তারেক রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্রের হদিস নেই, বিতর্কে নতুন মোড়

  


পিএনএস ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই তার জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং থেকে তারেক রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্রের কোনো তথ্য মেলেনি। ফলে এনিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তাদের একাধিক ব্যক্তি সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারেক রহমান ছবিসহ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। তার জাতীয় পরিচয়পত্রও হয়নি। একই ধরনের তথ্য মেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং থেকেও।

তারেক রহমান ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন কি না- জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি আমার নলেজে নেই। খোঁজ নিতে হবে।”

ছবিসহ ভোটার তালিকা শুরুর সময় ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন এস এম আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ওই সময়ে তারেক রহমান ভোটার হননি। তাই নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, “ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেই তো জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন।”

ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজটি হয় সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে; ওই সময় কারাবন্দি ছিলেন তারেক।

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি যখন লন্ডনে চলে যান, তখনও তত্ত্বাবধায়ক সরকারই ক্ষমতায়।

তখন তারেকের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি কেন- জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, “উনি হতে চাননি বলেই ভোটার তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।”

তবে যোগ্য বাংলাদেশি যে কারও যে কোনো সময় ভোটার হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে তারেক রহমানের মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টের ঠিকানায় ভোটার রয়েছেন।

২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়।

২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের সময় তারেকের মা খালেদা জিয়াকে ভোটার তালিকাভুক্ত করার কাজে যুক্ত ছিলেন ঢাকা জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের।

তিনি বলেন, “তখন ম্যাডাম জিয়াকে ভোটার করতে আমরা সাব জেলে গিয়েছিলাম। উনি রাজি হননি। পরে সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাসায় ফিরলে ওই ঠিকানায় তাকে আমরা ভোটার করি।”

ওই বাড়ির ঠিকানায় কয়েকজন গৃহকর্মীও সে সময় ভোটার হয়েছিলন জানিয়ে ফয়সল কাদের বলেন, “আমার জানা মতে, ওই সময় তারেক রহমান ওই ঠিকানায় ভোটার হননি।”

এর আগে ২০০৬ সালে ২২ জানুয়ারির বাতিল নির্বাচনের যে ভোটার তালিকা ছিল, তাতে তারেক রহমানের নাম ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি নির্বাচন কমিশনের তৎকালীন উপ সচিব মিহির সারওয়ার মোর্শেদ। তিনি ২০০৭-২০০৮ সালে ভোটার তালিকাভুক্তির কাজেও যুক্ত ছিলেন।

মিহির বলেন, ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ভোটার করার কথা তার মনে আছে। কিন্তু তারেক রহমানের ভোটার হওয়ার কোনো তথ্য তার জানা নেই।

তৎকালীন নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ুন কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “১০ বছর আগের এ বিষয়টি তো আমার মনে পড়ছে না। কেউ আমাদের কাছে স্পেশাল কিছু আবেদন করলে বা এপ্রোচ করলে ভোটার করা হত। কেউ ভোটার হতে এপ্রোচ না করলে করা সম্ভব না।”

তারও মনে আছে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার ভোটার করার কথা; তবে তারেক রহমানের বিষয়ে কিছু মনে নেই।

তারেক সে সময় ভোটার হয়েছিলেন কি না, এনআইডি পেয়েছিলেন কি না- সেসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহবুবুর রহমানের কাছে।

তিনি বলেন, “পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আমি এসব বিষয়ে জানি না এবং গবেষণাও করিনি। ভোটার হওয়ার বিষয়গুলোও আমার জানা নেই।”

তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির সাংবাদিকদের বলেন, “উনি (তারেক) তো ওই সময় জেলে ছিলেন। ম্যাডাম সম্ভবত একাই ভোটার হয়েছিলেন। উনি (তারেক) ভোটার হয়েছিলেন কি না শিওর না। আমরাও জানার চেষ্টা করছি।”

২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন যাওয়ার পর আর ফেরেননি তারেক। সেখানে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের আদালতে দুটি মামলায় তার কারাদণ্ডের রায় হয়। আবার তিনি বিএনপি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানও হন। মা কারাবন্দি হওয়ার পর এখন দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।

যে পাসপোর্ট নিয়ে তারেক লন্ডন গিয়েছিলেন, তার মেয়াদ ২০১৩ সালে ফুরিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দুদিন আগেই বলেন, খালেদা জিয়ার ছেলে তার পাসপোর্ট যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে ‘সারেন্ডার’ করেছেন।

এর মধ্য দিয়ে তারেক বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে শাহরিয়ার মনে করেন।

তবে তা প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারেক রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের জন্য তার পাসপোর্ট যুক্তরাজ্য সরকারকে জমা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছাড়েননি। এব্যাপারে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech