বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলতে নারাজ কানাডার আদালত

  


পিএনএস ডেস্ক: সংসদ অধিবেশন বন্ধ করে উপনির্বাচন দেওয়ার দাবিতে ডাকা হরতাল,কিভাবে সন্ত্রাসের সমর্থক হতে পারে তা আদালতের বোধগম্য নয়।

কানাডার সর্বোচ্চ আদালত অভিবাসন সংক্রান্ত একটি মামলার রায়ে এমন মন্তব্যই করেছে।

আর সে কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলা এবং সেই সংগঠনের সদস্য থাকার সূত্রে অভিবাসন আবেদন খারিজ করে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছে কানাডার আদালত।

বিএনপিপন্থী আইনজীবী সংগঠনের সহকারী সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করা সাবেক একজন ছাত্রদল নেতার অভিবাসন বিষয়ক মামলার রায়ে এসব কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনকারীর প্রার্থনা যে যুক্তিতে খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল, তার অযথার্থতা তুলে ধরে আদালত আবেদনকারীর অভিবাসনের প্রার্থনা নতুন একজন কর্মকর্তার দায়িত্বে সম্পন্ন করার আদেশ দিয়েছেন।

আগের কর্মকর্তা, বাংলাদেশি ওই নাগরিকের কানাডার অভিবাসী হতে চেয়ে করা একটি আবেদন, যাচাই করতে গিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। কেননা, সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে ডাকা হরতালে তারা ব্যাপক সহিংসতা করেছে এবং সহিংসতা বন্ধে সংগঠনটি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

যেহেতু আবেদনকারী নিজেকে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের একজন সাবেক সদস্য ও পরে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী পরিষদের একজন পদস্থ নেতা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন, সেহেতু সন্ত্রাসী সংগঠন বিএনপির কর্মকাণ্ডের দায় তাকে নিতে হবে। আর সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হিসেবে তাকে কানাডায় শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে না।

আবেদনকারী ওই বাংলাদেশী নাগরিক ২০১৩ সালে কানাডায় গিয়েছিলেন। কানাডা পৌঁছানোর দুই মাস পরে তিনি অভিবাসনের জন্য আবেদন করেন । পরে তার স্ত্রী ও কন্যাও কানাডায় গিয়ে অভিবাসনের আবেদন জমা দেন।

আবেদনকারী ১৯৮০ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৮৭ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যোগ দেন, এবং ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ সংগঠনের সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আর এসব তথ্যের ভিত্তিতে অভিবাসন কর্মকর্তা আবেদনকারীকে সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং সেই কারনে তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech