‘গোরস্তানেও পুলিশ মোতায়েন করা উচিত’

  

পিএনএস ডেস্ক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, গোরস্তানেও সরকারের পুলিশ মোতায়েন করা উচিত। কারণ যদি মৃতরা এসে আন্দোলন করে, সেটাকে প্রতিহিত করবে কে?

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত এক সংহতি সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেড় বছর আগে যিনি মারা গেছেন তিনি নাকি পুলিশের ওপর ইট পাটকেল ছুঁড়েছেন। যিনি আগস্ট মাসে মারা গেছেন তিনি নাকি সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশকে আক্রমণ করেছেন। যারা জীবিত আছে তারাই শুধু এই সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে না। যারা মারা গেছে তারাও আ.লীগের বিরুদ্ধে লড়াই করছে!

তিনি বলেন, আমরা যখন মিটিং মিছিল করি তখন বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ দেওয়া হয়। যাতে কোনও ঝামেলা না হয়। এখন মৃতদের নামে মামলা হ”েছ। যারা মারা গেছে তারাও নাকি সরকারের বির“দ্ধে আন্দোলন করে।

এজন্য গোর¯’ানে পুলিশ মোতায়েন করা দরকার, যদি মৃতরা এসে ঝামেলা করে!

নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত কয়েকদিনে কয়েক হাজার মামলা দেয়া হয়েছে। কি অদ্ভূত একটি দেশ, এই দেশের জন্যই কি মুক্তিযুদ্ধ করলাম। পত্রিকায় এসেছে পরিবেশ দূষণে মৃত্যুর হার দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এই দেশে। কিন্ত এই হিসাব কেউ করে নাই, যে রাজনৈতিক দূষণে বিশ্বে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। এই দূষণে মারা গেছে গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার মানুষ।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিনেই হাজার হাজার মামলা দেয়া হয়েছে। লাখ লাখ আসামি করা হয়েছে। আমাদের মিটিংয়ের অনুমতি দেয়া হয়। আবার আমাদের কর্মীরা আসার সময় গ্রেপ্তার হন কিংবা যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার হন। মিটিংয়ে আসলে তাদের ফিরে যাওয়ার উপায় থাকে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, হাছান মাহমুদ সাহেব মাঝেমধ্যে উল্টাপাল্টা কথা বার্তা বলেন। যার কারণে তাদের দলের নেত্রী সাজেদা চৌধুরীও প্রকাশ্যে মিটিংয়ে বলেছিলেন - দেশের মধ্যে বহু বেয়াদব দেখেছি, এরকম দেখি নাই।

নজরুল বলেন, হাছান মাহমুদ বলেছিলেন আমাদের মহাসচিব জাতিসংঘে কারও দাওয়াতে যাননি। এটা মিথ্যাচার করা হয়েছে। আমি বলব এটা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর। আমাদের এখানে যে সচিবালয় আছে এখানে কি এপয়েন্টমেন্ট ছাড়া, পাশ ছাড়া যেতে পারবেন? মির্জা ফখরুল যে এখান থেকে নিউইয়র্ক গেলেন, সেখানে জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রতিনিধি তার সঙ্গে কথা বললেন কোনও দাওয়াত ছাড়া? এরকম তো হয় না কখনও। এর আগে এক সহকারী মহাসচিব এসেছিলেন( তারানকো)। তার সঙ্গে দুই জোটের শীর্ষ নেতারা দেখা করেছেন।

খালেদা জিয়াকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব সরকারের দাবি করে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আইনে বলা আছে, আপনি যখন জেলখানায় প্রবেশ করবেন তখন আপনার ওজন মাপা হয়। জেল থেকে বের হওয়ার সময় ওজন মেপে যদি কম পাওয়া যায় তাহলে আপনি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দিতে পারবেন। অর্থাৎ যারা সরকারের হেফাজতে থাকবে, তাদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা দেখার দায়িত্ব সরকারের।

বিএনপির এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়া ক্রমান্বয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তিনি কোনও সাধারণ নাগরিক নন। আমি সরকারকে অনুরোধ করবো তার চিকিৎসার ব্যবস্থা কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে করার জন্য।

বাংলাদেশের লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জিনাফ সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech