‘খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হলেও নির্বাচন করতে পারবেন’

  

পিএনএস ডেস্ক: সাজাপ্রাপ্ত হলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ অাহমেদ।

শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেন। বিএনপি-জোটের শরিক দল লেবার পার্টি পিলখানা ট্র্যাজেডি স্মরণে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মওদুদ বলেন, ‘আজকে একটা ধারণা পরিষ্কার করে বলে দেই, বেগম খালেদা জিয়ার যদি সাজা হয়ে যায় তাহলে তো উনি আর নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না। এটা কথা সঠিক নয়। পরিষ্কার করে বলছি, মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়ার যদি সাজাও হয় তাহলে তার জনপ্রিয়তা আরও অনেক বেড়ে যাবে। এটা বাংলাদেশের রাজনৈতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি আমার সঙ্গে দ্বিমত করবেন না।’

তিনি বলেন, ধরে নিলাম, মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়ে গেলো, ভালো কথা। সাজা হয়েছে, আমরা আপিল ফাইট করবো। আপিল হল, যে বিচার হয়েছে এর ধারাবহিকতা। তখন আমরা তার জন্য জামিন নেবো। সুতরাং সাজা হলেও নির্বাচনে খালেদা জিয়া সরাসরি অংশ নিতে পারবেন।

শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারবেন না, বরং তিনি দল এবং জোটের নেতৃত্ব দিতে পারবেন। এমন একটা ভাব, উনি যদি সাজাপ্রাপ্ত হন, তাহলে আগামী তিন বছর বা সাত বছর জেলখানায় থাকবেন। এটা হয় না। দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আপিল ফাইট করার পরপরই আমরা জামিনের জন্য দরখাস্ত করবো। সাধারণত তিন বছর সাজা হলে এমনিতেই তো জামিন হয়। আর সাত বছর সাজা হলে অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে জামিন নিশ্চিত হবে। খালেদা জিয়া জেলখানা থেকে আবার মুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন। এটা-ই হল কথা-বলেন মওদুদ আহমদ।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে কমিশন কী করবেন, না করবেন এগুলো অপ্রাসঙ্গিক। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। এবং গণতান্ত্রিক পরিবশ ফিরিয়ে আনতে হবে।’

মওদুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মাঝেমাঝে বলেন, একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নিবার্চন হবে। সেটা হতে পারে যদি তার আগে আমাদের দলীয় সকল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সকল মামলা যে গুলো ২০০৭-৮ সালে হয়েছিল সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়। তাহলে বলবো দেশে একটি পরিবেশ ফিরে এসেছে। সরকার গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্বিগ্ন ও একইভাবে উৎসাহী।’

পিলখানা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে মওদদু আহমদ অভিযোগ করেন, বিডিআর বিদ্রোহ দমনে সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়নি। কারা এই সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার পেছনে ছিল, কী উদ্দেশ্য ছিল এসব জনগণকে জানাতে হবে। কেউ এর দায় এড়াতে পারে না।

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, এনপিপি ড. চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ প্রমুখ।


পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech