ধর্ষণ মহামারিতে পরিণত: শিবির সভাপতি

  

পিএনএস : ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, ছাত্রলীগের একের পর নৃশংস ও লোমহর্ষক অপকর্মে দেশের মানুষ আজ আতঙ্কিত। ধর্ষণ যেন এক মহামারিতে পরিণত হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের জায়গাও ছাত্রলীগের ধর্ষকদের হাতে নারীরা নিরাপদ নয়। বরং সরকারের প্রশ্রয়ে দেশকে খুন-ধর্ষণের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে ছাত্রলীগ।

আজ সোমবার এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরী আয়োজিত সাবেক মহানগরী সভাপতি ও সাবেক কার্যকরী পরিষদ সদস্য মরহুম ডা. মোজাম্মেল হকের স্বারক প্রকাশ উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শাখা সভাপতি শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান মজুমদার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক শাহ মাহফুজুল হক, দাওয়া সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ইয়াছিন আরাফাত বলেন, সম্প্রতি শরিয়তপুরে ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেন হাওলাদার ছয় নারীকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে বরিশালে ছাত্রলীগ নেতা সুমন হোসেন মোল্লা কর্তৃক স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে ধর্ষণ, বরগুনায় তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা ও লাশ গুম, রাজশাহীতে শিশু ও চুয়াডাঙ্গায় মদ্যপ অবস্থায় তরণীকে ধর্ষণ করতে গিয়ে গণধোলাই খেয়েছে ছাত্রলীগ নেতারা। দেশের বেশির ভাগ ধর্ষণ ও খুনের সাথে ছাত্রলীগ ও সরকার দলীয় লোকজন জড়িত তা বার বার গণমাধ্যমের কল্যাণে জনগণ দেখছে। এর আগেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরি উৎসবচ পালন করে ছাত্রলীগ নেতা জাতির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছিল।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের ধর্ষণ ও খুনের ধরণ এবং মাত্রা আইয়্যামে জাহেলিয়াতকেও হার মানাচ্ছে। অন্যদিকে নিজ ও প্রতিপক্ষ দলের নেতাকর্মীরা খুন হচ্ছে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হাতে। প্রশ্নপত্র ফাঁসেও নেতৃত্বে দিচ্ছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। অথচ এখন পর্যন্ত তার কোনোটিরই সুষ্ঠু বিচার হয়নি। ফলে উৎসাহ পেয়ে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের লোমহর্ষক অপকর্ম বেড়েই চলেছে। যা গোটা জাতিকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী তরুণী এবং তাদের অভিভাবকরা শঙ্কায় দিনাতিপাত করছে।

শিবির সভাপতি বলেন, ধর্ষণের মত জঘন্য অপকর্ম ধারাবাহিকভাবে করলেও সরকার ও প্রশাসনের অবহেলায় এসব ঘটনায় সম্পৃক্ত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে পুলিশের পাশ কাটিয়ে চলার ভূমিকায় ছাত্রলীগ তরুণীদের সম্ভ্রম বিক্রি ও নির্বিচারে খুন সন্ত্রাসের লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। জনতার গণধোলাই ভয়াবহ রূপ ধারণ করার আগেই ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

ডা. মোজাম্মেল হক স্মরণে শিবির সভাপতি বলেন, বর্তমান অবক্ষয়ের যুগে ছাত্র নামধারী ক্রিড়ণকদের অপকর্মের যুগে তিনি এক আলোক বর্তিকা হিসেবে আমাদের সামনে থাকবেন। ইসলামী আন্দেলনের এক উজ্জল নক্ষত্র হিসেবে সব তরুণদের অনুপ্রাণিত করবেন তিনি। ছাত্রশিবির তাকে কোনো দিনই ভুলবে না। তিনি সফল মানুষের দৃষ্টান্ত হয়ে আমাদের মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবেন।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech