বিএনপির নতুন চ্যালেঞ্জ

  

পিএনএস ডেস্ক: প্রায় দুই বছর পর রাজধানীতে জনসভা করতে পারায় বেশ উৎফুল্ল দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এ জনসভার মাধ্যমে দলের ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। জনসভা থেকে প্রাপ্ত উদ্দীপনার প্রভাব আগামী নির্বাচনেও পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাই সমাবেশের পর একাদশ জাতীয় নির্বাচনকেই এখন নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি।

সূত্র জানায়, জনসভার মৌখিক অনুমতি পাওয়ার পরও দলের কিছু নেতাকর্মী শঙ্কায় ছিল। বিএনপির প্রতি সরকার এতটা নমনীয় হবে এটা তাদের চিন্তাতেও ছিল না। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোহরাওয়ার্দীতে জনসভা করেছে বিএনপি। দলের নেতাদের দাবি সরকারের বাধার পরও জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সরকারের নানা বাধা সত্ত্বেও সোহরাওয়ার্দীতে অনুষ্ঠিত জনসভা বিএনপির নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে নতুন মোড় ঘুরাবে।

সোহরাওয়ার্দীতে জনসভার বিষয়ে বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরিফুল আলম বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও রাজধানীতে সমাবেশ করতে পারায় দেশের মানুষ উৎফুল্ল ও আনন্দিত। সমাবেশে লোকসমাগম ঠেকাতে সরকার অনেক বাধার সৃষ্টি করেছিল। তবে সব বাধা অতিক্রম করে ম্যাডাম জনসভা করেছেন। রাজধানীতে জনসভা করার প্রভাব সারাদেশেই পড়েছে। সবাই উৎফুল্লা, উজ্জীবিত।

‘পাশাপাশি দেশনেত্রী দেশের স্বার্থে গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার জন্য। আমরা মনে করি বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। সহিংস রাজনীতি বিএনপি পছন্দ করে না। বিএনপি সবসময় জনগণের কথা বলে। জনগণের জন্যই রাজনীতি করে। আগামী নির্বাচনটা দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেত্রী সেটাই বুঝাতে চেয়েছেন’।

নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ দরকার। এ প্রথম উনি ধানের শীষে ভোট চাইলেন। আমরা ধারণা করছি নির্বাচনের জন্য দল প্রস্তুত হচ্ছে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ নির্বাচনের যে দাবি, সেনা মোতায়নের যে দাবি সব মিলিয়ে নির্বাচনমুখী একটা আমেজ জনসভায় ফুটে উঠেছে বলে জানান তিনি।

দিলের ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, দীর্ঘদিন সভা সমাবেশ করতে না পারায় নেতাকর্মীদের মনে যে চাপা ক্ষোভ ছিল তা জনসভায় উপস্থিতি দিয়েই জানান দিয়েছে। জনসভার মাধ্যমে তারা উজ্জীবিত ও চাঙ্গা হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে যে আবেগ যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে তা গত পাঁচ বছরেও দেখা যায়নি। আমরা অল্প সময়ের মধ্যে একটা সুদিনের অপেক্ষায় আছি। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে পরস্পরের মধ্যে সহনশীল থেকেই রাজনীতি করার ম্যাসেস দিয়েছেন নেত্রী।

সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, নির্বাচন আন্দোলন দুটোর জন্যই প্রস্তুতি নিতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে যেসব অপপ্রচার চলছে এসবের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত না এটাও তিনি জনসভায় বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। ম্যাডাম স্পষ্ট করেছেন তিনি প্রতিশোধ পরায়ণ নয়।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জনসভার মাধ্যমে ম্যাডাম দলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। যেমন বলা যায় উনি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবেন না তা স্পষ্ট করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না এটাই খালেদার জিয়ার স্ট্যান্ড। দীর্ঘদিন পর জনসভায় বক্তব্য দেয়ার কারণে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বেশ উৎফুল্ল বলে দাবি করেন তিনি।

দলের সহ শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা বলেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্যে একটা বার্তা স্পষ্ট যে তিনি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবেন না। উনি আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে নিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবেন। শত বাধার পরও জনসভায় যেভাবে মানুষের ঢল নেমেছে তা আওয়ামী লীগের অত্যাচারেরই বহিঃপ্রকাশ। এ জনসভার মাধ্যমে ঢাকাসহ তৃণমূল নেতাকর্মীরা খুবই চাঙ্গা। খুবই উৎফুল্লা।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি বিএনপির পরপর তিনিটি ঘটনার কারণে নেতাকর্মীরা চাঙ্গা। একটি ম্যাডামকে এয়ারপোর্ট থেকে রিসিপশন। দ্বিতীয়টি কক্সবাজার যাওয়ার পথে লাখ লাখ লোকের সমাগম এবং তৃতীয়টি সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ। যারা গণতন্ত্রের মুক্তি চায় তাদের সবার মধ্যেই একটা উদ্যোম দেখা দিয়েছে। আমার বিশ্বাস সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের মাধ্যমেই গণ অভ্যুথানের যাত্রা শুরু হলো।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী বলেন, দলের চেয়ারপারসন দীর্ঘদিন সরকারের দমন পীড়নের কারণে জনসভার মাধ্যমে জনগণকে কোনো বার্তা দিতে পারেননি। জনসভায় বোঝানোর চেষ্টা করেছেন তিনি জনগণের সঙ্গেই আছেন। এ দেশেই তার জন্ম এ দেশেই তার মৃত্যু হবে। কোনো পরিস্থিতির মুখে তিনি বিদেশ পালিয়ে যাবেন না। তার বক্তব্য শুনে নেতাকর্মীদের উপলব্দি হয়েছে যে দেশ, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার স্বার্থে বিশেষ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ম্যাডাম সোহরাওয়ার্দীর জনসভায় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার বার্তা দিয়েছেন। আমরা আগের দাবিতেই অটল আছি। তিনি নেতাকর্মীদের এ বার্তাও দিয়েছেন যে নিজেদের মধ্যে সুসংগঠিতের ধারাটা যদি বজায় থাকে তাহলে সরকারের কোনো বাধা অত্যাচার নির্যাতন বিএনপির জনস্রোত ঠেকাতে পারবে না। সমাবেশে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। আর একই সঙ্গে জাতিকেও তিনি সুন্দর একটা বার্তা দিয়েছেন, আমরা আলোচনা চাই, জাতীয় ঐক্য চাই। উনি বলেছেন আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিহিংসামূলক আচরণ বা শক্রতা করা হবে না।

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, মামলা হামলায় দলের নেতাকর্মীদের অবস্থা এমন ছিল যে এ জনসভাটা আসলেই খুব দরকার ছিল। জনসভার মাধ্যমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনের নির্বাচন এবং বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয় বলে তিনি যে ঘোষণা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করে যেতে হবে।

এর আগে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর এলাকায় খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে নেতাকর্মীর ব্যাপক উপস্থিতি এবং কক্সবাজারে যাওয়া-আসার পথে নেতাকর্মীদের রাস্তায় নেমে আসার চিত্রও ছিল চোখে পড়ার মতো। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে আত্মবিশ্বাসীও করে তুলেছিল। সর্বশেষ সোহরাওয়ার্দীর জনসভাকে সফল ভেবে এখন নির্বাচনমুখী কর্মকাণ্ডে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে চায় বিএনপি।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech