জাতীয় পার্টির উন্নয়ন ও ইতিবাচক রাজনীতির সোনালি দিনগুলোর কথা গণমানুষ ভুলেনি : মিলন

  

পিএনএস : চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ভাওয়াল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ছাত্রজীবন থেকে জাতীয় পর্যায়ে ক্যারিশম্যাটিক নেতা হিসেবে খ্যাত মনিরুল ইসলাম মিলন। পারিবারিকভাবে তারা দানশীল। এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় যার পরিবারের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক এ গুণী শিক্ষার্থীর রাজনীতির শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই। একেবারে শুরু থেকেই যুক্তছিলেন ছাত্রসমাজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে। এরপর জাতীয় পার্টির যুব সংগঠন- জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। যুব সংহতির পর জাতীয় পার্টির প্রচার সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। ব্যক্তিগত জীবনে এক কন্যাসন্তানের জনক। কন্যা আর্কিকেক্ট। তার স্ত্রী ব্যাংকার। মনিরুল ইসলাম মিলন চলমান রাজনীতি, আগামী নির্বাচন ও জাতীয় পার্টির ভূমিকা নিয়ে অকপটে কথা বলেন প্রিমিয়ার নিউজ সিন্ডিকেট- পিএনএসের সঙ্গে। জাতীয় এ নেতার সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো পিএসএসর পাঠকদের জন্য। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পিএনএসের বার্তা সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান।

পিএনএস : রাজনীতিতে কখন এবং কীভাবে এলেন?
মনিরুল ইসলাম মিলন : ১৯৯১ সালে জাতীয় ছাত্রসমাজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদের অনুপ্রেরণায় জাতীয় ছাত্রসমাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হই। ১৯৯৩ সালে ছাত্রসমাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি, ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, যুব-সংহতির সহ-সভাপতি পরে জাতীয় পার্টির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাই। জাতীয় পার্টির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করব- এমনটা কখনো ভাবিনি। আমি যখন জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্যারের সঙ্গে দেখা করলাম, তখন আমার ইচ্ছা ছিল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হব। কিন্তু আমার রাজনীতির অতীত ইতিহাস ও পারিবারিক পরিচয় জেনে তিনি আমাকে সরাসরি প্রচার সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করেন। সবশেষ কাউন্সিলে আমি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বপ্রপ্রাপ্ত হই।

পিএনএস : তৎকালীন ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলসহ অনেক সংগঠন থাকতে আপনি কেন ছাত্রসমাজের সঙ্গে যুক্ত হলেন?
মনিরুল ইসলাম মিলন : আমি মিলিটারি পরিবারের সন্তান। জন্মের পর আমার শৈশব-কৈশোর বা তারুণ্যের বেশির ভাগ সময় বাবার চাকরির সুবাদে বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টেই কেটেছে। আমি যখন কিছুটা বুঝতে শিখেছি তখন এ সেনাবাহিনীকে পৃথিবীর অন্যতম বিশৃঙ্খল সেনাবাহিনী হিসেবে দেখি। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯-২১টি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা হয়েছিল। সেসব দিনগুলোতে উচ্ছৃঙ্খল সেনাসদস্যের বিশৃঙ্খল আচরণ কাছ থেকে দেখেছি। আমরা যখন ক্যান্টনমেন্টে ছিলাম তখন দেখতাম এক ইউনিট আরেক ইউনিটের দিকে গুলি ছুড়ছে! সেনাবাহিনীর এক ইউনিটের সদস্যদের আরেক ইউনিটের সদস্যদের কোনো মিল ছিল না। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আলাদিনের চেরাগ হাতে পাওয়ার মতো সেনাবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরাজমান বিশৃঙ্খলা দূর করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পৃথিবীর অন্যতম সেরা একটি সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনীতে পরিণত করেন সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি দেশ গঠনে সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করেন। এরশাদ সাহেবের নয় বছরে সুশাসন, উন্নয়ন ও যুগান্তকারী সংস্কার কার্যক্রম সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯টি মহকুমা ভেঙ্গে ৬৪টি জেলা সৃষ্টি করেন, ৪৬০টি উপজেলা গঠন করেন, বিচার বিভাগকে উপজেলা পর্যায়ে একেবারে জনসাধারণের দোরগাড়ায় নিয়ে যান, ঢাকায় রাস্তা ছিল না শত বাধা অতিক্রম করে বিজয় সরণী, প্রগতি সরণী ও সায়েদাবাদ থেকে খিলগাঁও সড়ক তৈরী করেন (যা না করলে আজকের ঢাকা অচল থাকত), সারাদেশে হাজার হাজার সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করেন, নারীর ক্ষমতায়নে বিপ্লব সৃষ্টি করেন। এ কাজগুলো সোনালী অধ্যয় হিসেবে জনমনে ঠাঁই পেয়েছে। এসব জন-গণমুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে জাতীয় পার্টি এবং এ দলটির প্রতিষ্ঠা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি আমার মন থেকে পাহাড়সম দুর্বলতা সৃষ্টি হয়। ফলে দেরি না করে আমি জাতীয় পার্টির উন্নয়ন ও গণমুখী রাজনীতিতে নিজেকে সম্পৃক্ত করি।

পিএনএস : আপনার দৃষ্টিতে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ কেমন?

মনিরুল ইসলাম মিলন : জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। শুধু উজ্জ্বলই নয়, আমি বলব আবেদন অনেক বেড়েছে। দেশের মধ্যবয়সী মানুষ যারা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামল দেখেছেন, তারা এখনো আবার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতায় দেখতে চান। এ কয়েক বছর তো দেশবাসী পালাক্রমে আওয়ামী লীগ-বিএনপির শাসনামল দেখেছে। তারা দুটি দলের খাই খাই রাজনীতি প্রত্যক্ষ করে ইতিমধ্যেই বিষিয়ে উঠেছে। বিচার-বিবেচনা করে বুঝে গেছে, এ দুই দলের কাছে দেশ ও দেশবাসী নিরাপদ নয়। তাদের শাসন নামের অপশাসনে এ দেশের মানুষ রীতিমতো অতিষ্ঠ। যে কারণে তারা পরিবর্তন চায়। তারা মনে করে, একমাত্র এরশাদের কাছেই দেশ নিরাপদ। এটা তো প্রমাণিত সত্য, জাতীয় পার্টি জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করে। জাতীয় পার্টি বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে না। রাজপথে জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর, হরতাল-অবরোধের মতো নৈরাজ্য ও ধ্বংসাত্মক কাজ করে না। যেকোনো বিচারেই এরশাদের শাসনামল ছিল এদেশের জন্য স্বর্ণযুগ। আপনি দেখেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে তো শিক্ষিত লোকজন যোগ দিচ্ছে না, কিছুদিনও একজন সচিব তার পরিবারসহ জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেছেন। আবেদন না থাকলে, সম্ভাবনা না জাগলে কি আর সচিবের মতো গুণী মানুষ দলে দলে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন?

পিএনএস : জাতীয় পার্টি একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে। আবার এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি?

মনিরুল ইসলাম মিলন : একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে থাকা তো অস্বাভাবিক কিছু না। হয়তো আমাদের দেশে নতুন। পৃথিবীর অনেক দেশেই এমনটা হয়েছে এবং আছে। আপনারা কি বিরোধী দল মানে সংসদ বয়কট, ওয়াক আউট, রাজপথে অবরোধ, পেট্রল বোমা মেরে মানুষ হত্যা বোঝাতে চান? জাতীয় পার্টি মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে। আমরা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করি না। যখন যেখানে বিরোধিতা করা দরকার তখন আমরা রাজপথে মিছিলও করি আবার সংসদ থেকে ওয়াক আউটও করি। সরকার যখন কিছু গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা তার যৌক্তিক বিরোধিতা করেছি। আমরা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাও করি। জনগণ এখন ইতিবাচক রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। জনগণ এখন জাতীয় পার্টির লাঙ্গলে ভোট দেওয়ার সুযোগ খুঁজছে। তাই নেতিবাচক নয়; বরং জাতীয় সময়োপযোগী ও গঠনমূলক রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

পিএনএস : আপনারা মহাজোট সরকারে আছেন। আবার নতুন জোটও করেছেন। এককভাবে নির্বাচনের কথাও বলছেন। গন্তব্যটা আসলে কোথায়?
মনিরুল ইসলাম মিলন : আমাদের পার্টির চেয়ার‌ম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমাদের এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আমরা সেভাবেই কাজ শুরু করেছি। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবেই নির্বাচন করবে। আমাদের সম্মিলিত জাতীয় জোটে আরো কিছু দল সম্পৃক্ত হবে। অনেক দলই পার্টির চেয়ার‌ম্যানের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছে। আশা করি, অচিরেই সে সুখবর দেশবাসী পাবে। তখনই গন্তব্যটা স্পষ্ট হয়ে। আসলে সময়ই সামনে নিয়ে আসবে সাহসী ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের সাহসী বার্তাটা।

পিএনএস : জনশ্রুতি আছে আপনি নির্বাচন করছেন। সেটা হলে ঢাকা, না অন্য কোথাও?

মনিরুল ইসলাম মিলন : আমাকে আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমার জন্মস্থান চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) এলাকার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছি। জাতীয় পার্টি এখন ফরিদগঞ্জে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। পল্লীবন্ধু যেদিন থেকে আমাকে কাজ করতে বলেছেন, সেদিন থেকেই আমি পুরো ফরিদগঞ্জ এলাকায় ঘুরছি। মানুষের সঙ্গে মিশে দেখেছি তারা এখন পরিবর্তন চায়। মানুষ আবার জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আমি সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।

পিএনএস : আবারও মহাজোট হলে প্রার্থী হবেন?

মনিরুল ইসলাম মিলন : রাজনীতি করছি জনগণের সেবা করার জন্য। আমি জনগণের সেবা ও ফরিদঞ্জের উন্নয়নে নিজেকে সঁপে দিয়েছি। জনগণ চায় আমি নির্বাচন করি। আমি মাঠে আছি, থাকব। সিদ্ধান্ত দেবেন আমাদের নেতা পার্টির চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তবে গত বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে ৪৮টি আসন জাতীয় পার্টির জন্য নির্ধারিত ছিল, এর মধ্যে চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জও ছিল। আগামী সংসদ নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম হবে না। কারণ এ জন্য দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকৃত রয়েছে।

চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে ঘুরেফিরে জাতীয়তাবাদীদের কাছেই থাকছে । এখানের মানুষের বেশির ভাগই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। এ মতের মানুষদের পেলে তারা সহজে লুফে নেয়। আসনে আগে জাতীয় পার্টির এমপি ছিল। গত সংসদ নির্বাচনেও আসনটি জাতীয় পার্টির জন্য নির্ধারিত ছিল। শেষ পর্যন্ত মহাজোটের একজন মনোনয়ন পান। ভবিষ্যতে অর্থাৎ আগামী সংসদ নির্বাচনে মহাজোট গঠন করা হলে এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে দেওয়া হবে, এটা একরকম চূড়ান্ত। আর জাতীয় পার্টি একক বা জোটগত যেভাবেই নির্বাচন করুক না কেন, এ আসনটি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মিলনের জন্য অবধারিত হিসেবে রাখা আছে বলে দলীয় ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে ।

তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দলীয় বড় পদের অধিকারী সৎ, কর্মঠ, সদা হাসি-খুশি মৃধুভাষী এ রাজনীতিক জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় অফিসে সার্বক্ষণিক সময় দেন। সবার সঙ্গে সদাচার যার অন্যতম গুণ। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনের একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত নিয়মিত খোঁজ-খবর ও যোগাযোগ রাখেন। তার সঙ্গে কথা বলে পরম তৃপ্তির সঙ্গে খোশ মেজাজে ফিরে যেতে দেখা গেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নেতাদের। দলঅন্তপ্রাণ বিনয়ী, ভদ্র ও মিশুক এ মানুষটিকে দল মূল্যায়ন করবে না- এটা তার শত্রুও বিশ্বাস না। বরং তারা মনে করেন, এমন একজন কর্মঠ ও সার্বক্ষণিক দলকে সময় দেওয়া এ গুণী ব্যক্তিকে এগিয়ে নেওয়াই হবে সময়ের দাবি।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech