মন্ত্রিসভায় রদবদলে কারা হচ্ছেন মন্ত্রিসভার নতুন মুখ

  

পিএনএস ডেস্ক: বর্তমান মন্ত্রিসভা অনেকদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছে জানিয়ে সরকারে রদবদলের আভাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার এমন কথার পরই শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। কারা হতে যাচ্ছেন মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ।

সোমবার (৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদেরকে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদেরকে প্রশ্ন করা হয়, জাতীয় পার্টির নতুন রাজনৈতিক জোটের প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীসভায় নতুন মুখ দেখা যাবে কী না। জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায়তো রদবদল হয়, একটা হবে, অনেকদিনতো হয়ে গেছে। তবে আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক জানান, মন্ত্রিসভায় রদবদল হলে সেখানে কারা থাকবেন সেটা প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করবেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, ঠিক কখন রদবদল হবে সেটা কেউ জানে না।

সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় রদবদলের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও নতুন মুখ আসতে পারে। পাশাপাশি রাজনীতিতে পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করা হতে পারে।

সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান, দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমানও রয়েছেন গুডবুকে।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের পদ ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন তিনি।

আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন এমন আভাস দিচ্ছে সূত্রগুলো। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদও আলোচনায় রয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন এমন আলোচনায় রয়েছেন নওগাঁর সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম, সিরাজগঞ্জের সংসদ সদস্য ডা. হাবীবে মিল্লাত, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাজাহান কামাল।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মন্ত্রিপরিষদে পরিবর্তন আসবে। বহুদিন হলো মন্ত্রিপরিষদে রদবদল হয় না। তবে কারা আসবেন, এটা শুধু প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন।

এর আগে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা টানা দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত সরকারে নতুন মুখ বা দপ্তর পরিবর্তন হয়েছে তিন দফা। ২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এইচ মাহমুদ আলীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নজরুল ইসলামকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রায় দেড় বছর পর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভায় যোগ হয় নতুন পাঁচ মুখ। প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হন একজন।

সেদিন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি তার আগের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই দায়িত্ব পালন করছেন।

একই দিন মন্ত্রী হিসেবে আরও শপথ নেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম (ডাক ও টেলিযোগাযোগ) এবং নুরুজ্জামান আহমেদ (খাদ্য)।

এরপর মন্ত্রিসভায় আরও একটি রদবদল হয়। সেটি চমকের তৈরি করে দেশজুড়ে। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সৈয়দ আশরাফকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। একই দিন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বদলে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। এক সপ্তাহ পর সৈয়দ আশরাফ পান তার নতুন মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech