আসাদুজ্জামান রিপনের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে বিএনপিতে তোলপাড়!

  

পিএনএস প্রতিনিধি : ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে বিএনপি'র মনোনয়ন না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। কিন্তু সেই স্ট্যাটাসটি আসাদুজ্জামান রিপন তার টাইম লাইন থেকে পরে মুছে ফেলেন। পরিবর্তে নতুন স্ট্যাটাসে মনোনয়ন না পাওয়ায় দুঃখ নেই উল্লেখ করে যারা তাকে নানাভাবে সমর্থন ও ভালোবাসা জানিয়েছেন তাদের কৃতজ্ঞতা জানান। তবে স্ট্যাটাসটি মুছে ফেলেও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে অনেকেই সেইভ করে রেখেছেন। পিএনএস পাঠকের জন্য স্ট্যাটাসটি দেওয়া হলোঃ-

মুছে ফেলা স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন-

"আমি ড. আসাদুজ্জামান রিপন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। সমাজ পরিবর্তনের সোনালী নেশায় কৈশোরেই প্রেমে পড়ে যাই রাজনীতির। হারাতে হয়েছে জীবনে অনেক স্বর্নালী সময়। চুরি হয়ে গেছে অবেলায় অনেক স্বপ্ন। বন্ধুরা যখন প্রেমিকার হাত ধরে গাছের নিচে প্রেমের জাল বুনছে, আমি তখন উদ্ধত হাতে পিচঢালা রাজপথে গগন বিদারি চিৎকারে আকাশ বাতাস কম্পিত করে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

বন্ধুরা যখন পড়ালেখার ইতি টেনে নিজেকে সেট করার জন্য এই অফিস ঐ অফিস ছুটছে, আমিও তখন তীব্র বেগে ছুটে চলছি, এই ডেরায়, ঐ ডেরায় পুলিশের সাথে ইঁদুর বিড়াল খেলে। বন্ধু যখন নিজেকে সেট করে প্রেমিকার মেহেদি রাঙা চুড়ি পরা হাত ধরে বিয়ের আসরের দিকে এগিয়ে যায়, আমিও তখন হাতে লোহার চুড়ি পড়ে অন্ধকার কারাগারে এগিয়ে যাই। লাল নীল আলোক সজ্জায় রঞ্জিত বাড়ি থেকে ফুলেল গাড়িতে যখন নতুন ঠিকানায় রওনা দেয় বন্ধুরা, আমিও তখন সাইরেন বাজানো গাড়ি নিয়ে এগিয়ে যাই। আমার গাড়িতে থাকে ফুলের পরিবর্তে নিশ্বাস নেওয়ার ছোট ছোট কিছু ফুটা। আমি অন্ধকার সেই লোহার গাড়ির ভিতর ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে বন্ধুর নতুন ঠিকানায় যাওয়া দেখি। আমিও যাচ্ছি পৃথিবীর মাঝে চার দেওয়ালের আরেক পৃথিবীতে। বন্ধু যখন প্রিয়াকে নিয়ে ফুলশয্যায়, আমি তখন আমদানি হয়ে ইলিশ ফাইলে... মেঘে মেঘে অনেক বেলা চলে যায়।

বন্ধু তার টাকায় বাবাকে হজে পাঠায় আর থানা -পুলিশ, কোর্ট-কাচারি ঘুরে আমার বৃদ্ধ বাবা ক্লান্ত হয়ে রণে ক্ষান্ত দিয়ে অন্যভুবনে চলে যান। আমার আর্ত চিৎকার চার দেওয়ালের মাঝে প্রতিধ্বনি হয়ে নিজের কানেই ফিরে আসে। একদিন মা হারিয়ে যান আকাশের তারা হয়ে, আমি তখন দূরে বহু দূরে অন্ধকার কারা প্রকোষ্টে।

এইভাবে পড়ন্ত বেলায় আমি দাঁড়িয়ে একা বড় একা। একটু তৃপ্তি নিজের প্রাণ প্রিয় সংগঠনের স্বীকৃতি, কিছু ভাই অভিভাবক, অনুজের ভালবাসা, হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা আমার প্রাপ্তি... বয়স ততক্ষণে মধ্য গগণ পার হয়ে পড়ন্ত বেলায় হেলে পড়ে।

এই জীবন কাহিনী শুধু আমার নয় রাজনীতির মায়াজালে বন্ধু সকলের। কালের সাক্ষী, কালের ইতিহাস হয়ে বয়ে বেড়াতে হয় আমাদের।

কেউ কি ফিরিয়ে দিতে পারবে আমার সেই বর্নিল সময়? প্রেমিকার কোলে শুয়ে মাথায় বিলি করে দেওয়া স্বপ্নিল সময়? আলোকিত আতশবাজির মাঝে নতুন জীবনের হাতছানি? ফুলশয্যার রাত, প্রিয়ার লাজুক হাসি! বাবার হাসিমাখা মুখ? মায়ের মায়াবী মুখ না কিছুই আমি পাবো না। তবে কেন আমায় বঞ্চিত করা হবে আমার প্রাপ্যতা থেকে?? বন্ধুরা আসুন এগিয়ে বন্ধ হোক এই তামাশা।"


পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech