বিএনপি রাজপথের অঙ্ক কষছে

  

পিএনএস ডেস্ক: দলের কারাবন্দী চেয়ারপারসনের মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে রাজপথে নামার অঙ্ক কষছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকেরা এ জন্য একটি মোক্ষম সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দলটির চলমান কর্মসূচির ধরন পাল্টে যেতে পারে। ওয়ান টাইম কঠোর মুভমেন্টের মধ্য দিয়ে সব দাবির যৌক্তিক সমাধান হতে পারে এমন ধারণা দলটির সিনিয়র নেতাদের।

নেতারা বলেছেন, আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে সরকার বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ আটকে রেখেছে। এখন পর্যন্ত বিএনপি চরম ধৈর্যের সাথে চেয়ারপারসনের বন্দী-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা করে অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু রাজপথেই জটিলতার সমাধান করতে হবে। একই সাথে দলের নেতাকর্মী ও জনমতকে নির্বাচনের পথে কিভাবে আরো সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই পরিকল্পনাও নতুন করে সাজিয়ে নেয়া হচ্ছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় কেটে গেছে। একের পর এক আইনি বাধায় বিএনপি প্রধানের মুক্তি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের এখনকার পর্যালোচনা হচ্ছে- বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার যে করেই হোক জেলে রাখতে চাচ্ছে এবং সেটি নির্বাচন পর্যন্তও হতে পারে। বিএনপি নেতাদের আশঙ্কা, সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়। আর এ জন্যই যে মামলায় খালেদা জিয়া কারাভোগ করছেন, সে মামলায় শিগগির তাকে মুক্তি না দিয়ে সরকার উচ্চ আদালতে মামলার দ্রুত শুনানি নিষ্পত্তি করতে চাচ্ছে।

খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর তার মুক্তি দাবিতে বিএনপির গৃহীত নরম কর্মসূচি নিয়ে মাঠপর্যায়ে সমালোচনা রয়েছে। মূলত একাদশ সংসদ নির্বাচনের এখনো সাত-আট মাস বাকি থাকায় দলের নেত্রীর কারামুক্তিকে ঘিরে কঠোর কোনো আন্দোলনের পথে যায়নি বিএনপি। সাংঘর্ষিক আন্দোলনের সুযোগ সরকারকে না দিতেই এ পথ বেছে নেয়া হয়।

জানা গেছে, রোজার ঈদের পর দলীয় প্রধানের কারামুক্তি দাবির পাশাপাশি বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০ দলীয় জোটকেও বিএনপি কারামুক্তি ও সুষ্ঠু নির্বাচন- এই যুগপৎ দাবিতে মাঠে নামানোর কাজ শুরু করেছে। রমজান মাসে ইফতারের আদলে জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি বাড়ানো হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কথা বলে আভাস পাওয়া গেছে, তারা নির্বাচনের আগে একটি ওয়ান টাইম মুভমেন্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। নির্বাচন কমিশন অক্টোবর নাগাদ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা বলেছে। বিএনপির সেই আন্দোলন তফসিল ঘোষণার মাস খানেক আগে শুরু হতে পারে।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দল পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছেন। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আগামীতে রাজনৈতিক কর্মসূচির ছক কেমন হবে, তা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিনিয়র নেতাদের সাথে শলাপরামর্শ করছেন। তিনি একটি কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে নিয়ে যেতে চান বলে জানা গেছে। দলটির সিনিয়র নেতারা বলেছেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, সংসদ ভেঙে দেয়া এবং নির্বাচনে সেনা মোতায়েনসহ কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নে সমঝোতা করেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে। আর এটি আন্দোলনের মধ্য দিয়েই হতে পারে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে বিএনপির কর্মসূচির যে ধরন, সব সময়ই যে এ রকমই থাকবে তাতো বলা যায় না। বিএনপি মাঠে আছে, যদি তারা এভাবেই মাঠে থাকতে পারে তাহলে পরিবর্তন আসবেই। জনগণ সেই পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আইনি লড়াই করব, আবার রাজপথেও থাকতে হবে। শুধু আইনি লড়াই দিয়ে এই যুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি না।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ধৈর্যের একটি সীমা থাকে। আমরা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু না। এভাবে তাকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আমাদেরকে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech