বিলীন হচ্ছে ২০ দলীয় জোট!

  

পিএনএস ডেস্ক : ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গঠনের চাপে বিলীন হতে বসেছে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। অভিযোগ উঠেছে, সরকারবিরোধী নতুন জোট গঠন করতে গিয়ে, বিএনপি তার দীর্ঘদিনের পুরনো মিত্রদের খুব একটা আমলে দিচ্ছে না। ফলে ২০ দলীয় জোটের কার্যক্রম অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। শরিক দলগুলোর মতে, বিলীন হতে যাচ্ছে ২০ দলীয় জোট।

খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ নিয়ে ইতোমধ্যে ২০ দলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি তারা। ফলে জোটের ছোট ছোট শরিক দলগুলোর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে জোটের অন্যতম শরিক এলডিপি ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ফোরামের আলোচনা সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি গত ২২ সেপ্টেম্বর ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে দাওয়াত পেয়েও ২০ দলীয় জোটের ছয়টি নিবন্ধিত দল সেখানে যায়নি।

তবে সেখানে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ গেলেও বক্তৃতা না দিয়েই ফিরে আসেন।

জোটের অন্য শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের সমাবেশে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দিতে পারেননি তারা।

এর পর গত ২০ দিনে চক্রাকারে ড. কামাল হোসেন, বি. চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাসায় দফায় দফায় মিটিংয়ের মাধ্যমে ‘বৃহত্তর ঐক্য’ প্রক্রিয়ার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এসব বৈঠকে লিবারেল ডেমোক্রেটি পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণিসহ ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের ডাকা হয়নি।

এসব কারণে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য নিয়ে ড. অলি আহমদকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। সম্প্রতি এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, জনভিত্তিহীন রাজনৈতিক দল নিয়ে জাতীয় ঐক্য করে কোনো লাভ নেই। এ ব্যাপারে বিএনপিকে আরো কৌশলী হতে হবে।'

কয়েকদিন আগে একই স্থানে আয়োজিত আরেকটি অনুষ্ঠানে যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সমালোচনাও কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম।

সূত্র মতে, তার অনাগ্রহের কারণেই ২২ সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত ড. কামাল হোসেনের নাগরিক সমাবেশে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ যেতে চেয়েও যেতে পারেননি। তার অনুসারী বিএনপি জোটের অন্য শরিকরাও যায়নি ড. কামাল হোসেনের সমাবেশে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০ দলীয় জোটে থাকা ছোট ছোট দলগুলো এখনই তাদের ক্ষোভটাকে বাইরে আনতে চায় না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। সময় সুযোগ বুঝে তারা তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবেন।

এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য ২০ দলীয় জোটের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। জোটের শরিক বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

২০ দলীয় জোট সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার বৈঠকের কারণে পূর্ব নির্ধারিত ২০ দলীয় জোটের আজকের বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে, সর্বশেষ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech