ছাত্রলীগের সিন্ডিকেট ভাঙতে মরিয়া আওয়ামী লীগ

  

পিএনএস ডেস্ক : বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ছাত্রলীগ একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। এই সিন্ডিকেটের জন্য ছাত্রলীগে যোগ্য মেধাবী নেতৃত্ব উঠে আসছে না বলে অভিযোগ অনেক সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগ্য, মেধাবী, পরিচ্ছন্ন ও ক্লিন ইমেজের ছাত্র নেতাদের তুলে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অবশেষে ছাত্রলীগকে সিন্ডিকেট মুক্ত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ একটি অংশ। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একটি সূত্র জনকণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ছাত্রলীগের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ছাত্রলীগের নেতৃত্ব বাছাই করতেন তখন অতীত গৌরব ও ঐতিহ্য অক্ষুণœ ছিল। যখন ছাত্রলীগ সিন্ডিকেটের হাতে চলে আসে তখন সেই গৌরব ও ঐতিহ্য ম্লান হতে থাকে। তাই আমরা চাই আগামী নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা নিজ হাতে নির্ধারণ করুন। অন্য কারও উপর এই গুরুদায়িত্ব দেয়া হলে পক্ষপাতিত্ব ও রেষারেষির জন্য মেধাবী ও পরিশ্রমী নেতাদের কমিটিতে ঠাঁই হবে না। এক্ষেত্রে শেখ হাসিনাই একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য।

এদিকে, দেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠনটির নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন এ নিয়ে এরই মধ্যেই ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত বয়সসীমা চূড়ান্ত না হওয়ায় ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীদের মাঝে এক ধরনের ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নির্বাচনের ক্রিটিক্যাল মুহূর্তকে সামনে রেখে পরিপক্ব ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্ব নিয়ে আসার জন্য গত সম্মেলনের ন্যায় এবারও বয়সসীমা ২৯ থাকছে। একই সূত্র থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ছাত্রলীগের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ দুই বছর। সেই হিসেবে গত ২৬ জুলাই বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২৬ জুলাই পর্যন্ত অনেক যোগ্য ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতা-কর্মীর বয়স ছিল। তাই এই কমিটি মেয়াদ যেদিন শেষ হয়েছে অর্থাৎ ২৬ জুলাই থেকে বয়স গণনা করতে হবে। কারণ এটাই গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা।

সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে মরিয়া আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড ॥ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনকে রীতিমতো অবাক করে দিয়ে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল এ সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে সাবেক তিন ছাত্রলীগের নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের রাজনীতিকে মূলত বিশেষ সিন্ডিকেটের রাহুমুক্ত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

সূত্রটি জানায়, ছাত্রলীগের একজন সাবেক সভাপতি সেই সিন্ডিকেটের মূল হোতা। তার আশীর্বাদ ছাড়া এতদিন ছাত্রলীগের শীর্ষপদে ঠাঁই পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চান কোন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব না আসে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের জন্য আওয়ামী লীগের ৩ জন প্রভাবশালী নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

দক্ষ, মেধাবী, পরিচ্ছন্ন ও ক্লিন ইমেজের ছাত্র নেতাদের তুলে আনা এবং তাদের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দিবেন বলে জানা গেছে। সূত্র আরও জানায়, মূলত নিজ নিজ ব্যক্তি-স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে গত কমিটিগুলোতে অদৃশ্য সিন্ডিকেট ছাত্রলীগকে পকেটে ভরার চেষ্টা করে থাকতেন। আগামী নির্বাচনে ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশায় মূলত সিন্ডিকেট ভেঙ্গে পরিচ্ছন্ন ও ত্যাগী ছাত্র নেতাদের শীর্ষ পদে নিয়ে আসার কথা ভাবছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

সূত্র মতে, ছাত্রলীগের রাজনীতিতে বহুল উচ্চারিত ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটিকে এবার পুরোপুরি মুছে দিতে চায় দলীয় হাইকমান্ড। ওই বিশেষ সিন্ডিকেটের ছাত্রলীগের রাজনীতিতে খবরদারিতেও হাইকমান্ড রীতিমতো বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট। ফলে এবার সিন্ডিকেটের যবনিকাপাত ঘটাতেই সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই নতুন সম্মেলনের ঘোষণা আসে।

বয়সসীমা ২৯ই বহাল থাকছে ॥ যদিও ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে বয়সসীমা ২৭ নির্ধারণ করে দেয়া আছে, তারপরও নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে পরিপক্ষ ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্ব নিয়ে আসার জন্য গত বছরের ন্যায় এবারও বয়সসীমা ২৯ই থাকছে। ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণকারী অদৃশ্য সিন্ডিকেট চাচ্ছে ২৭ বয়সসীমার আওয়াজ তুলে সিনিয়রদের সুকৌশলে নেতৃত্ব থেকে মাইনাস করে দেয়া।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech