আওয়ামী লীগের টার্গেট

  


পিএনএস ডেস্ক: আগামীতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই মতায় আসতে চায় আওয়ামী লীগ। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছে দলটি। সৎ, যোগ্য, দ, সাহসী ও জনপ্রিয় নেতাকে বেছে নিতে কয়েক স্তরে চলছে প্রার্থী জরিপের কাজ। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সমান্তরালভাবে কাজ করছেন। কোন জেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা কেমন, কোথায় কোন নেতা বেশি জনপ্রিয়, সৎ, সাহসী ও স্থানীয় সমস্যাগুলো কী সেসব চিহ্নিত করে এসব তথ্য তুলে আনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের। বিশেষ করে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর বিষয়টিকে আরো গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে দলের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সরকারের অবস্থান অনেকটাই বর্তমানে সুসংহত হলেও ওই নির্বাচনের কলঙ্ক থেকে সরকার বের হতে পারেনি। ওই নির্বাচন নিয়ে এখনো রাজনীতিতে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তা থেকে বের হতে আগামী নির্বাচনকে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে পরিণত করতে চান আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা। তাদের মতে, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং সরকার এখন বেশ শক্তিশালী অবস্থানে। অন্য দিকে প্রধান বিরোধী পক্ষ বিএনপি জোট বেশ নাজুক সময় পার করছে। সরকারের দমন-পীড়ন বিভিন্ন কৌশলে বিরোধীরা এখন বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। যেভাবে এবং যার অধীনেই নির্বাচন হোক বিরোধীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এমন ধারণায় আওয়ামী লীগের। এ অবস্থায় বিরোধীরা নির্বাচনে এলেও নানা কৌশলের কারণে আওয়ামী লীগই আবার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সে জন্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে সরকার এক দিকে যেমন আবারো ক্ষমতায় আসবে, তেমনি আরেকটি ‘ভোটারবিহীন একতরফা’ নির্বাচনের কলঙ্ক থেকে বের হতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। তবে ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট অংশ নিলে তা সরকারের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জেরও হবে বলে মত নীতিনির্ধারকদের। এ ক্ষেত্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সরকারবিরোধী ‘নীরব বিপ্লবের’ সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। সে জন্য দলের প্রার্থী মনোনয়নকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

দলের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে গত বছরের জুন থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। কয়েকটি গোয়েন্দা বিভাগ এবং দলের বেশ কয়েকজন নেতা নীরবে সেই কাজটি করছেন। তারা দেশের সব ক’টি সংসদীয় আসনে দলের জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের বের করার কাজ করছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জেলা পরিষদ এবং নাসিক নির্বাচনের পর জনপ্রিয় প্রার্থী বের করাকে আরো গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

দলের বেশ কয়েকজন নেতা জানান, নারায়ণগঞ্জে জনপ্রিয় প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থন দেয়ায় সেখানে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ, অন্য দিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আবার ভুল প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ায় অনেক জেলায় দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছে। বিষয়টি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। আর আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি জোট অংশ নেয় এবং এভাবে ভুল প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয় তবে সেটি ক্ষমতাসীন দলের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সে কারণে জনপ্রিয় প্রার্থীদের খুঁজে বের করার কাজটি বেশ জোরেশোরে চলছে।

সম্প্রতি দলের একজন নীতিনির্ধারকের কার্যালয়ে গিয়ে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা আগামী নির্বাচনে একজনের মনোনয়নের ব্যাপারে সুপারিশ করেন। জবাবে ওই নেতা তাদের সাফ জানিয়ে দেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিএনপি জোট অংশ নিতে পারে। সে জন্য দলীয় মনোনয়ন পাওয়া বেশ কঠিন ব্যাপার হবে। কোনো ধরনের বিতর্কিত বা কম জনপ্রিয় প্রার্থীকে কোনোভাবেই মনোনয়ন দেয়া হবে না। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে বেশ কঠোর। তিনি প্রার্থীদের ব্যাপারে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। সেখানে কোনো তদবির বা সুপারিশে কাজ হবে না।’

এ ছাড়া দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সম্প্রতি একাধিকবার বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিতর্কিত কেউ দলের প্রার্থী হতে পারবে না। দল খোঁজখবর নিয়ে সৎ ও জনপ্রিয় প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে।’

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য জানান, ডা: আইভীকে হঠাৎ করে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। নারায়ণগঞ্জে আইভীর জনপ্রিয়তা সম্পর্কে আগেই খোঁজখবর নিয়ে রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরই তাকে মনোনয়ন দেয়ার মনস্থির করেন তিনি। আগামী নির্বাচনেও তার ব্যত্যয় হবে না। জনপ্রিয় প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবেন শেখ হাসিনা এটা নিশ্চিত।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আগামীতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই মতায় আসতে চায় আওয়ামী লীগ। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে সৎ, যোগ্য, দ ও সাহসী রাজনীতিককেই বেছে নিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে। তাদের ব্যাপারে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। যারা দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির চর্চা যারা করেন, যারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন ও দুর্নীতিপরায়ণ, দেশের ও দলের জন্য রাজনীতি না করে নিজের উন্নয়নের রাজনীতি করেন তারা কেউ দলের মনোনয়ন পাবে না।

পিএনএস/আনোয়ার


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech