পুলিশি বাধায় বিএনপির মিছিল পণ্ড, গ্রেপ্তার ২০

  

পিএনএস ডেস্ক : ফরিদপুরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি করতে দেয়নি পুলিশ। কর্মসূচি পণ্ড করতে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি ছোড়ে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেছ আলী, যুগ্ম সম্পাদক জুলফিকার হোসেন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রাউফুন্নবীসহ ২০ জনকে আটক করেছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ফরিদপুর সুপার মার্কেট প্রাঙ্গণ, টাউন থিয়েটার হল, ডা. জাহিদ মোমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল, ফরিদপুর প্রেসক্লাবসহ মুজিব সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপির কর্মীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়ে। পুলিশের লাঠিপেটা ও গুলি ছোড়ার সময় সুপার মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে বিএনপির নেতারা ঢুকে পড়েন। পরে পুলিশ বিভিন্ন দোকানের শাটার খুলে আশ্রয় নেওয়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের আটক করে। ওই মার্কেটের মোমেনা মেডিকেল হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদারছ আলী, যুগ্ম সম্পাদক জুলফিকার হোসেন প্রমুখ আশ্রয় নিয়েছিলেন। পুলিশ শাটার খুলে ভেতরে ঢুকে শামা ওবায়েদ ছাড়া অন্য নেতা-কর্মীদের আটক করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা ব্যানারসহ বিক্ষোভ কর্মসূচির মিছিল শুরু করার উদ্যোগ নিলে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশ ব্যানার কেড়ে নেয়। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পরে পুলিশ ওই মিছিলকারীদের লাঠিপেটা করে। ঠিক ওই সময় সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পাশ থেকে বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জুলফিকার হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল এসে যোগ দেয়। পরে আরও পুলিশ নিয়ে এসে বিএনপির নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের ওপর বেধড়ক লাঠিপেটা করে। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর ইট ছুড়তে শুরু করেন। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ও শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পুলিশের লাঠিপেটায় নয়া দিগন্ত পত্রিকার হারুন আনসারি, দৈনিক কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক নির্মলেন্দু চক্রবর্তী আহত হন। এর মধ্যে হারুনকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টাউন থিয়েটারের সামনে ফরিদপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা এলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল ইসলামসহ সাংবাদিকেরা পুলিশের মারমুখী আচরণ ও সাংবাদিকদের মারধরের বিষয়টি তাঁর কাছে তুলে ধরেন। জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন জামাল পাশা।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিএনপির নেত্রী শামা ওবায়েদ ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আসেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের আচরণের নিন্দা জানিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ।’ তিনি বলেন, পুলিশের লাঠিপেটা ও গুলিতে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। তাদের আতঙ্ক বিএনপি। তাই তারা বিএনপির ওপর চড়াও হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকার যতই উসকানি দিক, আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। এ সরকারের পতন ঘটনা না পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না।’

ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজিমউদ্দিন বলেন, বিএনপি বেআইনি সমাবেশ করার উদ্যোগ নিলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। এতে চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের তিনটি শেল ছোড়ে এবং ১০টি ফাঁকা গুলি করে। ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

পিএনএস/জে এ/মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech