‘জাতীয় সংসদে মাদক সম্রাট আছে’

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : চলমান মাদক নির্মূল অভিযানে সমর্থন জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। আর এই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

খুবই ভালো কথা। মাদকের বিষাক্ত ছোবল থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে অভিযানের বিকল্প নেই। তবে সে অভিযান যদি হয় একপেশে, লোক দেখানো আর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবাধ মিছিল- সেটা নিয়ে মানবাধিকারে বিশ্বাসীরা কথা বলবেনই। আর এ ক্ষেত্রে চিহ্নিত বিশেষ করে মাদক সম্রাটি হিসেবে পরিচিতরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকলে কথা তো উঠবেই।

মজার ব্যাপার হলো, মাদক নিয়ে তোতা পাখিও ইতিমধ্যে মুখ খুলেছে। মানুষ মনে করে, যিনি তোতা পাখির মতো কেবল শিখিয়ে দেওয়া বুলিই আওড়ান, তিনিও এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। তিনি সরাসরি বলছেন, ‘জাতীয় সংসদে মাদক সম্রাট আছে’। যিনি বলেছেন তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান। যার নির্দেশে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে, তার বিশেষ দূত। সংসদেও তিনি আছেন। যদিও এ নিয়ে নাটকীয়তা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি ।

সব কথা কথার কথা নয়। বিবেকের দংশনে মানুষ কখনো কখনো সত্যটা না বলে পারে না। ‘জাতীয় সংসদে মাদক সম্রাট আছে’- এই বক্তব্যটা ২৩ মে একটি টিভির স্ক্রলে শিরোনাম হয়ে এসেছে। জাতীয় সংসদ একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা। এটিকে অনেকে ‘পবিত্র সংসদ’ও বলেন। সেখানে যদি মাদক সম্রাট থাকেন, আর তারা যদি এ অভিযানের বাইরে থাকেন; তাহলে প্রশ্ন তো উঠবেই।

না, তিনি সেখানেই থেমে থাকেননি; তিনি আরো বলেন, মাদক নির্মূলের নামে বন্দুকযুদ্ধে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। যাদের হত্যা করা হচ্ছে তারা কারা আমরা জানি না। মাদক সম্রাট তো সংসদেই আছে, সরকারকে বলবো আগে তাদের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলান। ২৩ মে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

এরশাদ আরো বলেন, এভাবে বিনা বিচারে মানুষকে হত্যা করা যায় না। প্রত্যেক নাগরিকেরই সাংবিধানিকভাবে বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। কোথাও এর নজির নেই। বিশ্ব এটা মেনে নেবে না। মাদক নির্মূলে সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করার দাবি জানান তিনি। সাবেক স্বৈরাচার, বর্তমানের দালাল, তাকে যা-ই বলা হোক না কেন, উল্লিখিত বক্তব্যগুলো বিশেষ করে আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করার বিষয়টি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

আমাদের সমাজে মহানবীর একটি হাদিস বহুল প্রচলিত। আর সেটি হলো মিষ্টি খাওয়া সংক্রান্ত। এক ব্যক্তি তার সন্তানের অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া নিয়ে মহানবীর কাছে পরামর্শ নিতে আসেন। মহানবী লোকটিকে কদিন পর আসতে বলেন। যথারীতি লোকটি কদিন পর আসেন। মহানবী তাকে বললেন, তোমার ছেলেকে মিষ্টি কম খেতে বলো। লোকটি বললেন, এই কথাটি ওইদিন বললেই তো হতো। মহানবী বললেন, প্রথম দিন বলব কী করে, কারণ আমি নিজেও খুব মিষ্টি খেতাম। ইতিমধ্যে আমি মিষ্টি খাওয়া কমিয়েছি। নিজে না কমিয়ে অন্যকে তো কমাতে বলা যায় না। আজকের ক্ষমতাসীনরা নিশ্চয় মহানবীর হাদিস সম্পর্কে কম জানেন না।


লেখক : বার্তা সম্পাদক- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech