকশা আনতে গত ৭ জুন সরকারের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র যায়। সফরকালে লুই আই কানের প্রতিষ্ঠান ডেভিড অ্যান্ড উইজডমের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাাৎ করে তারা।

মূল নকশা ভেঙে চন্দ্রিমা উদ্যানে সমাহিত করা হয় সাকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় জিয়া নিহত হওয়ার পর প্রথমে তাকে চট্টগ্রামে সমাহিত করা হয়েছিল। পরে সেখান থেকে কবর তুলে এনে চন্দ্রিমা উদ্যানে সমাহিত করা হয়।

এ ছাড়া সংসদ ভবন এলাকার পশ্চিম-দণি সীমানায় কবরস্থান গড়ে তোলা হয়। যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী খান এ সবুর ও শাহ আজিজুর রহমানের কবরও রয়েছে।

ওই কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খান, সাবেক মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়া, লেখক-সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার তমিজউদ্দীন খানের কবরও রয়েছে।

এ ছাড়া লুই কানের নকশা ভেঙে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাড়িও নির্মাণ করা হয়েছে বিগত চারদলীয় জোট সরকার আমলে।

মূল নকশা অনুযায়ী, সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের পাশাপাশি নতুন সচিবালয় শেরেবাংলানগরে হওয়ার কথা। কিন্তু বিএনপি সরকার সেখানকার ১০ একর জমিতে বাংলাদেশ-চিন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণ করে। পরে এর নতুন নামকরণ করা হয়Ñ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র।

১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি এ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, লুই আই কানের মূল নকশার প্রথম ধাপ ছিল ২০৮ একর জায়গার ওপর জাতীয় সংসদ ভবন নির্মাণ। যার সামনে ও পেছনে থাকবে বিস্তীর্ণ সবুজ খোলা মাঠ। চারদিকে আট লেনের সড়ক, মাঝখানে লেক। দ্বিতীয় ধাপে লেকের পর বিস্তীর্ণ সবুজ। এ ছাড়া বাকি জায়গায় গড়ে তোলা হবে সচিবালয়, লাইব্রেরি, জাদুঘর, হাসপাতালসহ প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক বলয়।

সুত্র: দৈনিক আমাদের সময়


পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech