৩০০ আসনে যাদের মনোনয়ন দিচ্ছেন খালেদা জিয়া

  

পিএনএস ডেস্ক: সম্প্রতি ময়মনসিংহের তিন সাংগঠনিক জেলা কমিটি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে ওয়ান-ইলেভেনের বিএনপির কথিত ‘সংস্কারপন্থী’ নেতা সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেন খান দুলুর কথা আলোচনায় ওঠে। এ সময় এক নেতা বেগম জিয়াকে বলেন, ময়মনসিংহ সদরের আসনটি ধরে রাখতে হলে দুলুর বিকল্প নেই। তিনি নেতাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন, দুলুর পরামর্শ নিয়ে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা কমিটি দিতে। তার জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক যোগ্যতাকে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

সূত্রমতে, শেষ পর্যন্ত দুলুর মতামতের ভিত্তিতেই ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণের কমিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে। যে কোনো দিন কমিটি ঘোষণা হবে। একইভাবে ময়মনসিংহ মহানগর ও উত্তর শাখার কমিটিও চূড়ান্ত করা হয় একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে এমন সম্ভাব্য প্রার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে। এরই মধ্যে বৃহত্তর ময়মনসিংহে ১৩টি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ও দলের প্রতি ত্যাগকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানান, ৮১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৫১টির কমিটি দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই বরগুনা, ময়মনসিংহ মহানগর, ময়মনসিংহ দক্ষিণ, ময়মনসিংহ উত্তর, গাজীপুর মহানগর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ফেনীর কমিটিও দেওয়া হবে। এসব জেলা নেতাদের ডেকে একাদশ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী কে হবে তা আগে চূড়ান্ত করা হয়। এরপর কমিটির খসড়া প্রস্তুত করা হয়। আগে দেওয়া ৫১ কমিটিতেও একইভাবে প্রার্থী বাছাই করে পরে কমিটি দেওয়া হয় বলে জানান তারা।

এর আগেও কয়েকজন সংস্কারপন্থী নেতাদের বিএনপি রাজনীতিতে সক্রিয় হবার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলকেও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন গত বছর।

জানা যায়, প্রার্থী বাছাইয়ে কয়েকটি প্রক্রিয়া সামনে রাখছেন বেগম খালেদা জিয়া। একটি হচ্ছে, দল করে না এমন কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে স্বাধীনভাবে খোঁজ খবর নিয়ে ৩০০ আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা তৈরি করছেন তিনি। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমেও একটি তালিকা করছেন। তৃতীয় প্রক্রিয়াটি হচ্ছে, দল সমর্থিত সাবেক আমলা ও বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া। সর্বশেষ প্রক্রিয়াটি হলো— কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা সফরে তাদের মতামতের ভিত্তিতে। সবগুলোর সমন্বয়ে ৩০০ আসনে একটি খসড়া তালিকা করা হয় বলে সূত্র জানায়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কমিটি গঠন শুধু নির্বাচনকে সামনে রেখে নয়, আন্দোলন, দক্ষতা, যোগ্যতা, ক্লিন ইমেজ, জনপ্রিয়তাসহ নানা দিক বিশ্লেষণ করেই দেওয়া হয়। অপেক্ষাকৃত যোগ্যদেরও মূল নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়। সংগঠনের একটি দিক হলো কমিটি। তাই এটা বছরজুড়েই চলতে থাকে। বিএনপির জেলা ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি প্রায় শেষ পর্যায়ে।’ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ‘তৃণমূল নেতাদের মতামতের ভিত্তিতেই জেলা কমিটি দেওয়া হচ্ছে। ৩০টির মতো কমিটি বাকি রয়েছে। যে কোনো সময় এসব জেলা কমিটি দেওয়া হবে। নির্বাচন ও আন্দোলনকে সামনে রেখেই সাংগঠনিক নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা সফরেও কয়েকটি বার্তা দিয়ে পাঠানো হয়। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান বার্তা হচ্ছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নেতিবাচক রায় হলে তাত্ক্ষণিকভাবে নেতা-কর্মীদের রাজপথে নামতে হবে। কেন্দ্রের যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রস্তুত থাকতে হবে তৃণমূলকে। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কথাও বলা হবে। সফরে যাওয়া নেতাদের কাছ থেকে মূল্যায়ন রিপোর্ট ও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নেবেন বেগম জিয়া। এরই মধ্যে সিলেটে সাংগঠনিক সফর করে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি জানান, ‘নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ নতুন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। মোটামুটিভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবে না। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অনেক বাঘা বাঘা নেতারাও জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।’ বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি নিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে বিএনপি। নির্বাচনী তফসিল, নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে জনমত তৈরি করতে বিভাগীয় পর্যায়ে সফর করবেন বিএনপি প্রধান। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দাবিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও পাশে চায় দলটি। দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সরকারকে এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে বাধ্য করতে প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি চলছে নির্বাচন ও আন্দোলন প্রস্তুতি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর বলেন, ‘একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি যাবে। সেইভাবেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচনে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিকূল ও অনুকূল পরিস্থিতি সবকিছুই বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সরকারের সময় ক্ষমতাসীনদের আচরণ কেমন হবে তাও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূল পবিবেশ সৃষ্টি করতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।’

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech