জাতীয় ঐক্য রূপ নেবে নির্বাচনী মোর্চায়

  


পিএনএস ডেস্ক: সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্যের সূচনা হয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে নির্বাচনী মোর্চায় রূপ নেবে বলে জানা গেছে। দলগুলো এক সাথে আন্দোলন ও এক সাথে নির্বাচনে অংশগ্রহণের দিকেই এগোচ্ছে। যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি যৌথ নেতৃত্ব কিংবা স্টিয়ারিং কমিটির মাধ্যমে বৃহৎ ঐক্যেকে কাঠামোগত রূপ দেয়া হতে পারে। এই প্লাটফর্মে থাকা সবচেয়ে বড় দল বিএনপি ঐক্যপ্রক্রিয়াকে কার্যকর রূপ দিতে ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে সার্বিক বিষয়ে নানামুখী আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।

বিএনপি মনে করছে, সরকারি দল আওয়ামী লীগের ‘একতরফা নীতি’র বিরুদ্ধে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। সবার চাওয়া সুষ্ঠু নির্বাচন। এখন সেই চাওয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। এ জন্য কেবল বিএনপি নয়, প্রতিটি দলকেই বৃহত্তর স্বার্থে একযোগে মাঠে নামতে হবে।

জানা গেছে, বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়াকে কার্যকর রূপ দিতে বড় দল হিসেবে বিএনপি দু’টি বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। এক. আলোচনার ভিত্তিতে বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়াকে একটি কাঠামোগত রূপ দেয়া। একই সাথে ঐক্যের ছায়াতলে আসা দলের নেতারা বিগত সময়ে যেসব আসনে নির্বাচন করেছেন, তাদেরকে সেই আসনগুলোতে নির্বাচন করার পথ তৈরি করে দেয়া। আর যারা নির্বাচন করেননি কিন্তু ব্যক্তি ইমেজ ও জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তাদেরকেও সুনির্দিষ্ট আসন প্রস্তুত করে দেয়া। দুই. বৃহত্তর ঐক্যের লক্ষ্য যে গুণগত পরিবর্তন সেটিকে দৃশ্যমান করা। এ ক্ষেত্রে দলটি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের কাজটি শুরু করেছে। এর বাইরে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন কূটনীতিকদের কাছেও সঠিক বার্তা তুলে ধরতে চায় তারা।

জানা গেছে, বৃহত্তর ঐক্যের লক্ষ্য যাতে ভণ্ডুল হয়ে না যায় সেদিকে বেশ সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে বিএনপি। একই সাথে ঐক্যের বিষয়ে দলের তৃণমূল নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গিও আমলে নেয়া হচ্ছে। বিএনপির তৃণমূলে বৃহত্তর ঐক্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ে তারা রাজপথে আন্দোলনের কোনো বিকল্প দেখছেন না। দলটির মধ্যম সারির নেতাদের মতে, অদূরদর্শী কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হলে, কিংবা উইন-উইন অবস্থা ছাড়া নির্বাচনে অংশ নিলে তাতে ঐক্যের প্লাটফর্মে আসা দলগুলোর যতটা না ক্ষতি হবে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে বিএনপির।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য নির্বাচনী মোর্চায় রূপ নিতে পারে। তখন বিভিন্ন দলের দাবি-দাওয়া পর্যালোচনা করে ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হবে। জানা গেছে, বিএনপি বৃহত্তর ঐক্যের পথে ২০ দলীয় জোটকেও আস্থায় রাখতে চায়। জোটের কোনো কোনো শরিক দলের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য নিয়ে ভিন্ন মত থাকলেও তা ঘোচানোর চেষ্টা চলছে।

বৃহত্তর ঐক্য নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের পতনের জন্য। দেশের সব রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, যুবক-শিশু-কিশোর, পেশাজীবী এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। কেননা, জাতীয় ঐক্য মোকাবেলা করার শক্তি তাদের নেই। এটা তাদের স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, গত শনিবার গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের আহ্বানে এক মঞ্চে সমাবেশের পর ভোটের অধিকার আদায়ে সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া, অধ্যাপক ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। একই সাথে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণেরও প্রস্তুতি নেবেন। তবে এ মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে জনমত গড়ে তোলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী বৃহত্তর ঐক্যের ব্যানারে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি থাকবে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে কর্মসূচির ধরনে পরিবর্তন আনা হবে।

নাগরিক সমাবেশ সফলভাবে আয়োজনের পর আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করবেন ড. কামাল হোসেন। এতে বিএনপি, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া, যুক্তফ্রন্ট এবং সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে পৃথক তিনটি জনসভা পরিকল্পনা রয়েছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার কথাও ভাবা হচ্ছে।

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মধ্যেও ঐক্য গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে ঐক্য গঠন নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ দিকে বিএনপি বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচিও চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ২১ আগস্টের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ১০ অক্টোবর। রায় বিরুদ্ধে গেলে দলটি প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলে জানা গেছে। সূত্র: নয়া দিগন্ত

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech