‘খুলনা স্টাইলে গাজীপুরেও সরকার নির্বাচনের পায়তারা করছে’

  


পিএনএস ডেস্ক: গাজীপুর সিটিতে সরকার খুলনা স্টাইলে নির্বাচনের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। নিশ্চিত ভরাডুবির ভয়ে গাজীপুরে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিএনপি ও বিরোধী দলের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের গণগ্রেফতার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে দলটির অভিযোগ।

তবে সরকারের বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে বলে দলটি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জনগণ স্বৈরাচার সরকারকে লাল কার্ড দেখাতে উদ্দীপ্ত বদ্ধ পরিকর। সরকারের মদগর্বী আস্ফালন উপেক্ষা করেই জনগণ রাস্তায় নামতে শুরু করেছে।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, গাজীপুরেও সরকার খুলনা স্টাইলে নির্বাচনের জন্যই পুলিশকে দিয়ে ধানের শীষের সমর্থক ভোটারদেরকে এলাকা ছাড়া করে সিটি করপোরেশন এলাকাকে শ্মশান ভুমিতে পরিণত করা হচ্ছে। যাতে ভোটারবিহীন নির্বাচন সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়। আওয়ামী লীগের বিজয় নিশান নিশ্চিত হয় ভোট ডাকাতি, ভোট সন্ত্রাস, জ্বালভোট, ভোট কেন্দ্র দখল ও অবৈধ অস্ত্রের আস্ফালনের মাধ্যমে। আর এগুলোর দিকে চোখ করে দায়িত্বহীন নির্বাচন কমিশন হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছে। এছাড়া আমরা তার কিছু দেখতে পারছি না।

গাজীপুরে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি পুলিশি তল্লাশির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নিশ্চিত ভরাডুবির ভয়ে গাজীপুরে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি ও বিরোধী দলের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের গণগ্রেফতার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। গতরাতেও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম, মীর হালিমুজ্জামান ননিসহ কাশিমপুর ও কোনাবাড়িতে দলের নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ তল্লাশির নামে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে।

রিজভী বলেন, বিরোধী দলকে বাইরে রেখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন করতেই সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবেই কারাবন্দি করে রেখেছে। দেশজুড়ে সরকারের বিরোধী দল নিধনের কর্মসূচি থামছে না। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্র চলছে। তবে আমরা বলতে চাই, সরকারের বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে। জনগণ স্বৈরাচার সরকারের লাল কার্ড দেখাতে বদ্ধ পরিকর।

খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে শঙ্কা: বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রসঙ্গে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, জাল নথির মাধ্যমে মিথ্যা সাজানো মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার অভাবে জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। দিনের পর দিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা পূর্ণাঙ্গ স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে বলছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী। গতকাল এ নিয়ে আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম বিবিসিতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা বার বার বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি করে আসছি। কেনো তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান তাও বিস্তারিতভাবে আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি দেশবাসীকে অবহিত করার জন্য। আমার বার বার বলেছি পিজি বা সিএমএইচে দেশনেত্রীর প্রকৃত চিকিৎসা হবে না। কারণ সেখানে ডপলার টেস্ট এবং বিশেষ ধরনের এমআরআই-এর সুবিধা নেই। আছে শুধু ইউনাইটেডে। চিকিৎসকের বক্তব্যেও সেটি পরিষ্কার হলো।

সরকার ও কারার্কতৃপক্ষ কারাবিধির দোহাই দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করছেন। তিনি যাতে প্রকৃত চিকিৎসা না পেয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েন সেজন্যই এত বাধা ও আপত্তি সরকারের। কিন্তু দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকরা বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যেভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাতে দেশবাসীর কাছে এটা ক্রমাগতভাবে পরিষ্কার হয়ে গেছে সরকার তার জীবন নিয়ে দুরভীসন্ধিমূলক খেলায় মেতে উঠেছে। একজন সঙ্কটাপন্ন রোগীকে চিকিৎসা না দেয়া চরম মানবধিকার লঙ্ঘন।

রিজভী বলেন, মানবাধিকার তদন্তে জাতিসঙ্ঘের অনুরোধে সাড়া দিচ্ছে না বাংলাদেশ। জাতিসঙ্ঘের এ ধরনের অন্তত দশটি অনুরোধে বাংলাদেশ সাড়া দেয়নি। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার জিয়াদ রাদ আল হুসেইন এ কথা জানান। আসলে নাগরিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট যে বিষয়গুলো আমরা দলের পক্ষ থেকে বার বার উথ্থাপন করেছি সে গুলোই আজ বিশ্বজুড়ে আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে জোরালো আওয়াজ ওঠছে। অথচ তার পরেও সকল মনুষত্ব, বিবেক বিসর্জন দিয়ে দেশজুড়ে বিচারবর্হিভূত হত্যা, গুম, গুপ্ত হত্যা, অপহরণের এক অমানবিক সন্ত্রাসী পরিকাঠামো তৈরি করেছে সরকার। ভোটারবিহীন সরকার তাদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই দেশজুড়ে বিচারবর্হিভূত হত্যা, গুম, খুন ও গণগ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে। কেড়ে নেওয়া হয়েছে গণমাধ্যমসহ মানুষের বাক-স্বাধীনতা। যা জাতিসংঘের রিপোর্টে ফুটে উঠেছে। গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ চলছে। কিন্তু সরকারের পরিকল্পনা ও নীলনকশা যেন অব্যাহত আছে গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে মুচড়ে ফেলার জন্য।

এছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে বিভিন্নস্থানে বিএনপির কর্মসুচিতে পুলিশের গুলি, লাঠিচার্জ ও গ্রেফতারের অভিযোগ তুলে ধরে রিজভী।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech