ছাত্রদল কর্মীদের ‘দায়িত্ব নিলেন’ তারেক রহমান

  

পিএনএস ডেস্ক : সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা, মামলায় জর্জরিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা দেবেন এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। কারা হেফাজতে ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যুর তিন দিন পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন।

গত ৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে গ্রেপ্তার হন ঢাকা উত্তর মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মিলন। এরপর একটি মামলায় রিমান্ড শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ মার্চ কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতাল পাঠানো হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিএনপির অভিযোগ, এই মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পুলিশ নির্যাতন করে মিলনকে হত্যা করেছে। আগামী রবিবার সারাদেশে বিএনপি বিক্ষোভের ডাকও দিয়েছে।

ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে আইনি এবং চিকিৎসার জন্য সাহায্য প্রত্যাশীদেরকে নিজ ইউনিটের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং দপ্তর সম্পাদককে জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যেসব জায়গায় সাংগঠনিক কমিটি নেই তারা নিজেদের যোগাযোগ করতে পারবেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে চলতি বছরের ৭ মার্চ পর্যন্ত করা প্রায় ৭৮ হাজার মামলায় নামে-বেনামে আসামি প্রায় ১৮ লাখ নেতাকর্মী। এ সময়ের মধ্যে ৭৭৩ জনকে হত্যা এবং কমপক্ষে ৭২ জনকে গুম করার অভিযোগও করছে বিএনপি।

ছাত্রদলের সূত্রে জানা গেছে, শুধু কাশিমপুর এবং কেরানীগঞ্জ কারাগারে ছাত্রদলের চারশর বেশি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার আছে। সারাদেশে এই সংখ্যা কমপক্ষে পাঁচ হাজার হবে।

ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘যেসব মামলায় বিএনপি নেতারা আসামি, ওই মামলায় ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী আসামি। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে আমাদের অন্তত সারাদেশে ৫ লাখের বেশি নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় আসামি আছে। এদের মধ্যে অনেকেরেই মামলা পরিচালনার মতো অর্থ নেই।’

এই উদ্যোগে সারাদেশের নেতাকর্মীরা আলোর দিশা পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ছাত্রদলের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান আগেও নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখতেন সাধ্যমত। কিন্তু কেউ জানতো কেউ জানতো না। এবার তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে পাশে থাকার কথা বলেছেন। বড় কোনো ঘটনা ঘটলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন এতে সবাই অনুপ্রেরিত হচ্ছে।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ার পর তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করে বিএনপি। তবে খালেদা জিয়া যে মামলায় সাজা পেয়েছে, সেটিতে তারেকের সাজা হয়েছে ১০ বছর।

এর আগেও বিদেশে অর্থপাচারের এক মামলায় তারেক রহমানের সাত বছর কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যে যান। এখন পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। ২০০৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে যেদিন খালেদা জিয়া চেয়ারপারসন হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন, সেদিন তারেক রহমানও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন।

তবে দণ্ডিত তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে হাইকোর্টের।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech