বিএনপি অন্তপ্রাণদের প্রশ্ন, ওরা কারা!

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : বিএনপিতে ব্যারিস্টার আর আইনজীবীর সংখ্যাধিক্যের কারণে জাতীয় সংসদের স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে ফ্লোর দিলে খুব প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। সে আলোচনায় অনেক হাস্য-রসের সৃষ্টি হয়। সে সংসদে আজকের ক্ষমতাসীনরা বিরোধী দলে ছিল, আর বিএনপি ছিল সরকারে। আর আজকের পরিস্থিতি তো সবারই জানা। তবে বিএনপিপন্থী ব্যারিস্টার ও এত এত আইনজীবী সত্ত্বেও মঈনূল রোডের বাড়ি দ্রুত হারানো এবং দেশনেত্রীর জেলকে সহজে মেনে নিতে পারছেন না বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে বিএনপির বড় একটা অংশ। কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পেলেই অবলীলায় তারা প্রশ্ন করেন, নেত্রী কার কারণে আজ জেলে।? যাদের কারণে শহীদ রষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের হাজারো স্মৃতিময় মঈনুল রোডের বাড়িটি আজ হাত ছাড়া।? ওরা কারা।

তৃণমূলে প্রশ্নে তাদের অনেকে বিব্রত হন। কেউ কেউ মিন মিন করে দুষেন আইনজীবীদের। কে কীভাবে দুষলেন-না দুষলেন, তাতে কিছু যায়-আসে না জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক শক্তির। তারা নাম ধরে ধরে বলে, ওমক ওমক আইনজীবী জেনে-বুঝে নিম্ন আদালতে না গিয়ে সরাসরি উচ্চ আদালতে গিয়ে শহীদ রষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের স্মৃতিধন্য মঈনুল রোডের বাড়িটি সহজে হাত ছাড়া করে দেয়।

যদিও বিএনপি ঘরানার অনেক আইনজীবী চোখের পানি ফেলে বলেন, আমাদের সিনিয়ররা কী বুঝে সরাসরি উচ্চ আদালতে গেলেন, বিষয়টি বুঝে আসে না। নিম্ন আদালতে যে কোনো জুনিয়র একজন আইনজীবী মামলা করলেও অন্তত ৩০ বছর লাগত শেষ হতে। শত বছরও কাটিয়ে দেওয়া যেত। আর উচ্চ আদালতে যাওয়ার মাত্র তিন স্তরেই সব শেষ হয়ে গেছে সব আশা-ভরসা। মেরে দেওয়া হয়েছে শেষ পেরেক। যেখানে আর কিছুই করার থাকল না।

যে আইনজীবীরা একলাফে সরাসরি উচ্চ আদালতে চলে গেলেন, তাদের নিয়ে নানা গুঞ্জন আছে। অনেকের মতে, এ মামলা নিয়ে অতি উৎসাহী কেউ কেউ নাকি ইতিমধ্যে একই পরিণতি ভোগ করছেন। তাই তারা এ নিয়ে খুশি। তবে ক্ষোভ তাদের থেকেই গেছে। ফলে সুযোগ পেলেই দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদীরা দায়ী আইনজীবীদের এক হাত নেন।

বিষয়টি আবার সামনে চলে এসেছে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর। আইনজীবীরা তো জানতেনই তাঁর জেল হবে। তার পরও তারা কেন তাকে সেখানে যেতে উৎসাহ জোগালেন- সে প্রশ্ন জনে জনে। তাদের বক্তব্য স্পষ্ট- আদালত জেল দিলে পুলিশ এসে নিয়ে গেলে একটা ব্যাপার ছিল। আর সেটা কতটা সম্ভব হতো, সেটা সময় বলে দিত। কিন্তু অপরিণামদর্শী আইনজীবীরা সেটাকে সহজ করে দিয়েছেন। আর যারা এটা করেছেন, তাদের আন্তরিকতা নিয়ে দেশপ্রেমিক শক্তির প্রশ্নের শেষ নেই।

অভিজ্ঞ মহলের মতে, সেদিন যদি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আদালতে না যেতেন, তাহলে রায় তো এক ও অভিন্নই হতো। এটা তো সবার জানা। তবে না গেলে হয়তো পুলিশ দিয়ে ধরে নেওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি না করে তার বাসাকেই সাব জেল করা হতো। যদিও আগেই সাব জেল করে সব কিছু ঠিক রাখা হয়েছিল। সেখানে আগ বাড়িয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কাজটা সহজ করেদিলেন বৈকি। এ অতি উৎসাহের গূঢ় রহস্য অজানাই থেকে গেছে।

দেশনেত্রীকে জেলে নেওয়ার পর অনেক বাঘা বাঘা ব্যারিস্টার ও সাবেক মন্ত্রী অপরিনামদর্শীর মতো বলে বসলেন, নেত্রী বৃহস্পতিবার জেলে গেছেন, রবিবার মুক্ত করে আনব। এটা রাজপথের জোরালো লড়াই-সংগ্রাম ছাড়া আইনে যে তা সম্ভব না, এটা আইন অঙ্গনের সাধারণ মানুষ জানলেও তারা ফাঁকা বুলি আওড়ালেন! অথচ জামিন চাইতে হলে বা আপিল করার জন্য শতাধিক পৃষ্ঠায় রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পেতে বেশ কদিন লেগে যায়। যা ছাড়া জামিন চাওয়া যায় না। নেত্রীর জেল খাটা নিয়ে এমন পরিহাসও আইনজীবীরা প্রকাশ্যে করলেন।

আর আজ সেই আইনজীবীরা কোর্ট বর্জন করেন। নেত্রীও তা করছেন। অথচ এই আইনজীবীরা প্রায়ই বলেন এবং বলতেন ন্যায়বিচার না পাওয়ার কথা। এ নিয়ে মিছিল-সমাবেশও করতেন। কদিন আগেও মিছিল করেছেন। আজও (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে যাবেন তারা। তাদের এসব কাজকে পরস্পরবিরোধী ক্ষেত্রবিশেষে অপরিণামদর্শী মনে করছেন খোদ নীতিবান আইনজীবীরা। তাদের মতে, সিনিয়র কিছু আইনজীবী ‘সর্প হয়ে দংশন করেন আর ওজা হয়ে ঝাড়ফুঁক’ করেন।

লেখক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech