‘খালেদা জিয়াকে নেওয়ার দু’ঘণ্টা পর ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে’

  

পিএনএস ডেস্ক : একজন কনিষ্ঠ চিকিৎসক যিনি কখনোই খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে অবগত ছিলেন না বা তাকে কখনও দেখেননি তাকে চাপ দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সিনিয়র চিকিৎসকরা। রোগী নিয়ে যাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে প্রফেসর সৈয়দ আতিকুল হকের কাছ থেকে ছাড়পত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (০৮ নভেম্বর) বিকেল তিনটার দিকে সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রফেসর ডা. মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশবাসী যখন রাজনৈতিক সংকট মোচনের আভাস পাচ্ছিলো, তখনই এ অপ্রত্যাশিত ঘটনা দেশে নতুন সংকট ‍ও দুর্যোগ সৃষ্টির বিষয়ে জনগণকে সন্দিহান করে তুলেছে। খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে স্থানান্তর যেমন আকস্মিক তেমনি পীড়াদায়ক ও হতাশাজনক। দেশবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। দেশ, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, জনস্বার্থ ও দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্রের আভাস পেয়ে।

তিনি বলেন, গত ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ-এ স্থানান্তরের আগে তিনি এতটাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন যে তার আইনজীবীদের আইনি লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ও প্রবল জনমতের কাছে নতি স্বীকার করে আদালত তাকে সুচিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। এতে দেশাবাসী স্বস্থিবোধ করে। তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা শুরু হয়। প্রথম দিকে দু’দিন তার চিকিৎসার বিষয়ে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জনগণকে অবহিত করলেও পরে তা থেকে বিরত থাকে। গেল এক মাসে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে দেশবাসী কর্তৃপক্ষের ভাষ্য থেকে বঞ্চিত। এ সময়ে দেশবাসী তাদের প্রিয় নেত্রীর স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে জানার আগ্রহী থাকলেও কর্তৃপক্ষ তার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটেছে এমন কোনো সুসংবাদ দেশাবাসীকে জানাতে পারেনি। এ অবস্থায় তার চিকিৎসা শেষ না করে কারাগারে স্থানান্তরের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন।

প্রফেসর ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থার কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত ব্যাতিরেকেই তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে তার যে কোনো ধরনের শারিরীক জটিলতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যার জন্য দেশবাসী উদ্বিগ্ন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএসএমএমইউ’র সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর ডা. আব্দুল মান্নান মিয়া, অর্থপেডিকস বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক প্রফেসর ডা. আব্দুস কুদ্দুস, ডা. একেম আমিনুল হক, প্রফেসর ডা. মোস্তাক রহিম প্রমুখ।

পিএনএস :জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech