কর্মসূচি দিলেই বাধা

  


দীর্ঘ দিন ধরেই বড় ধরনের কোনো সমাবেশের অনুমতি পাচ্ছে না বিএনপি। কর্মসূচি ঘোষণা দিলেই বাধার মুখে পড়ছে দলটি। তাদের কোনো ধরনের সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। ২০১৫ সালের শুরুতে টানা তিন মাস হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করলেও তারপর থেকে দৃশ্যত কোনো বড় আন্দোলন করেনি দলটি। দীর্ঘ এই সময়ে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে তারা কিছু সভা-সমাবেশ করে ঘরোয়াভাবে। কিন্তু প্রকাশ্যে মাঠে কোনো সমাবেশ করতে গেলেই অনুমতি দেয়া হয় না বিএনপিকে। দলটির কর্মসূচি ঘিরে একধরনের বিধিনিষেধ চলছে। দিবসভিত্তিক শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েও মিলছে না অনুমতি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত তিন বছরে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বিএনপি সভা-সমাবেশের অনুমতি পায়নি। সাতবার সমাবেশের অনুমতি চাইলেও তা দেয়নি পুলিশ। সর্বশেষ এ বছরের ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে ৭ জানুয়ারি সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি। ঢাকায় দু’টি স্থানে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি বিএনপিকে। এর পেছনে নিরাপত্তাজনিত কারণ, সংঘর্ষ বা সহিংস কর্মকাণ্ডকে কারণ হিসেবে দাঁড় করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা।

এমতাবস্থায় বিএনপির নেতারা বলছেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র এবং জনগণকে মুখোমুখি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এই সরকার নিজেরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে; কিন্তু গণতন্ত্রের চর্চা করে না। এ কারণেই সমাবেশের অনুমতি দেয় না প্রশাসন। কিন্তু জনগণ যখন ঠেকে যাবে তখন তো আর বসে থাকবে না।

সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি উপলে সমাবেশ করতে ৭ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী বা নয়াপল্টন দলীয় অফিসের সামনে অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি; কিন্তু প্রশাসন চুপ থাকে। এর প্রতিবাদে সারা দেশের জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা দেয় দলটি। কিন্তু ওই কর্মসূচিতে সরকারদলীয় লোকজন ব্যাপক আক্রমণ চালায়। বরিশালে প্রকাশ্যে বিএনপির নারী কর্মী ও নেত্রীদের হেনস্তা করা হয়। এর আগে ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলে সমাবেশ করতে ৭, ৮ ও ১৩ নভেম্বর অনুমতি চাইলেও পুলিশ কোনো সাড়া দেয়নি। ফলে সারা দেশে এবং মহানগরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।

এ ছাড়া ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর মানববন্ধন, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর সাদেক হোসেন খোকার বাড়ির মালিকানা বাতিলের প্রতিবাদে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে, ২০১৪ সালের ১৪ মে এবং ২২ মে গুম-খুনের প্রতিবাদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে সমাবেশ করতে সম হয়নি দলটি। ওই দিন সমাবেশস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। তবে বিএনপি গাজীপুর বিভাগে এ দিন হরতাল পালন করে। এর পর থেকেই বিএনপির সমাবেশ ঘিরে একধরনের বিধিনিষেধ লক্ষ করা যায়।

সভা-সমাবেশে বাধা দেয়া প্রসঙ্গে সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনো গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর থেকে বিএনপি সাতবার সমাবেশ করতে অনুমতি চেয়েছে, সরকার দেয়নি। সারা দেশে এখন দুটো আইন। আওয়ামী লীগের জন্য একটি আর অন্য সবার জন্য আরেকটি। তারা ভিন্নমতের জনসভা বা মতামত সহ্য করতে চান না। এর কারণ আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

তিনি বলেন, শুধু বিএনপি নয়, সব বিরোধী দল ও মতকে রাজপথে নামতে দেয় না এ সরকার। তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির যারা রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রর বিরোধিতা করে আন্দোলন করছেন তাদেরও একই অবস্থা। এরা আবার গণতেন্ত্রর কথা বলে!

আরো জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর দলের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৩০ আগস্ট রাজধানীতে শোভাযাত্রা করতে চেয়েছিল বিএনপি। পুলিশ অনুমতি না দেয়ায় পরে ৩১ আগস্ট করার কথা বললে তাতেও অনুমতি দেয়নি পুলিশ। গত ১৯ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের ষষ্ঠ কাউন্সিল করতে চাইলেও অনুমতি মেলেনি প্রশাসনের। এ নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনাও হয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বিএনপিকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ভেতরে স্বল্প পরিসরে কাউন্সিল আয়োজন করতে হয়। বছরের শুরুতে একাধিক অনুষ্ঠান করতে চেয়েও অনুমতি পায়নি বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহদুদ চৌধুরী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রকে হরণ করা হয়েছিল, আমরা জাতির সামনে সেটি তুলে ধরতে সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম; কিন্তু অনুমতি দেয়নি। কারণ বর্তমান সরকার রাষ্ট্র এবং জনগণকে মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে গেছে। তারা সম্পূর্ণ গায়ের জোরে দেশ চালাচ্ছেন। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও আসলে তারা গণতন্ত্রের চর্চা করেন না। এ কারণেই সমাবেশের অনুমতি দেয় না সরকারের অনুগত প্রশাসন।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপি কী করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল। এই দল জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। সরকার যদি জনগণকে সুযোগ না দেয় তাহলে তো কিছু একটা করতে হবে। জনগণ যখন ঠেকে যাবে তখন তো আর বসে থাকবে না।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রসমাবেশ করেছে তারা। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech