‘হাওয়া ভবনের আশ্বাসেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা’

  

পিএনএস : হাওয়া ভবন থেকে আশ্বাস পাওয়ার পরই রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা। হামলাকারীদের এ আশ্বাস দিয়েছিলেন মামলার আসামি তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সোমবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আসামি মুফতি আবদুল হান্নানের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির আলোকে এ তথ্য তুলে ধরেন।

পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলঘ্ন ভবনে স্থাপিত আদালতে ২১ আগস্ট হামলার দুটি মামলার বিচার একসঙ্গে চলছে। সোমবার নবম দিনে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন মঙ্গলবার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

সোমবার আদালতে প্রধান কৌঁসুলির যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে সহায়তা করেন হাবিবুর রহমান মজুমদার, আকরাম উদ্দিন শ্যামল, ফারহানা রেজা, আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত প্রমুখ।

প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, মামলার অন্যতম আসামি মুফতি আবদুল হান্নানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সমর্থন করে ১২ জন সাক্ষী ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে বলা হয়, তারা আবদুস সালামের সরকারি বাসভবন ধানমণ্ডি ও বনানীর হাওয়া ভবনে বসে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

প্রধান কৌঁসুলি বলেন, সমাবেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হামলায় গ্রেনেড সরবরাহ করে মাওলানা তাজউদ্দিন। তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টু জঙ্গি নেতাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, মুফতি আবদুল হান্নান তার জবানবন্দিতে ২১ আগস্ট হামলার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কোন অবস্থায় কারা কীভাবে জড়িত ছিল, সেসবের বর্ণনা করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ তা আদালতে তুলে ধরেছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী।

ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এক পর্যায়ে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে যায়। ২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।

২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আখন্দ। তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম যুক্ত করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফেস্ম্ফারক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech